নিরিবিলি ঝাড়গ্রাম

এখনও স্বাস্থ্যপ্রদ স্থান হিসাবে তকমাটা আছে। এখানকার জলের এমনই গুণ যে, যখন-তখন হজম হয়ে যাওয়াতে খাওয়াটা একটু বেশিই হয়ে যায় শহুরে মানুষদের। আর তাই এখনও কেউ কেউ চলে আসেন ভাঙা স্বাস্থ্য ঠিক করতে।

৩৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রত্না ভট্টাচার্য্য
শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য

এখন ঘরের বাইরে বেরোতেও মানা। বেড়াতে যাওয়ার চ্যাপ্টার আপাতত ক্লোজ। লকডাউন চলছে। বাসা-বন্দি বাঙালির প্রাণপাখি ছটফট করছে। শুয়ে, বসে, গার্হস্থ্যকর্ম সেরেও সময় যেন কাটছে না। তবুও ‘পায়ে পায়ে বাংলা’ যথারীতি প্রকাশিত হল। আপাতত ভ্রমণকাহিনি পাঠেই হোক আপামর বাঙালির মানসভ্রমণ।

বড় বড় শাল গাছের মধ্যে দিয়ে এসে ঝমঝম করে ট্রেনটা দাঁড়ায়। স্টেশনে নামা থেকেই ভাল লাগা শুরু। মূল বাসরাস্তা ছেড়ে একটু ডাইনে-বাঁয়ে গেলেই এখনও আদিম বড় বড় পুরনো শালগাছগুলো জানান দেয় প্রাচীন দিনের কথা। এখনও ঝাড়গ্রাম শহরের আশপাশে পায়চারি করে ভ্রমণের কিছুটা সুবিধা আছে। আছে পাখির ডাক, মাথা উঁচু করা শাল গাছের আকাশ ছুঁতে যাওয়া স্পর্ধা, আভরণ হিসেবে আছে বড় বড় মৌমাছির চাক।

এখনও স্বাস্থ্যপ্রদ স্থান হিসাবে তকমাটা আছে। এখানকার জলের এমনই গুণ যে, যখন-তখন হজম হয়ে যাওয়াতে খাওয়াটা একটু বেশিই হয়ে যায় শহুরে মানুষদের। আর তাই এখনও কেউ কেউ চলে আসেন ভাঙা স্বাস্থ্য ঠিক করতে। আর বর্তমানে তো অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা এই অঞ্চলকে ভালবেসে বিভিন্ন দিকে ঘুরছেন। নিজের খুশিমতো ঘোরার জন্য সাইকেলও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

রেললাইন পাতার আগে ঝাড়গ্রাম ছিল জঙ্গলের এলাকা। এই অঞ্চল ছিল পাইক ও চুয়াড় বিদ্রোহের পীঠস্থান। এখানে মল্লভূম রাজ্যের বহু রাজবংশধরের বাস। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম একটি শহর। থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের সুবন্দোবস্ত রয়েছে এখানে। এই শহরে ঘুরে দেখার অনেক কিছুই রয়েছে।

সাবিত্রী মন্দির

প্রকৃতি ছাড়াও ঝাড়গ্রাম শহরে দেখে নেওয়ার মধ্যে অন্যতম হল ‘সাবিত্রী দেবীর মন্দির’। এটি একটি প্রাচীন কীর্তি। চিরাচরিত দেবীর পরিবর্তে মন্দিরের মধ্যে রয়েছে সিঁদুরে রাঙানো একটি বড় খড়্গ। সেটি রাখা আছে একটি পেটিকার উপর। জনশ্রুতি, পেটিকার মধ্যে সাবিত্রী দেবীর একগুচ্ছ কেশ রাখা আছে। এই দেবী নাকি আদতে ছিলেন মানবী। বাবা-মায়ের সঙ্গে পুরী যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাকে লুণ্ঠন করে এবং তিনি তখন থেকে দস্যু সর্দারের কাছেই লালিত-পালিত হতে থাকেন। তিনি নিজেকে সবিতার দাসী সাবিত্রী বলে পরিচয় দিতেন। বড় হলে তিনি অপরূপ লাবণ্যময়ী হয়ে ওঠেন। তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে দস্যু সর্দারের পুত্র তাঁকে বলপূর্বক আয়ত্ত করবার চেষ্টা করে। সে যাত্রায় দৈব প্রেরিত খড়্গের সাহায্যে তিনি রক্ষা পান। এরপর ঝাড়গ্রামের রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দস্যুগণের হাত থেকে ঝাড়গ্রাম অধিকার করে নেন। এই রাজাও রূপবতী সাবিত্রীকে বিবাহ করতে চাইলে বিবাহের দিন অপরাহ্ণে তিনি সমস্ত গহনা খুলে রেখে একাকিনী অদূরবর্তী শালবনের দিকে এগিয়ে যান। এই সংবাদ পাওয়ামাত্র রাজা তাঁর পিছু নেন। শালবন পার হয়ে এক বালুকা প্রান্তরে এসে পৌঁছলে রাজা সাবিত্রীর কেশরাশি ধরে ফেললেন। অকস্মাৎ চারিদিক থেকে প্রচুর বালুকারাশি এসে সাবিত্রী দেবীকে ঢেকে দেয়। রাজার হাতে রয়ে যায় কেশগুচ্ছ আর দেবী সাবিত্রী চোরাবালিতে নিমজ্জিত হয়ে যান। অতঃপর স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাজা সাবিত্রী দেবীর কেশগুচ্ছ ও খড়্গ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপূজার ব্যবস্থা করেন।

 

পশ্চিমমুখী মন্দিরটি মাকড়া পাথরের। চতুর্দিকে পাঁচ খিলান সম্বলিত প্রদক্ষিণ পথ। দালানমন্দিরের মাঝখানে স্থাপিত ক্রমশ উপরের দিকে সরু গোলাকার একচূড়াযুক্ত দেউল। মন্দিরের দেবী প্রাচীন হলেও মন্দিরটি খুব একটা প্রাচীন নয়, বয়স একশো বছরের কিছুটা বেশি। মন্দিরের মধ্যে রয়েছে পাথরের বেশ কয়েকটি প্রাচীন মূর্তি। এগুলি কীভাবে এখানে এল, তা কেউ বলতে পারেন না। মন্দিরের পিছনে রয়েছে সুন্দর এক দিঘি। ঘাটটি পাথর দিয়ে বাঁধানো।
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি

সাবিত্রী মন্দির থেকে একটু এগিয়ে মূলরাস্তা ছেড়ে বাঁদিকে মোরাম রাস্তা ধরে এগোলেই বেশ বড় সুন্দর প্রবেশতোরণ বা সিংহদুয়ার। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই ফুলের বাগিচা। সামনেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তিনগম্বুজবিশিষ্ট সুদৃশ্য রাজপ্রাসাদ। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে পরিখাবেষ্টিত পুরাতন রাজবাড়িকে ঘিরে প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর মোগল শিল্পরীতিতে বর্তমান রাজপ্রাসাদ তৈরি করান এই রাজবংশের সতেরোতম রাজা নরসিংহ মল্লদেব।

এই রাজবংশের কথা জানতে হলে একটু পিছিয়ে যেতে হবে। আনুমানিক ১৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট আকবরের আদেশে রাজস্থান থেকে সর্বেশ্বর সিং চৌহান বাংলা জয় করতে আসেন। সেই সময় মাল শাসকরা যে গভীর অরণ্যে বাস করতেন এবং শাসনকার্য পরিচালনা করতেন তা ‘ঝাড়খণ্ড’ নামে পরিচিত ছিল। সর্বেশ্বর সৈন্যবাহিনী ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা সেই অঞ্চলে আক্রমণ করেন ও যুদ্ধে মাল রাজাকে পরাজিত করে মল্লদেব উপাধি ধারণ করেন। রাজা সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করে ঝাড়গ্রামে তাঁর রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ৪০০ বছর ধরে ১৮জন রাজা এই রাজত্ব পরিচালনা করেছেন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে বিস্তৃত তৃণাবৃত জমি ও বাগান সহযোগে ঝাড়গ্রাম রাজপ্রাসাদ ইউরোপীয় ও মোগল স্থাপত্যশিল্পের সংমিশ্রণে নির্মিত হয়।
বর্তমানে নীচের তলায় সরকারি অফিস আর আউট হাউসে ‘ঝাড়গ্রাম প্যালেস ট্যুরিস্ট লজ’, যেটি পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম দ্বারা পরিচালিত। বাইরে থেকে দেখতে হয় রাজবাড়িকে। পুরনো এলাকা বা অন্দরমহল দেখতে রাজবাড়ির অনুমতি লাগে। রাজবাড়ির মধ্যে দর্শন করা যায় কুলদেবতা রাধারমণকে। একটি পঞ্চরত্ন মন্দিরে তিনি বিরাজ করছেন। শিবমন্দিরের আকৃতিও শিবলিঙ্গের মতো। মনে হবে বিশাল শিবলিঙ্গ মাটি ফুঁড়ে উঠেছে। বর্তমানে রাজবাড়ির বাইরে চৌহদ্দিতে পর্যটন দপ্তর অনেক কটেজ বানিয়েছে। এগুলিতে থাকার ব্যবস্থা আছে।

ঝাড়গ্রাম মিনি জু

স্টেশন থেকে পূর্ব দিকে ২ কিলোমিটার দূরে মিনি জু। জেলের পাশ দিয়ে কদমকানন। রেলগেট পেরিয়ে প্রাচীন শালের ছায়ায় ছায়ায় পুরসভার অতিথিনিবাস ‘বনানী’ ছাড়িয়ে একটি ছোট শাল জঙ্গল। বড় সুন্দর রাস্তাটি। শাল জঙ্গল পেরলেই পুরনো ডিয়ার পার্ক যা বর্তমানে ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানা নামে পরিচিত। অতীতে আহত ও অসুস্থ বন্যপ্রাণীদের পুনর্বাসনের জন্য বনবিভাগ এটি তৈরি করেছিল। পরে মিনি চিড়িয়াখানায় পরিণত হয়েছে ১৯৮৩ সালে। গাছগুলির মধ্যে সাজানো-গোছানো এক আরণ্যক পরিবেশে চিড়িয়াখানাটি মনোরম। মোট আয়তন ৩৪.৫ হেক্টর। ভেতরে একটি লেকও আছে। এখানে হরিণ, ভালুক, শেয়াল, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, ময়ূর, সাপ, হনুমান, বনবিড়াল, কচ্ছপ, হায়না প্রভৃতি রয়েছে। হাতিও ছিল, সদ্য স্থানান্তরিত হয়েছে। শীতকালে নানান ফুলে রঙিন হয়ে থাকে।
জায়গাটি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। গরমে ১ঘণ্টা বেশি খোলা থাকে। ৩ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ৫ টাকা, তার ঊর্ধ্বে ১০ টাকা করে টিকিট। বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।

লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি সংগ্রহশালা

পটচিত্র, ডোকরা, টেরাকোটা, পাথরের মূর্তি প্রভৃতি জিনিসের পাশাপাশি মুখোশ থেকে বাদ্যযন্ত্র, অস্ত্র থেকে পোশাক, গ্রামীণ জীবনের নানা ব্যবহারিক বস্তসামগ্রী এই সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে। উপজাতি সংস্কৃতি কেন্দ্রের অংশ হিসাবে ১৯৭৯ সালে ঝাড়গ্রাম শহরে তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালনায় এই সংগ্রহশালার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আরম্ভের সময় আদিবাসীদের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, গহনা, পোশাক, অস্ত্র প্রভৃতি সংগৃহীত হয়েছিল। আদিবাসী সংস্কৃতিচর্চার জন্য একটি গ্রন্থাগারও গড়ে উঠেছিল। পরে লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি সংগ্রহশালা। সরকারি কাজের দিন ১১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

আর্ট অ্যাকাডেমি

ঝাড়গ্রামের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান হল ঝাড়গ্রাম আর্ট অ্যাকাডেমি। শহরে সংস্থার কার্যালয়ের দোতলায় তাদের গ্যালারিটি অন্যতম আকর্ষণ। প্রদর্শশালার রামকিঙ্কর কক্ষে রামকিঙ্কর বেইজের ৩০টি ভাস্কর্য এবং ১৫০টি স্কেচ ও পেইন্টিং সাজানো রয়েছে। রামকিঙ্করকে নিয়ে চিত্রায়িত জীবনীও প্রশংসার দাবি রাখে। মাঝেমাঝেই খুদেদের নিয়ে ও বড়দের নিয়ে এরা নানান ধরনের ওয়ার্কশপের আয়োজন করে।

ইকো-ট্যুরিজম স্পট

ঝাড়গ্রাম থেকে লোধাশুলির দিকে মূলরাস্তা ধরে কিছুটা এগোলে বসতি ছাড়িয়ে জঙ্গলের শুরু। স্থানীয়রা একে বাঁদরভুলার জঙ্গল বলেন। এখানেই পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগম (WBFDC) ৬টি কটেজের ইকো-ট্যুরিজম স্পট তৈরি করেছে। আরণ্যক পরিবেশে কটেজগুলি বেশ সুন্দর। বড় বড় শালের জঙ্গলের মধ্যে কৃত্রিম হাতি তৈরি করা আছে, যা বিভ্রান্তি ঘটায়। এখানে ধামসা-মাদলের সঙ্গে আদিবাসীদের নৃত্যরত মডেলগুলি ভারি সুন্দর। পাশেই একটি মুক্তমঞ্চ। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি সংগ্রহশালাটি এখানে স্থানান্তরিত হবে। কটেজগুলির বর্তমান ভাড়া ১৩০০ টাকা ও ১৭০০ টাকা। থাকার জন্য যোগাযোগ করতে হবে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ অথবা পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের কলকাতা অফিসে।

ভেষজ উদ্যান

ইকো-ট্যুরিজমের সামনের যে রাস্তা লোধাশুলি যাচ্ছে সেই রাস্তা ধরে খানিকটা এগিয়ে একটি ক্যানাল পেরোলেই ‘ভেষজ উদ্যানে যাওয়ার পথ’ লেখা বোর্ড চোখে পড়ে। ঝাড়গ্রাম ভ্রমণে ভেষজ উদ্যান অবশ্যই দর্শন করা উচিত দু’টি কারণে। প্রথমত, আরণ্যক পরিবেশ আর দ্বিতীয়ত, বিপুল সংখ্যক গাছের সান্নিধ্য। ২০০১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের বনবিভাগের সাউথ ডিভিশন, ঝাড়গ্রাম রিসার্চ রেঞ্জ সিলভি কালচার একসঙ্গে কামরাবান্ধির আমলাচটি গ্রামে ২ হেক্টর জমিতে এই ভেষজ উদ্যান তৈরি করেছে। এখানে সংরক্ষিত ঔষধি প্রজাতির সংখ্যা ৮০। প্রতিটি গাছের গায়ে গাছের নাম, বৈজ্ঞানিক নাম ও তার ব্যবহার সম্বন্ধে লেখা আছে। ভেষজ উদ্যানের গাছ ও তার উপকারিতা সম্বন্ধে প্রকাশিত বইও এখানে পাওয়া যায়।

মেলবাঁধ ও কেরেন্দার বাঁধ

রাধানগর গ্রামের দ্রষ্টব্য হল মেলবাঁধ ও কেরেন্দার বাঁধ নামের দু’টি বৃহৎ জলাশয়। ঝাড়গ্রাম থেকে অটোতে এই গ্রামে পৌঁছতে হয়। জলাশয়গুলি বেশ নয়নাভিরাম। এগুলি খনন করেছিলেন রাজা বিক্রমজিৎ মল্ল উগালদেব বাহাদুর। দিঘির পাড়ে বসে আনমনে অলস মায়াজাল বুনতে বুনতে হারিয়ে যাওয়া যায় নিজের মধ্যে। দিঘির অন্তহীন কালোতে খেলা করে নিঃশব্দ জলছবি।

রবীন্দ্র পার্ক

ঝাড়গ্রাম পুরসভা পরিচালিত রবীন্দ্র পার্ক ঝাড়গ্রাম শহরের গর্ব। প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় বড় শালগাছের নীচে রবীন্দ্রনাথের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি রয়েছে। ২০০৮ সালে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য এটির উদ্বোধন করেন। পার্কে পায়চারি করে বেশ সময় কেটে যায়। এখানে অনেক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে, যার মধ্যে ঝাড়গ্রাম বইমেলা অন্যতম।
এর আশপাশে পায়ে পায়ে কতগুলি জায়গা হেঁটে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভাল লাগবে। ঝাড়গ্রাম মহকুমা দপ্তরের অফিসে রয়ে গেছে প্রাচীনত্বের ছোঁয়া। এর পাশ দিয়ে এগোলে ঝাড়গ্রাম পুরসভা পরিচালিত বয়স্ক নাগরিকদের অবসরযাপনের স্থান বৈকালিক পার্ক। একটু দূরে আরণ্যক পরিবেশের মধ্যে উঁচু প্রাচীরবেষ্টিত ঝাড়গ্রাম জেলখানা। পৌর বাজার ও জুবিলি বাজারে ঘুরে বেড়াতে বেশ লাগবে। আদিবাসীদের নিজস্ব বাজার হল জুবিলি মার্কেট। এখানে আদিবাসীদের তৈরি পাথরের জিনিসপত্র, ঝাড়ু, ঝাঁটা, দড়ি ও তাদের ব্যবহারের পাঞ্চি ধুতি ও পাঞ্চি শাড়ির অনেক দোকান দেখতে বেশ ভাল লাগবে।

ঝাড়গ্রামে রাত্রিবাসের ঠিকানা হল-– অরণ্যসুন্দরী গেস্ট হাউস, সাব জেলের কাছে, দূরভাষ: ০৩২২১ ২৫৬৮৭২, চলভাষ: ৯৫৪৭৬৬৮৯৬৬। ডুলুং গেস্ট হাউস, সাব জেলের কাছে, চলভাষ: ৯৯৩৩৫৭৭৩৯১।

কাছেপিঠে আরও নানা জায়গায় বেরিয়ে পড়তে ক্লিক করুন নীচের লাইনে।

পায়ে পায়ে বাংলা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More