Latest News

আপনার বাচ্চাকে গড়ে তুলুন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে, প্রথম থেকেই এই পাঁচটি নিয়ম মানুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাচ্চাদের প্রথম স্কুল হল তাদের বাড়ি, আর বাড়িতে বাবা -মা তাদের প্রথম শিক্ষক। যাঁদের দেখানো আলোর পথ ধরে শিশুরা বড় হয়ে ওঠে, জীবনের বড় রাস্তাতে হাঁটার দক্ষতা অর্জন করে। তাই বাড়ি থেকেই সঠিক শিক্ষা পাওয়া খুবই দরকার। ছোট থেকে বড় হওয়ার সময় বাচ্চাদের স্লেফ ডিসিপ্লিন বা কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলি মেনে চলা উচিত। এটা যে শুধুমাত্র বাচ্চাকে দায়িত্বশীল হতে সহায়তা করবে এমনটা নয়, সঠিক অনুশাসনে বড় হওয়া বাচ্চা হাসিখুশি ও সুখীও হবে ভবিষ্যতে। জীবনের দীর্ঘ পথে চলার সময় বাচ্চারা শিখবে সবকিছুকে গুরুত্ব দিতে, তাদের মধ্যে তৈরি হবে মূল্যবোধ। তাই বাবা-মায়ের কর্তব্য ছোটবেলা থেকেই ধৈর্য ধরে, সময় দিয়ে বাচ্চাদেরকে শেখানো আর বোঝানো। কোন কাজটা ঠিক আর কোন কাজটা ভুল সেটা বোঝাতে হবে বাচ্চাদের, অবশ্যই কড়া ভাষাতে নয়! শান্ত ভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে। বাচ্চারা ভুল করলে সেটা সংশোধন করে দেওয়ার দায়িত্বও বাবা-মায়ের ওপরেই বর্তায়। এখানে কয়েকটি বিষয়ের কথা বলা হল, যা বাচ্চাকে অনুশাসনে রাখার ক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করতে পারে। চাইলে একঝলক চোখ বোলাতেই পারেন এর ওপর থেকে।

১. একটি রুটিন সেট করতে হবে-

জীবনে ছোট থেকে বড় হওয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা খুবই দরকার। তাই একেবারে ছোটবেলা থেকেই নির্দিষ্ট রুটিনে বড় করুন আপনার সন্তানকে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত কখন পড়বে, কখন খেলবে, কখন খাবে সবটা যদি রুটিনমাফিক হয় তাহলে তা বাচ্চার পক্ষে খুবই ভাল হবে। সে যেমন সবকিছুর আনন্দও পাবে, তেমনই সময়ের মূল্য দিতেও শিখবে।

২. ভাল আচারণের প্রশংসা করতে হবে-

বাচ্চাদের ভাল কথা বললে তারা আরও বেশি করে সেই ভাল কাজটা করতে উৎসাহিত হয়। তাই তাদের সামনেই প্রশংসা করা দরকার, এটা বাচ্চাদের মনোবলকে বাড়াতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে আরও বেশি করে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

৩. নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকতে হবে-

বাচ্চা মাত্রই নানা আবদার করে, বায়না করে, কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকেই বুঝে নিতে হবে যে আপনি বাচ্চার কতটা আবদার মেটাবেন। বাচ্চাদের দিনের পর দিন বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতো থাকলে বাচ্চা বিগড়ে যেতেও পারে, তাই সবসময় বাচ্চাদের সব আবদার মেটানোটা ভাল কথা নয়! তার থেকে ভাল এমন ভাবে সেই কথাকে এড়িয়ে যান যাতে করে বাচ্চার ওপরে খারাপ প্রভাবও না পড়ে অথচ সে বুঝতে পারে যে জিনিসটা চেয়েছে, সেটা পাওয়ার উপযুক্ত সময় এখন নয়। এইভাবে ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টাও গড়ে উঠবে তাদের মধ্যে।

৪. আপনি কোনও কিছু বললে, তার পেছনে থাকা কারণটা বুঝিয়ে বলতে হবে-

আপনার অতিরিক্ত কড়া শাসন, বিধিনিষেধ বাচ্চাদের মনে ভয় ও বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। এটা যাতে না হয় তার জন্য আপনি কেন কঠোর হচ্ছেন তার পেছনে থাকা কারণটা বুঝিয়ে বলুন বাচ্চাকে। দেখবেন সহজে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

৫. খুব বকাঝকা করবেন না-

বাচ্চাকে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বড় করতে হলে তাদের খুব বেশি বকাঝকা, মারধর করবেন না। এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত শাসনে বাচ্চারা বেশি জেদি হয়ে যায়, তাই তাদেরকে বুঝিয়ে শাসন করতে হবে। তাদেরকে বলতে হবে আত্ম শৃঙ্খলা ও স্ব-অনুশাসন কাকে বলে? এগুলো কী ভাবে তাদের জীবনকে সুন্দর করে তুলবে! তাহলেই দেখবেন আপনার বাচ্চা ভবিষ্যতে একজন সুনাগরিক, দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে উঠবে।

You might also like