রবিবার, নভেম্বর ১৭

হাতে সময় অল্প, কিন্তু বর্ষায় ঘোরা চাই-ই চাই, জেনে নিন মনসুন ডেস্টিনেশনের সাত-সতেরো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাবুন পাহাড়ের কোলে একটা ছোট্ট শহরে বসে রয়েছে আপনি। হোটেলের জালনা দিয়ে স্পষ্ট বুঝতে পারছেন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে কোনদিক থেকে বৃষ্টিটা আসছে। কিংবা সমুদ্রের বিচে বসে নিজের প্রিয়জনের সঙ্গে উপভোগ করছেন মরশুমের প্রথম বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা। চোখে-মুখে ঝাপটা দিচ্ছে বৃষ্টিভেজা শীতল হাওয়া। পারফেক্ট রোম্যান্টিক মুড!

কিন্তু পড়তে গিয়ে নিশ্চয় বারবার মনে হচ্ছে এ সব তো সিনেমায় হয়। বাস্তবে বৃষ্টিতে আবার কোথাও ঘুরতে যাওয়া যায় নাকি! বরং পুরো মজা-আনন্দ মাটি হওয়ার জন্য ওই একপশলা বৃষ্টিই যথেষ্ট। এমনটা যাঁরা ভাবেন, তাঁর ব্যাকপ্যাক বেঁধে ফেলুন। আর কী, দেরিতে হলেও বর্ষা তো এসেই গিয়েছে দেশে। এ বার শুরু বেরিয়ে পড়ার পালা। তারপর হবে জমাটি ট্রিপ।

বর্ষা এসে গেল মানেই আর কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাবে না, এ সব ভাবনা কিন্তু এখন বাতিলের খাতায়। বরং এই ভারতেই এমন কিছু জায়গা আছে যেগুলো ‘মনসুন ট্যুরিজম’-এর জন্যই বিখ্যাত। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভরা বর্ষার মরশুমেই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা হয় বেশি। জমিয়ে বৃষ্টি উপভোগ করা যায় এইসব জায়গায়। অনেকে ভাবেন বর্ষার মরশুমে পাহাড় বড্ড খতরনাক। তবে এই ‘মনসুন ডেস্টিনেশন’-এর মধ্যে কিন্তু রয়েছে পাহাড়ে ঘেরা মন ছুঁয়ে যাওয়া জায়গা। তালিকা থেকে বাদ যায়নি সমুদ্রও।

এক ঝলকে দেখে নিন মনসুন ডেস্টিনেশনের সাত-সতেরো: 

১। কুর্গ- দক্ষিণের পাহাড় ঘেরা এই ছোট্ট শহরকে বলে ‘ভারতের স্কটল্যান্ড’। চারদিকে রয়েছে অসংখ্য কফি বাগান। সেই সঙ্গে সবুজ ঘেরা পেল্লাই সব পাহাড়। চাইলে ট্রেক করতে পারেন এখানকার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় Tadiandamol-এ। থাকার জন্য রয়েছে দারুণ সব হোম স্টে। এক লহমায় মনে হতেই পারে ইউরোপের কোন ছোট গ্রামে বেড়াতে এসেছেন আপনি। বেঙ্গালুরু থেকে বাই রোড দূরত্ব মাত্র ২৭০ কিলোমিটার। 

 

২। ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস (উত্তরাখণ্ড)- প্রায় ৪০০ রকমেরও বেশি ফুলের সমাহার পাবেন এই ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারসে। পশ্চিম ও পূর্ব হিমালয়ের মাঝে উত্তরাখণ্ডের এই অঞ্চল মনসুন ট্রিপের জন্য আদর্শ। কারণ বর্ষার সময়েই এই উপত্যকার বেশিরভাগ ফুল ফোটে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু নজরে আসে নানা রংয়ের খেলা। মনে হয় যেন ক্যানভাসে নিপুণ হাতে তুলি বুলিয়েছেন কোনও নামজাদা শিল্পী। 

৩। চেরাপুঞ্জি- বৃষ্টির জন্য এমনিতেই বিখ্যাত চেরাপুঞ্জি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃষ্টিবহুল অঞ্চল মেঘালয়ের এই জায়গা। তবেঁ বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় চেরাপুঞ্জির সৌন্দর্য বর্ষাকালে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পাহাড় ঘেরা এই অঞ্চলের সবকতা ঝর্ণাও যেন নতুন রূপে জেগে ওঠে। হাত বাড়ালেই নাগাল পাওয়া যায় মেঘের। সে এক অদ্ভুত স্বর্গীয় সৌন্দর্য। 

৪। মহাবালেশ্বর- বর্ষার মরশুমে ভারতের যে কটা জায়গায় যাওয়া যায় তার মধ্যে সবচেয়ে রোম্যান্টিক জায়গা হল মহাবালেশ্বর। অল্প দিনের ঘোরার জন্য এটাই পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের মনসুন ডেস্টিনেশন। এখানকার ভেন্না লেক, মারপো গার্ডেন, প্রতাপগড় এবং লিঙ্গমালা ফলস, দেখার মতো জায়গা বটে। 

৫। লোনাওয়ালা- মুম্বই থেকে ৮৩.১ কিলোমিটার আর পুণে থেকে ৬৬.৪ কিলোমিটার দূরের এই জায়গা মুম্বইবাসীদের অন্যতম পছন্দের মনসুন ডেস্টিনেশন। সামনে উইকেন্ড পেলে অনেকেই বেরিয়ে পড়েন লোনাওয়ালার উদ্দেশে। ট্রেকিং, সাইট সিন, ক্যাম্প-ফায়ার, সব মিলিয়ে এক্কেবারে জমাটি আয়োজন করা যায় এখানে।

৬। মাউন্ট আবু এবং উদয়পুর- বর্ষার মরশুমে পা রাখতে পারেন পশ্চিমের রাজ্য রাজস্থানেও। মরু রাজ্যেও যে হিল স্টেশন থাকতে পারে তার অন্যতম নিদর্শন মাউন্ট আবু। প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য মাউন্ট আবু আদর্শ ডেস্টিনেশন। আর উদয়পুর তো নামেই ‘রোম্যান্টিক সিটি’ বলে পরিচিত। অসংখ্য লেক, ফোর্ট—-সবেতেই মাখানো রয়েছে ইতিহাস এবং প্রেমের গন্ধ। এই বর্ষায় প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে চট করে নয় ঘুরেই আসুন রাজস্থানের এই দুই জায়গায়। 

৭। আলেপ্পি, মুন্নার, ও ওয়ানাড়- বর্ষার মরশুমে হট ফেভারিট মনসুন ডেস্টিনেশন বলতে গেলে সব জায়গাকেই পিছনে ফেলে দিতে পারে কেরল। দক্ষিণের এই রাজ্য এমনিতেই নিজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য ‘গডস ওন ল্যান্ড’ বলে পরিচিত। আর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই কেরল পর্যটকদের বড্ড পছন্দের। ওয়ানাড় যেহেতু হিল স্টেশন তাই ট্রেকিং এবং ক্যাম্প করে থাকা এখানকার আসল আকর্ষণ। তাছাড়া বর্ষার মরশুমে তিনদিন ধরে একটা স্থানীয় অনুষ্ঠানও হয়। সে সময় কাদামাঠে ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে তিরন্দাজি—-বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয় এখানে। পাহাড়ে ঘেরা মুন্নারে গেলে এই বর্ষায় আপনি পাবেন কুয়াশা ঘেরা এক মায়াবী পরিবেশ। আর আলেপ্পির ব্যাকওয়াটারসে ক্রুজে বসে বৃষ্টি উপভোগ করার মত রোম্যান্টিক আর কীই বা হতে পারে। 

Comments are closed.