মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

বাঁচতে চাই আমি একশো বছর, কিন্তু কী করে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘন নীল সমুদ্রের ধারে টাটকা তাজা হাওয়ায় বসবাস জাপানের ওকিনাওয়ার দ্বীপের বাসিন্দাদের। বেশির ভাগেরই বয়স একশো ছুঁই ছুঁই। কেউ শয্যাশায়ী নয়, দিব্যি কাজকর্ম করে, আড্ডা মেরে দিন কাটছে তাঁদের। কী ম্যাজিকে জাপানের এই দ্বীপের বাসিন্দারা এত দীর্ঘজীবী! একটু অন্যরকম ভাবে বাঁচা অভ্যাস করলে কি আপনিও হতে পারেন এক জন সুস্থ শতায়ু!

ওকিনাওয়ার ৯৭-৯৮-এর বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা নিজেদের রোজকার কাজকর্ম নিজেরাই করেন। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এমনটাই সেখানে স্বাভাবিক। রীতিমতো রান্নাবান্না করেন, বাড়ি পরিষ্কার করেন, বাগান করেন, নিয়ম করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে যান– হইহই করে বেঁচে আছেন সবাই। হার্টের অসুখ, ক্যানসার বা স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে ক্ষয়ে যাওয়া শতায়ুর সংখ্যা নগণ্য।

জাপানিদের ডায়েট

বিজ্ঞানী ও গবেষকদের বক্তব্য, জাপানের এ অংশের মানুষদের জিন হয়তো অনেকটাই এই ম্যাজিকের পিছনে কাজ করে। কিন্তু সবটাই জিন নয়। অনেকটাই হলো এঁদের জীবনযাপন। খাদ্যাভ্যাস। জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব। নিঃসঙ্গতা এড়িয়ে সকলে সকলে মিলে একসঙ্গে বাঁচার অভ্যাস। দুটো জিনিসে মন থেকে বিশ্বাস করেন ওকিনাওয়ার মানুষ। এক, ‘ইকিগাই’, যার অর্থ হলো বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে বিশ্বাস ও  ‘মোয়াই’ যার অর্থ নিজেদের সঙ্গীসাথীদের বৃত্ত। বেঁচে থাকার প্রতি এই ভালোবাসা আছে বলেই এই শতায়ু মানুষগুলোও সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে পড়েন। জিমে যান না তাঁরা খুব একটা, বরং তাঁরা চলে যান পার্কে। সেখানে কিছু না কিছু ব্যায়াম করেন, মন খুলে গল্প করেন., বাড়ি ফিরে নিজেদের রান্না নিজেরাই করেন।

পেট ঠেসে খাওয়ার অভ্যাস এঁদের একেবারেই নেই। ওকিনাওয়ার মানুষ বিশ্বাস করেন পেট ৮০ শতাংশ ভরে গেলেই খাওয়া থামাতে হয়। আর যা তাঁরা খান, তাও অত্যন্ত সুষম। সাধারণত ওকিনাওয়ার মানুষ ছয়-সাত রকম খাবার খান এক এক বারে। কিন্তু পরিমাণে খুব কম। তাঁদের দৈনন্দিন আহারে থাকে ভাত, মাছ, করলার মতো তেতো সব্জি, বেশ কয়েক রকম ফল ও সব্জি। মাংসের চেয়ে মাছেই ভরসা তাঁদের। একজন আমেরিকান যদি দিনে ২৫০০ ক্যালরি খাবার খান, এক জন জাপানি সাধারণত খান ১৯০০ ক্যালরি। গাদা গাদা প্রসেসড মাংস, ভাজাভুজি, মিষ্টি, কৃত্রিম খাবার একেবারেই নেই ওকিনাওয়ার সুপার-শতায়ুদের খাদ্য তালিকায়। কার্বোহাইড্রেট যে একেবারে বাদ, তা-ও নয়। ভাত, মাছ, ফল ও সব্জির এই ব্যালান্সড ডায়েটে চর্বিমুক্ত ও সুস্থ রাখেন তাঁরা।

মনে রাখবেন যত প্রকৃতির কাছাকাছি থাকবেন, খাদ্যাভ্যাসে কৃত্রিমতা বর্জন করবেন, কায়িক শ্রম করবেন আর মনে অঢেল আনন্দ রাখবেন, দেখবেন হাসতে হাসতে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন আপনিও!

 

Comments are closed.