রবিবার, মার্চ ২৪

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিসেপটিকও বটে, হলুদে লুকিয়ে রয়েছে হাজারও গুণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলুদের মধ্যে রয়েছে নানান গুণ। বহু যুগ ধরেই এ কথা প্রচলিত। বিশেষ করে ভারতীয় সমাজ এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। সেই জন্যেই বাড়ির কেউ আচমকা পড়ে গিয়ে আঘাত পেলে চটজলদি দাওয়াই হিসেবে হাজির হয় চুন-হলুদ বাটা। আর গরম দুধের কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে খাওয়ার রেওয়াজও রয়েছে এ দেশের বহু পরিবারেই। যাঁদের দুধ খেতে সমস্যা, তাঁদের জন্যও রয়েছে সমাধান। গরম ভাতে মেখে নিন সামান্য কাঁচা হলুদ। তারপর সেটা খেয়ে ফেলেই নিমেষে দূর হবে শরীরে বাসা বাঁধা হাজারও রোগ।

হলুদ হাজার গুণসম্পন্ন এ কথা প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু ঠিক কী কী উপাদান এতে রয়েছে, কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে তা হয়তো জানা নেই অনেকেরই। বিজ্ঞান বলছে, হলুদের মধ্যে থাকে কারকিউমিনয়েডস (curcuminoids)। আর এই উপাদানের সাহায্যেই মিটতে পারে আপনার শরীরের প্রদাহজনিত যেকোনও সমস্যা। সেটা রোজের অ্যাসিডিটিও হতে পারে, কিংবা অন্য কিছু। সবক্ষেত্রেই হলুদ অনবদ্য। তবে হ্যাঁ এক্ষেত্রে কাঁচা হলুদ শিলনোড়ায় বেটে ব্যবহার করাই ভালো। প্রয়োজনের মিক্সি বা ব্লেন্ডার কিং হ্যান্ড গ্লাইন্ডার ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু বাজার থেকে কেনা হলুদ গুঁড়ো, যেটা সচরাচর বাড়িতে রান্নায় ব্যবহার করা হয়, সেই হলুদ গুঁড়ো এসব ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাই ভালো। 

অ্যাসিডিটির সমস্যায় আজকাল প্রায় সকলেই ভোগেন। এ রোগ কোনও বয়স মানে না। এমনকী কেউ কেউ তো বলেন সাধারণ ঘরের খাবার, মায় জল খেলেও নাকি বুঝতে পারেন অ্যাসিডিটি হয়েছে। আর মুড়িমুড়কি খাওয়ার মতোই অনেকের অভ্যাস থাকে ওষুধ খাওয়ারও। তাই অ্যাসিডিটি বুঝতে না বুঝতে পেটে চলে যায় অ্যান্টাসিড। মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খাওয়া কিন্তু একেবারেই শরীরের পক্ষে ভালো নয়। কারণ এর ফলে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আপনার কিডনি। এবং সম্ভাবনা থাকে অকালেই বিকল হয়ে যাওয়ার। তাই অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ এই উপসর্গের পিছনেই হয়তো আপনার শরীরে লুকিয়ে রয়েছে কোনও মারণ রোগ।

পরিবারেরা গুরুজনরা হামেশাই একটা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গরম ভাতের সঙ্গে কিংবা গরম দুধে ফেলে অল্প পরিমাণে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেতে বলেন তাঁরা। এর কারণ একটাই। আপনার শরীরে এই কাঁচা হলুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন, মস্তিষ্কজনিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এমনকী স্নায়ুর গঠন সুদৃঢ় করতেও এই কারকিউমিন অপরিহার্য।

এখানেই শেষ নয়। আরও গুণ রয়েছে হলুদের। প্রাচীনকালে ধারণা ছিল, হলুদ বাটা মাখলেই গায়ের রং ফর্সা হবে। এই ধারণা অবশ্য ঠিক নয়। গায়ের রংয়ের কোনও হেরফের হয় না। তবে স্নানের আগে হলুদ বাটা মাখলে ত্বকে একটা আলাদা গ্লো আসতে বাধ্য। ভারতীয় রান্নাতেও প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় হলুদ। যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সুদৃঢ় হয়। কাঁটাছেঁড়া এবং বিভিন্ন ক্ষতর ক্ষেত্রেও প্রাথমিক ভাবে ওষুধ হিসেবে হলুদের প্রলেপ লাগানো হয়। অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

Shares

Comments are closed.