মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

কোকেন, হেরোইন, মারিজুয়ানা বা ইয়াবার থেকেও ক্ষতিকর মাদকের নাম জানেন? এটি থাকে প্রায় প্রতি ঘরেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে মাদকের নেশা সর্বনাশা!

ডিজিটাল বিশ্বের এক চতুর্থাংশ তরুণ প্রজন্মই মাদকাসক্ত। একাকীত্ব, হতাশা, প্রতিযোগিতার দৌড়, পারিবারিক কলহ, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব না সহজে আনন্দ লাভের আকাঙ্ক্ষা, মাদকে আসক্তির কারণ ভূরি ভূরি। মোদ্দা কথা, এই আসক্তি ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দিচ্ছে একটা গোটা সমাজব্যবস্থাকে। বুধবার ছিল আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস। নেশার ভয়াল রূপকে তুলে ধরার জন্য গ্লোবাল কমিশন ফর ড্রাগ পলিসি একটি রিপোর্ট বার করে। সেখানে দেখানো হয় কোন কোন মাদক সর্বনাশের শীর্ষে বসে রয়েছে। চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো ভয়ঙ্কর মাদক বলে যাদের গায়ে তকমা সেঁটে দেওয়া হয়ছে, তাদেরকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে অ্যালকোহল। মাদক মানে শুধু কোকেন, হেরোইন বা মারিজুয়ানা নয়, মাদক মানে মদও।

রাষ্ট্রপুঞ্জের ড্রাগ ক্লাসিফিকেশন সিস্টেমকে দুষে গ্লোবাল কমিশন জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ রকম সাইকোঅ্যাকটিভ বস্তুকে তাদের ক্ষতিকর প্রভাবের উপর ভিত্তি করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে অ্যালকোহলের নাম।এতদিন এই ভয়ঙ্কর মাদক তথা আসক্তিকে সাদরে গ্রহণ করে এসেছে এবং আসছেও বিশ্ববাসী।

গ্লোবাল কমিশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও রাসায়নিক হোক বা উদ্ভিজ্জ উপাদান (মাশরুম হতে পারে), যার কোনও ওষধি উপকারিতা নেই, অথচ স্নায়ুর উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, সেটিকেই মাদক বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। ব্রিটিশ ড্রাগ বিশেষজ্ঞরা এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি নেশার সামগ্রীকে খতরনাক ড্রাগ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। যেগুলি শুধু শরীরের ক্ষতি করে না, মানসিক, সমাজ, নীতি ও আদর্শেরও ক্ষতি করে। কোকেন, হেরোইন, এন ১০, ব্রাউন সুগার, কোরেক্স, মারিজুয়ানা, বারবিচুয়েট, ম্যানডেক্স, এল.এস.ডি., ইয়াবা—এই সমস্ত মাদক হিসেবে বহুল প্রচলিত। ভিয়েতনাম,থাইল্যাণ্ড, মায়ানমার শুধু নয়, বলিভিয়া, ইকুয়েডর, সুদান, নাইজেরিয়া, আমেরিকাতেও এইসব মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ড্রাগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুধু নয়, ড্রাগ গ্রহণের তীব্র ইচ্ছা থেকে জন্ম নেয় অপরাধ প্রবণতা। মাদকাসক্ত ব্যক্তি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই করতেও দ্বিধাবোধ করে না। মাদকের প্রভাব বিরাট আকার নিয়ে তছনছ করে দেয় সমাসব্যবস্থাকেও।

আর এদের মধ্যে প্রথমেই যে মাদক সহজলভ্য এবং যার ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি সেটি হলো অ্যালকোহল। বিদেশ শুধু নয়, বিষমদে আক্রান্ত হয়ে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানায় ফি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয়। গ্রাম-শহর-নগর সমগ্র বাংলা জুড়েই অবৈধ ভাটিখানার সংখ্যাও কম নয়। অনেকে মদ বেচে দুধ খান, আবার অনেকে দুধ বেচে মদ খান। সরকার অবশ্য আবগারি শুল্ক সব চেয়ে বেশি মদ বিক্রি থেকেই পেয়ে থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালি যখন ইংরেজের অনুকরণে বিদেশি মদ্যপানে ঘোর আসক্ত হচ্ছিল, তখন বাবুদের উৎশৃঙ্খল জীবনের নানা ছবি সাহিত্যেও ফুটে উঠতে শুরু করেছিল। ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা ছাড়াও কালীপ্রসন্ন সিংহের রচনাতেও এসেছে— ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত রাখার কি উপায়’। সুতরাং মদ যে সবচেয়ে বড় এবং ক্ষতিকর মাদক সেটা বহু আগেই প্রমাণিত। হালে কোরেক্স, মারিজুয়ানা, বারবিচুয়েটের পাল্লায় পড়ে মানুষ সেটা ভুলে যেতে বসেছিল মাত্র।

Comments are closed.