Latest News

কোভিডে নয়, বরং বর্ষায় নন-কোভিড অসুখে বেশি আক্রান্ত বাচ্চারা

ডক্টর প্রভাসপ্রসূন গিরি

(শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ)

একে থার্ড ওয়েভের চোখরাঙানি, তার ওপর চলছে ঘোর বর্ষা। দেখা যাচ্ছে, এই সময় কোভিড ছাড়াও নানান রকম অসুখে পড়ছে বাচ্চারা। বর্ষা মানেই যেন অসুখ–বিসুখের রাজত্ব। কতটা নিরাপদ বাচ্চারা?‌

করোনার দ্বিতীয় ঢেউতেই গুঞ্জন উঠেছে, তৃতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবে শিশুরা। যদিও চিকিৎসকদের একটা বড় বলছেন, এই কথার কোনও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটা নিছকই একটি অনুমান।

তবু আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ দেখা গেছে, কোভিডের প্রথম তরঙ্গের থেকে দ্বিতীয় তরঙ্গে অপেক্ষাকৃত কমবয়সিরা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেরই দেহে তৈরি হয়েছে কোভিডের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা।

আবার ভ্যাকসিনেশনের ফলেও কিছুটা প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই দিক থেকে বাচ্চারা অনেকটাই পিছিয়ে, ওদের ভ্যাকসিনেশন এখনও ট্রায়াল পর্যায়ে। এই ভিত্তিতেই মনে করা হচ্ছে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাচ্চারাই টার্গেট।

তবে এই কঠিন সময়ে চিকিৎসকরা মনে করছেন, কোভিডই এখন একমাত্র প্রতিপক্ষ, যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। কিন্তু এই সিজন চেঞ্জের সময় কোভিড ছাড়াও আরও অন্যান্য অসুখ কাবু করছে বাচ্চাদের। ভাইরাল ফিভার, পেটের গোলমাল, আমাশা, আন্ত্রিক, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, এনকেফেলাইটিস, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো অসুখ নিয়ে অনেক বাচ্চার অভিভাবকরা আসছেন হাসপাতালে।

এই নন–কোভিড অসুখে আক্রান্ত বাচ্চাদের সংখ্যাটা কিন্তু নেহাত কম নয়। কিন্তু কোভিডের ভয়ে অনেকেই বাচ্চাকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। তাই কোভিড ছাড়াও অন্যান্য অসুখকে একেবারেই অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।

কী কী সতর্কতা?‌

  • ‌এই সময় শিশুদের কোভিডের চেয়ে নন–কোভিড কারণে জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই জ্বর হলেই সতর্ক হোন।
  • বর্ষায় জলদূষণ খুবই বেড়ে যায়। ফলে জলবাহিত রোগের সম্ভাবনাও বাড়ে, তাই চেষ্টা করুন, বাচ্চাকে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোর। জল পরিশ্রুত করার জন্য ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন।
  • বাচ্চাকে যাতে মশা না কামড়ায়, সে বিষয়ে দৃষ্টি দিন। মশারি ব্যবহার করুন।
  • ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন, শুকনো রাখুন। অপরিচ্ছন্ন আর্দ্র জায়াগায় পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। তাই সে বিষয়ে সজাগ হোন।
  • বাচ্চাদের যে সব রুটিন ভ্যাকসিনেশন বাকি রয়েছে, সেগুলো নিয়মমাফিক দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। করোনার কারণে অন্যান্য ভ্যাকসিনেশনে যাতে কোপ না পড়ে, সে খেয়াল রাখুন।

You might also like