মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

ঝলসানো গরমেও ভালো থেকো ত্বক…রূপের অস্ত্রে শান দিতে রইল উইকেন্ড-টিপস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগুন ঝলসানো গরমে ত্বক নিয়ে কি আপনি নাজেহাল? চড়া রোদ আর ততোধিক বেশি আর্দ্রতায় ত্বক-চুলের এক্কেবারে দফারফা। তুলতুলে ত্বকে আঙুল চালালেই চিমটি দিয়ে উঠছে তেলময়লা, সেই সঙ্গে র‌্যাশের জ্বালা। রোদের তেজে মুখে হাতে কালো ছোপ। গরমে সমস্যা হল, ত্বক শুকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ময়শ্চারাইজারও লাগানো যাচ্ছে না আর্দ্রতার কারণে। ফলে ত্বকে আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও রোজকার যাদের বাইরে বার হতে হয়, তারা বিউটি রুটিন নিয়ে ক্লান্ত। ফি দিন পার্লারে ছুটে মাঞ্জা দেওয়াও সম্ভব নয়। তাই সপ্তাহান্তে সামান্য সময় বার করে বাড়িতেই চলুক জোরদার বিউটি ট্রিটমেন্ট। এতে পার্লারের খরচ আর সময়ও বাঁচবে, পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় আপনার রূপচর্চাও থাকবে সুরক্ষিত।

চলুন দেখেনি চুল থেকে পায়ের নখ অবধি তরতাজা আর ঝকঝকে রাখতে কী কী করণীয়।

চুল তার কবেকার..

রাস্তার ধুলো-ধোঁয়া, স্প্লিট-এন্ড নিয়ে সমস্যা এড়াতে বাড়িতে রোজ সময় করে চুলের যন্ত নিন। যেমন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে নারকেল তেল উষ্ণ গরম করে ভালো করে চুলে ম্যাসাজ করুন। ৪০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে নিতে পারেন। ডিমের কুসুম আর দইয়ের মিশ্রণ চুলের জন্য খুবই ভালো কন্ডিশনার। প্রতিদিন না হলেও উইকেন্ডে একবার করে করতেই পারেন। এতে খুস্কিও দূরে থাকবে আর চুলও হবে তরতাজা। শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দেখেশুনে বাছুন। কেরাটিন সেফ শ্যাম্পু, কন্ডিশনার কিনতে পারেন, সেটাও চুলের জন্য ভালো।

সজল ত্বকের গোপন কথা

দাবদাহের মধ্যেও সুস্থ, তরতাজা থাকতে সকাল-বিকেল স্নানের বিকল্প নেই। ত্বক সজীব দেখাতে বারবার জলের ঝাপটা দিন। তবে গরমে ত্বককে বাঁচাতে সবচেয়ে জরুরি যা, সেটা হল ‌ভিটামিন সি। এটি এমন একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা মৃত কোষ বের করে ত্বককে সুস্থ রাখে। তাই ভিটামিন সি সিরাম সবরকম ত্বকের জন্যই খুব কার্যকরী। তার জন্য বাড়িতেই ১ চা় চামচ গোলাপ জলের সঙ্গে ১/৪ চামচ ভিটামিন সি পাউডার, ১ চা চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিন মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এর সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মাখলে ত্বক পরিষ্কার ও ঝকঝকে দেখায়। তা ছাড়া, ত্বক শুষ্ক হোক বা তৈলাক্ত, গরমের জন্য ফোমি ক্লেনজ়ার ব্যবহার করুন। এই ধরনের ফেস ওয়াশে ত্বকের নিজস্ব আর্দ্রতা বজায় থাকে।

শ্রী ফিরুক পায়ের

গরম হোক বা শীত, সুন্দর পা সব রমণীরই স্বপ্ন। পায়ের শ্রী ফেরাতে পার্লারে ছোটার দরকার নেই। বাড়িতেই চলতে পারে এক্কেবারে পার্লার স্টাইলে ফুট-স্পা। প্রথমেই পায়ের নখ কেটে নিন। এর পর তা ফাইলার দিয়ে সুন্দর করে ফাইল করুন। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটা লুক আসবে। পায়ে স্ক্রাবিং করাটা খুবই জরুরি। গরম জলে হিমালয়ান পিঙ্ক সল্টের মতো ডিটক্সিফায়ার ফেলে দিন। জলে মিশে গেলে তাতে মিনিট দশেক পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে পেশী রিল্যাক্সড হবে। ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট, থাইম, টি থ্রি অয়েল বা ইউক্যালিপ্টাসের মতো এসেনশিয়াল অয়েল জলে মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন, এতে পা নরম থাকবে এবং সুন্দর দেখাবে।

 খুশি থাক আপনার হাতও..

মসৃণ ও সুন্দর দু’হাতের স্বপ্ন সব মেয়েরাই দেখেন। তার জন্য সঠিক ওয়াক্সিং এবং নিয়মিত ময়শ্চারাইজারের খুব প্রয়োজন। ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে হবে সবসময়। ত্বকে রুক্ষতা চলে এলে হাতের চামড়া কুঁচকে যাবে, তাতে সহজেই বয়সের ছাপ পড়বে। তাই অবশ্যই রোজ স্নানের পরে হাতে ভাল করে ময়শ্চারাইজার মাখুন। যতবারই হাত ধোবেন সাবান দিয়ে, চেষ্টা করবেন ময়শ্চারাইজার মাখতে। ‌রোদে বেরনোর আগে সানস্ক্রিন মাস্ট। ঘরের কাজ যেমন বাসন মাজা, কাপড় কাচা— এ সব করতে গিয়ে হাতে বেশি ক্ষার লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে হাতে গ্লাভস পরে কাজ করুন। হাত সুন্দর রাখতে নিয়ম করে ম্যানিকিওর করুন। ভাল করে নখ কাটুন। আর মানানসই নেলপালিশ পরুন।

দূষণের প্রবল প্রতাপে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। এই মোলায়েম যত্নে তা ফিরে পাবেন। রাতেই ত্বক সারা দিনে হারিয়ে ফেলা অক্সিজেন আবার সংগ্রহ করে। সময় পেলে ফলের প্যাক তৈরি করে ত্বকের যত্ন নিন। ফলের অ্যাসিড এপিডারমিসের মরা কোষের আস্তরণ উঠিয়ে দেয়। সজীব ত্বকটি ফেরত এলেই তাকে ‘ময়শ্চারাইজড’ করে রক্ষা করুন। মধু, গোলাপজল মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন। ‘স্কিন টনিক’-এর মতো ব্যবহার করবেন।

Comments are closed.