শুক্রবার, মে ২৪

এই গরমে কী ভাবে খেয়াল রাখবেন আপনার সন্তানের? রইল ১০টি টিপস

সমুজ্জ্বলা দেব (ডারমাটোলজিস্ট)

তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা সবার। চড়া রোদের সঙ্গে উপরি পাওনা চরম আর্দ্রতা। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে আট থেকে আশি সকলেই। বাচ্চাদের অবস্থা তো আরও সঙ্গীন। স্কিন র‍্যাশ থেকে শুরু করে ঠান্ডা-গরমে সর্দি লাগা, সবই রয়েছে তালিকায়।

এই গরমে কী ভাবে সুস্থ রাখবেন আপনার সন্তানকে তারই টিপস দিলে দুর্গাপুরের দ্য মিশন হসপিটালের ডার্মাটোলজিস্ট সমুজ্জ্বলা দেব (এমডি)।

১. গরমে বাচ্চাদের মধ্যে ঘামাচির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তাই চেষ্টা করুন দিনে বেশ কয়েকবার স্নান করাতে। তার ফেলে গায়ে ঘাম বসবে না। আর ত্বক থাকবে ঠান্ডা। তবে খেয়াল রাখবেন যেন এতে ঠান্ডা লেগে সর্দি না হয়ে যায়।

২. নরম সুতির জামাকাপড় গরমের জন্য আদর্শ। তাই অন্য কোনও মেটেরিয়াল নয়, বরং এই গরমে আপনার সন্তানের জন্য বেছে নিন শুধুমাত্র সুতির নরম জামা।

৩. বাইরে থেকে খেলাধুলো করে ফিরলে, কিংবা স্কুল থেকে ফিরলে অবশ্যই আপনার সন্তানকে ভালো করে স্নান করান। যাতে শরীরে ঘাম বসে কোনও ইনফেকশন না হতে পারে।

৪. প্রতিদিন স্নানের সময় কান, নখ, নাভি—–এইসব জায়গা ভালো করে পরিষ্কার করা দরকার। যাতে কোনও ইনফেকশন না হয়।

৫. শরীর ঠান্ডা রাখতে অবশ্যই আপনার সন্তানকে দিন নুন-চিনি-লেবুর শরবত। ফ্রেশ ফলের রস খাওয়াও এই সময় প্রয়োজন। তবে কোল্ড ড্রিংকস থেকে আপনার সন্তানকে একেবারেই দূরে রাখুন।

৬. রাস্তাঘাটে রোজ বেরোলে এমনিতেই দূষণের কারণে মাথায় প্রচুর ধুলো-ময়লা জমে। আর গরমকালে সঙ্গী হয় ঘাম। ফলে চুল চিটচিটে হতে বেশি সময় লাগে না। তাই প্রায় প্রতিদিনই আপনার সন্তানকে শ্যাম্পু করান। তবে এ ক্ষেত্রে হাল্কা কোনও শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। নইলে রোজ শ্যাম্পু করার ফলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।

৭. গরমকালে ভুলেও মাথায় তেল লাগাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

৮. গরমে ঘাম বসে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই আপনার ছোট্ট সোনাকে সবসময় পরিষ্কার এবং শুকনো জামাকাপড় পরান। অন্তর্বাস এবং মোজা রোজ পাল্টানো প্রয়োজন।

৯. বিকেল বেলা রোদ পড়ার সময় কিংবা চড়া দুপুর রোদে আপনার বাচ্চাকে কিছুতেই খোলা জায়গায় বেরোতে বা খেলতে দেবেন না। নইলে হিট স্ট্রোক কিংবা ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাচ্চারা এমনিতেই জল খেতে চায় না। তাই নজর রেখে পরিমাণ মতো জল খাওয়ান সন্তানকে। গরমে সুস্থ থাকতে জলের বিকল্প আর কিছু হয় না।

১০. বাচ্চার খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন। হাল্কা খাবার খেতে দিন। তেল-মশলা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। বাইরের খাবার, ফাস্টফুড, কাটা ফল এইসব একেবারেই খেতে দেবেন না।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সোহিনী চক্রবর্তী।

Shares

Comments are closed.