বুধবার, জানুয়ারি ২২
TheWall
TheWall

সঙ্গমের সময়ে তীব্র যন্ত্রণায় মুচড়ে যান ৭৩% ব্রিটিশ মহিলা, কারণটা কি শুধুই শারীরিক?

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্গম কথাটা শুনলেই নাক সিঁটকে দূরে সরে যান অনেক মহিলাই, লজ্জায় মুখ ঢেকে ‘ছিঃ!’ বলতেও শোনা গেছে অনেককে। হালফিলের ফ্যাশনেবল তরুণীরা ‘সেক্স’ শব্দটা উচ্চারণ করলেও, মধ্যবয়সী গৃহবধূরা তো একেবারে নৈব নৈব চ। লজ্জা, সংকোচ বা আড়ষ্টতা যাই থাকুন না কেন, যন্ত্রণাদায়ক সঙ্গমের অনুভূতি কিন্তু বেশিরভাগ মহিলারই নিত্য সঙ্গী। কেউ প্রকাশ্যে আনেন, কেউ বা ভিতরে ভিতরে গুমরে মরেন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ব্রিটিশ মহিলাদের একটি সমীক্ষা তুলে ধরা হলেও এই সমস্যা কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ মেয়েদেরই। শারীরিক জটিলতা তো রয়েছেই, বেদনাদায়ক সঙ্গমের কারণ কিন্তু শুধুই শারীরিক নয়, কিছুটা হলেও মানসিক। কী বলছে গবেষণা!

লন্ডনের দ্য ইভওয়েল ক্লিনিকের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ মোসেজ বাটওয়ালার কথায়, প্রায় ১২০০ ব্রিটিশ মহিলা সঙ্গমের সময় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। যাদের মধ্যে ২০-৫০ শতাংশ মহিলারই বয়স ১৭-৫০ বছরের মধ্যে। হরমোনাল সমস্যা, শারীরিক জটিলতা, আচমকা হানা দেওয়া কোনও রোগ এবং সর্বোপরি মানসিক সমস্যা এই যন্ত্রণার অন্যতম কারণ।

ডঃ বাটওয়ালা বলেছেন, ৫৩ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, তাঁদের পার্টনাররা সঙ্গমের সময় নানা রকম অস্বস্তিতে ভোগেন। কারও সঙ্গমের সময় কোনও অনুভূতি জাগে না, আবার কেউ মিথ্যা ভালোলাগার ্অভিনয় করেন। ভ্যাজাইনাল সংক্রমণের কারণেও পছন্দের মানুষের সঙ্গে শারীরিক মিলনে আগ্রহ প্রকাশ করেন না অনেকেই। চিকিৎসকের কথায় এর কারণ দু’টো–শারীরিক ও মানসিক।

শারীরিক কারণ যদি বলা হয় তাহলে প্রথমেই আসে পিরিয়ডের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যের তারতম্য এবং মেনোপজের পরবর্তী সময়ে মহিলাদের শারীরিক নানা পরিবর্তন। মহিলাদের মেনোপজের পরে শরীরে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। তার জেরে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও হয় অনেকেরই। হরমোন থেরাপির মাধ্যমে দেহে হরমোনের সরবরাহ বজায় রাখা এবং ফের ঋতুস্রাব চালু করা সম্ভব। যৌবন ধরে রাখতে এবং পার্টনারকে খুশি রাখতে অনেকেই এই থেরাপি করে থাকেন। অনেকাংশেই যার ফল হয় মারাত্মক।

লন্ডন গায়েনেকোলজির স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ নরেন্দ্র পিসাল বলেছেন, হরমোন থেরাপির ফলে হার্টের সমস্যা, স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। বিঘ্নিত হতে পারে সেক্স লাইফও। নানা রকম উপসর্গ দেখা দেয় যেমন–অস্বাভাবিক গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ব্যথা, ঘন ঘন মুড বদলানো, খিটখিটে মেজাজ, মূত্রনালীতে জ্বালা, যোনি শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। শুরু হতে পারে গভীর অবসাদও। এ ছাড়াও অস্টিওপোরোসিস-এ আক্রান্ত হন অনেকে। সদ্য মা হওয়া মহিলাদের নিয়মিত ব্রেস্ট ফিড করাতে হয়। যার জন্যও হরমোনের নানা রকম বদল আসে। ৪০ শতাংশ সদ্য মা হওয়া মহিলারা ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেসের (যোনি শুকিয়ে যাওয়া) সমস্যায় ভোগেন। রোগ লুকিয়ে গিয়ে সমস্যা বাড়িয়ে তোলেন অনেকেই।

তা ছাড়াও রয়েছে পিরিয়ডের সময় তলপেটের অসহ্য যন্ত্রনা বা এন্ডোমেট্রিওসিস। বিশ্বের ১৭ কোটি ৬০ লক্ষ নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের ভয়ানক ব্যথায় কাবু। এই অসুখ সঙ্গমের সময় যন্ত্রণা তো দেয়ই, প্রেগন্যান্সিতেও বাধা তৈরি করে। বিশ্বের ১৭ কোটি ৬০ লক্ষ নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের ভয়ানক ব্যথায় কাবু। অবশ্য আধুনিক চিকিৎসায় এই অসুখটিকে কব্জা করে রাখা কঠিন নয়। কিন্তু চিকিৎসার ব্যাপারে এখনও সচেতনতার অভাব প্রায় সব দেশেই।

মানসিক কারণ আরও বেশি যন্ত্রণার।  মহিলাদের কাছে প্রিয় মানুষের সঙ্গে শারীরিক মিলন যতটা শরীরী আনন্দ দেয়, তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক আনন্দ দেয়। পার্টনারের প্রতি বিশ্বাসের অভাব, মানসিক অবসাদ, সম্পর্কের জটিলতা বেদনাদায়ক সঙ্গমের অন্যতম কারণ। লজ্জার কারণেই অনেক মহিলাই সেটা প্রকাশ্যে আনতে পারেন না। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শও করেন না। ফলে দিনে দিনে মানসিক চাপ শারীরিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  সেক্স হরমোনের ক্ষরণ অনিয়মিত হয়ে পড়ে, যার ফলস্বরূপ জটিল রোগ, সঙ্গমে অনীহা, কম বয়সেই বুড়িয়ে যাওয়া এবং ৪০ বছরের আগে মেনোপজের শিকার হন অনেকেই। তাই সমস্যাটা শুধু ভিন দেশের নয়, সার্বিক স্তরের। এর মোকাবিলা করতে মেয়েদেরই এগিয়ে আসতে হবে, মনে সাহস নিয়ে।

Share.

Comments are closed.