বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

ভাত-রুটির খুনসুটি! মেদ কমাতে ভাত বাদ, রুটি ইন? নাকি দরকার দুয়েরই?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাত না রুটি? স্লিম-ট্রিম মারকাটারি ফিগার পেতে হলে পাতে কোনটা রাখা উচিত, আর কতটা রাখা উচিত সেই নিয়ে দ্বন্দ্ব চিরকালীন। ওবেসিটি জুজুর কারণে ফি দিন খাবারের তালিকা বদলে ফেলছি আমরা। কখনও বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে, আবার কখনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজেই মাতব্বরি করে। রোগা হওয়ার সহজ পন্থা মানে খাত্য তালিক থেকে ভাত এক্কেবারেই বাদ-এই ধারণা এখন বদ্ধমূল অনেকেরই মনে। আবার রুটি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে এমন ধারণাও রয়েছে ষোলোআনা। তাহলে ভাত-রুটির যুদ্ধে জিতল কে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট থেকে মাছ-ভাতে অভ্যস্ত বাঙালি রোগা হতে গিয়ে হঠাৎ করে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিলে মুশকিলে পড়েন। ভাতে আছে কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে এনার্জির জোগান দেয়। আবার অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট রোজ শরীরে জমা হতে থাকলে পরে তা ফ্যাটে পরিণত হয়। অতএব রুটি, তাতে পেট ভরলেও মন ভরে না। অগত্যা সব বাদ দিয়ে ওটস, কিনোয়া, মুয়েসলি, খুসখুস, ব্রাউন ব্রেড ইত্যাদি ইত্যাদি। তাতে অরুচি হলে ফের দোকানের ফাস্ট ফুডেই ফিরে যাওয়া, ফলে ওজনও বাড়তে থাকে হু হু করে।

সুতরাং, কোনওটাই বাদ নয়। ডায়েটিশিয়ানদের মতে ভাতও যেমন দরকার, তেমনি খাদ্য তালিকায় প্রয়োজন রুটিও। তবে দুটোই পরিমাপ মতো এবং সময় মেনে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কার গুণ ঠিক কতটা।

ভাত vs রুটি

সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে ‘লো ফ্যাট নো কার্বস’ ডায়েট উপযোগী হলেও, ঠিকমতো মেনে চলতে না পারলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কার্বোহাইড্রেটকে পুরোপুরি বর্জন না করেও সুস্থ ও সুন্দর স্বাস্থ্য পেতে নিয়ম মতো খাওয়াই ভালো। দুপুরে বাঙালির পাতে দু’মুঠো ভাতের কোনও বিকল্প হয় না। রাতে রুটি চলতেই পারে। আবার দুপুরে রুটিতে অভ্যস্ত হলে, রাতে অল্প পরিমাণ ভাতে কোনও অসুবিধা নেই। সুষম খাবারের অঙ্গ হিসেবে পরিমাণে অল্প করে ভাত খেলে, সে যদি ফ্যানা ভাতও হয়, ওজন বাড়ে না। বরং তাতে উচ্চ রক্তচাপ থাকে বশে। হজমও হয় সঠিক সময়। আবার চাপাটিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যেটা দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি রাখে, ফলে খিদে খিদে ভাবটা কমে যায়। অনাবশ্যক খুচরো স্ন্যাকসে পেট ভরাতে হয় না।

ওজন কমাতে কতটা ভরসা রাখা যায় ভাতে

ভাতে ফাইবার নেই বললেই চলে। যদি ভাতের পরিমাণ কমিয়ে তার সঙ্গে ফাইবারসমৃদ্ধ আনাজপাতি যোগ করা যায়, তা হলে রোজই ভাত খাওয়া যায়।

ভাতের পরিমাণ এক বারে এক থালা হওয়া উচিত নয়। কে রোজ কতটা পরিমাণে ভাত খাবেন, তা নির্ভর করে সেই মানুষটির উচ্চতা এব‌ং ওজনের উপরে। এক জন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং আদর্শ উচ্চতা ও ওজনসম্পন্ন মানুষের ডায়েটে সাধারণত ৫৫-৬০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকতে পারে। সেই কার্বোহাইড্রেট মানে কিন্তু পুরোটাই ভাত নয়। তার মধ্যে বিস্কিট, ফলের কার্বোহাইড্রেটও পড়ে। সুতরাং দিনে একবার অল্প পরিমাণ ভাত মোটেও ক্ষতিকর নয়।

ইদানীং গ্লুটেনের সমস্যায় ভোগেন বহু মানুষ। গ্লুটেন অ্যালার্জি এড়াতে চাইলে ভাতের চেয়ে উপকারী আর কিছু নেই।

ভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, যা শরীরের কোষ সুস্থ রাখে।

ভাত আবার অ্যামিনো অ্যাসিডে ভরপুর। শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অ্যামিনো অ্যাসিড খুব জরুরি।

ভাতের সঙ্গে মোটেও বিবাদ নেই রুটির

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুটিতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে, প্রোটিনও ভরপুর। কাজেই ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সেই জায়গায় রুটি চলতেই পারে। দুপুরে অল্প ভাতে যাদের আপত্তি, তারা ভাত-রুটি মিশিয়ে খেতেই পারেন।

হাতে গড়া আটার রুটিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন এবং ফসফরাস রয়েছে। শরীরে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে রুটি।

ভাতের মতো সহজে হজম হয় না, রুটি হজম হতে সময় লাগে। ডায়েটিশিয়ানরা বলছেন, এই সময় লাগার কারণে দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকে, রক্তে শর্করার পরিমাণও থাকে নিয়ন্ত্রণে।

অনেকেই ডায়েট করার সময়ে ব্রাউন রাইসের দিকে ঝোঁকেন। সাদা ভাতের তুলনায় ব্রাউন রাইসের মধ্যে ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার থাকে বেশি। তবে ব্রাউন রাইসের স্বাদ আবার অনেকেরই অপছন্দ। সে ক্ষেত্রে রোজ সিদ্ধ চালের সাদা ভাত খেতে পারেন। এতএব খুশি মনেই ভাত খান, পাতে থাক রুটিও। তবে কিনা অবশ্যই মেপে।

Comments are closed.