বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

দেশের ১৭ আইকনিক ট্যুরিস্ট স্পট! চিনে নিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার লোকসভায় বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, ভারতে গড়ে তোলা হবে ১৭টি আইকনিক সাইট। বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই ১৭টি জায়গাকে। ভারতে আরও বেশি পরিমাণ পর্যটক যেন বাইরের দেশ থেকে আসেন, সেই জন্যই পরিকল্পনা। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন এই ১৭টি টুরিস্ট স্পটকে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। থাকবে অত্যাধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা। ঢেলে সাজানো হবে এই টুরিস্ট স্পটকে। যাতে সকলের কাছে এইসব জায়গায় আসার একটা আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়।

এক ঝলকে জেনে নিন এই তালিকায় রয়েছে ভারতের কোন ১৭টি জায়গা- 

১। তাজমহল- বিশ্বের সাত আশ্চর্যের মধ্যে একটি হলো এই তাজমহল। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মুমতাজের জন্য যমুনার তীরে বানিয়েছিলেন এই আলিশান সৌধ। দেশ-বিদেশের প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে এই জায়গা প্রেম নিবেদন করার অন্যতম ডেস্টিনেশন। এমনকী অনেকেই হানিমুন ডেস্টিনেশনেও তাজমহলকে রাখেন। হাতে গোলাপ নিয়ে প্রেমিককে জড়িয়ে ধরে প্রেমিকার ছবি, খুঁজলে ভারতের প্রায় সব বাড়িতেই পাওয়া যাবে। এ বার এই তাজমহলকেই ঢেলে সাজাবে কেন্দ্রীয় সরকার।

২। ফতেপুর সিক্রি- দিল্লি ঘুরতে গিয়েছেন, আর ফতেপুর সিক্রি যাননি এমন পর্যটকের সংখ্যা নেহাতই হাতে গোনা। ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি লাল বেলেপাথরের সৌধের একটা আলাদা আকর্ষণ রয়েছে বিদেশি পর্যটকদের কাছেও। তাই আগ্রার কাছে এই মুঘল স্থাপত্যকেও এ বার সাজাবে সরকার।

৩। অজন্তা- গুহাচিত্রের জন্য মহারাষ্ট্রের অজন্তা বরাবরই বিখ্যাত। তাই আইকনিক টুরিস্ট স্পটের তালিকায় রয়েছে এই জায়গাও।

৪। ইলোরা- সরকার ঢেলে সাজাবে অজন্তাকে, আর ইলোরা সাজবে না তাই কখনও হয়। মহারাষ্ট্রের এই টুরিস্ট ডেস্টিনেশনও রয়েছে এই তালিকায়।

৫। হুমায়ুন’স টোম্ব (Humayun’s Tomb)- মুঘল স্থাপত্যের উপর বিশেষ নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই দিল্লি-আগ্রার আশেপাশের প্রায় সব স্মৃতি-সৌধই সাজানো হবে। সেই তালিকায় রয়েছে Humayun’s Tomb-ও।

৬। লাল কেল্লা- দিল্লির অন্যতম আকর্ষণ এই লাল কেল্লা। বয়স প্রায় ২০০ বছর। পর্যটকরা বলেন, কেল্লার প্রতিটি ইটে পাওয়া যায় ইতিহাসের গন্ধ। সর্বত্র ছোঁয়া রয়েছে মুঘল কারিগরীর। তাই এ জায়গাকে তো সাজাতেই হবে।

৭। কুতুব মিনার- ৭৩ মিটার লম্বা কুতুব মিনারকে ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। এ বার সংস্কার করবে কেন্দ্রীয় সরকার।

৮। কোলভা বিচ (গোয়া)- সমুদ্র যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ গোয়া। প্রতি বছর একটা বড় সংখ্যক বিদেশিও আসেন গোয়াতে। পর্যটনের উপরেই নির্ভরশীল গোয়ার অর্থনীতি। তাই গোয়ার কোলভা বিচকেও আইকনিক সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

৯। আমের ফোর্ট- দুর্গের শহর রাজস্থানকে ভুলে গেলে চলবেই না। বছর ভর দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে পশ্চিমের এই রাজ্যে। সেখানকার আমের ফোর্ট-ও রয়েছে এই তালিকায়।

১০। সোমনাথ- গুজরাটের শিবের মন্দির সোমনাথ ভারতের ধর্ম স্থানের মধ্যে অন্যতম। এখানকার কারুকাজ, ভাস্কর্য সবই চোখ টানে দর্শকদের।

১১। ধোলাভিরা- গুজরাটের পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে কচ্ছ প্রদেশ। আর সেখানেই রয়েছে ধোলাভিরা। গুজরাটের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। পর্যটকের আনাগোনাও এখানে যথেষ্টই।

১২। খাজুরাহো- মধ্যপ্রদেশের এই জায়গাকে বলা হয় প্রেমের আদর্শ স্থান। এখানকার ভাস্কর্য, স্থাপত্য—–সবেতেই রয়েছে প্রেমের এক অদ্ভুত নিদর্শন। নববিবাহিতদের পছন্দের তালিকায় থাকে খাজুরাহোর মন্দির। হোক না ধর্মীয় স্থান, প্রেম যে রয়েছে চারপাশে।

১৩। হাম্পি- কর্ণাটকের অন্যতম প্রাচীন জায়গা এই হাম্পি। তুঙ্গভদ্রার তীরে অবস্থিত এই জায়গায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই পর্যটকদের টানে।

১৪। মহাবলিপুরম- তামিলনাড়ুর অন্যতম আকর্ষণ মহাবলিপুরম। পল্লব বংশের স্থাপত্যের পাশাপাশি এখানকার মন্দির এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সৌধের জন্য এই জায়গা বিখ্যাত।

১৫। কাজিরাঙা- অসমের মূল আকর্ষণ কাজিরাঙা ফরেস্ট জঙ্গল প্রেমীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। প্রতি বছর এখানে ভিড় জমান দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।

১৬। কুমারাকম- ভগবানের নিজের জায়গা বলা হয় দক্ষিণের রাজ্য কেরলকে। সেখানকার ভেম্বনাদ লেক এবং ব্যাকওয়াটারসের মাঝে রয়েছে এই কুমারাকম। সেখানে রয়েছে একটি পক্ষী সংগ্রহশালা। এ ছাড়াও কুমারাকমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিঃসন্দেহে আপনার চোখ টানবে।

১৭। মহাবোধি- বোধ-গয়াতে রয়েছে বৌদ্ধদের অন্যতম প্রাচীন মন্দির মহাবোধি। এই জায়গাকেও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। এখানেই রয়েছে সেই বোধি গাছ যার তলায় বসে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন গৌতম বুদ্ধ।

Comments are closed.