শনিবার, মার্চ ২৩

ইস্ট ইনফেকশন, ভ্যাজাইনাইটিস থেকে থাবা বসাচ্ছে ক্যানসার, জেনে নিন যোনিকে কী ভাবে সুস্থ রাখবেন মেয়েরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইস্ট ইনফেকশন মহিলাদের পরিচিত সমস্যা। তার উপর ভ্যাজাইনাইটিসের প্রকোপও বাড়ছে। টাইট, ভেজা সিন্থেটিক পোশাক অনেকক্ষণ পরে থাকার জন্য কুঁচকি, বগল, শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে জীবাণু সংক্রমণ হয়। এমনকি, ঘাম, শরীর থেকে বেরনো তেল, টক্সিন অ্যাকনের সমস্যাও ডেকে আনে।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ওয়ার্ক-আউট লেগিংস পরে জিম করার কারণে অনেক মহিলাই এখন ভ্যাজাইনাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন। মেনোপজের পরে মেয়েদের শরীরে যখন ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি দেখা যায়, তখন প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১৫ জনের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলি হল অস্বাভাবিক গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ব্যথা, ঘন ঘন মুড বদলানো, খিটখিটে মেজাজ, মূত্রনালীতে জ্বালা, যোনি শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, স্ত্রী যৌনাঙ্গের সঠিক পরিচর্চা না হলে সেখানে প্রদাহজনিত ব্যথা, চুলকানি, সাদাস্রাব, যোনি থেকে রক্তপাত হতে পারে। সেটা নিয়মিত হলে ভ্যাজাইনাল ক্যানসার, ভালভার ক্যানসার হওয়াও বিচিত্র নয়।

মহিলারা নিজের শরীরের যত্ন নিন, দেখে নিন কী ভাবে যোনিকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখবেন।

সঠিক ডায়েট আর নিয়মিত শরীরচর্চার কোনও বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যোনির যে কোনও রোগ, ইরেকটাইল ডিসফাংশন দূর করে ব্যায়াম। শরীরের অনুপাতে সঠিক আসন বেছে নিতে পারেন সহজেই। অথবা কেগাল এক্সারসাইজও খুব উপকারি। পেলভিকের নীচের দিকে, পেলভিক মাসলের ব্যায়াম এটি। এ ধরনের ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ও পরিপূর্ণ যৌনজীবন লাভ করা যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গাইনোকোলজিস্টের কাছে রুটিন চেকআপ দরকারি। যৌনাঙ্গের সামান্য সমস্যাও এড়িয়ে যাওযা ঠিক নয়। মহিলাদের সময় করে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) ভ্যাকসিন নেওয়াটা জরুরি। সাধারণত দেখা যায়, মহিলাদের যদি একাধিক পুরুষসঙ্গী থাকে, অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবনে অভ্যস্ত হন তাহলে এই ভাইরাস থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। ওরাল সেক্স থেকেও ছড়াতে পারে এইচপিভি। ভ্যাজাইনাল, গলার ক্যানসারে সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় এই সংক্রমণ।

সঙ্গমের সময় কন্ডোম ব্যবহার করা একান্ত কর্তব্য। পেনিট্রেশনের সময় মহিলাদের যোনিতে জ্বালা, সেখান থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

প্রতিদিন স্নানের সময় জল দিয়ে যোনি পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন রাখাটা দরকারি। বাজার চলতি কেমিক্যাল ব্যবহার না করে জল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ভ্যাজাইলান লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ঋতুস্রাবের সময়েও এই পরিচ্ছন্নতাটা খুবই প্রয়োজনীয়।

অনেকেই বাজার চলতি নানা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করেন। যে গুলো পরবর্তীকালে পিরিয়ডের সমস্যা, যৌনাঙ্গের নানা রোগের কারণ হয়। সে ক্ষেত্রে নারকেল তেল, অলিভ অয়েলই আদর্শ ভ্যাজাইনাল লুব্রিক্যান্ট হতে পারে।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাজাইনাল ইস্ট্রোজেন মহিলাদের যোনিকে সুরক্ষিত রাখে। যন্ত্রণাদায়ক সঙ্গম বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের হাত থেকে রেহাই দেয়।

Shares

Comments are closed.