পিরিয়ডের ডেট এগিয়ে আনতে পার্সলে পাতা! বিপদ কতটা?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ড নিয়ে কম বেশি প্রায় সব মেয়েরাই আজকাল প্রবলেমে থাকছেন। ‘পলিসিস্টিক ওভারি’ বা অন্য কোনও কারণ যাই হোক, নাকাল হচ্ছেন তাঁরা। এরই মাঝে বাড়ির কোনও অনুষ্ঠান বা অন্য প্রয়োজনে কেউ কেউ চান ডেট এগিয়ে নিতে। আর সেটা করতে গিয়েই পার্সলে পাতার মতো জিনিসও অনকেই তাদের যোনিতে নিচ্ছেন। হ্যাঁ, সেই পার্সলে যা সাধারণত স্যালাডে রুপ, গন্ধ, স্বাদ বাড়ায়!

    সমস্যাটা তৈরি হয় মেরি ক্লেয়ারের মতো মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট একটি ম্যাগাজিনের একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে। মেরি ক্লেয়ার ১৯৩৭-এ প্রথম প্রকাশিত হয় ফ্রান্সে। এখন সারা দুনিয়ায় ২৪টি ভাষায় এই ম্যাগাজিন হাতে পান মহিলারা। তাতেই লেখা হয়েছে যোনিতে পার্সলে পাতা ঢোকালে তার ‘ইম্যানাগগ’ এর মতো নির্যাস সার্ভিক্সের দেওয়াল অনেকটাই পাতলা করে দেয়। সঙ্গে হরমোনাল ইমব্যালেন্স যা পিরিয়ডের ডেট পিছিয়ে দেয়, সেই ইমব্যালেন্সকেও সামলে দেয়। তাই পিরিয়ড তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। তবে এই ম্যাগাজিনের এই প্রতিবেদনের পরেই ডাক্তাররা বলছেন এ জাতীয় কিছু করাই স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক নয়। যোনিতে কখনোই কোনও সব্জি ঢোকানো স্বাস্থ্যকর নয়। এতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই বিতর্কের পরেই ওই আর্টিকেলটি ম্যাগাজিন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    লণ্ডনের এক গায়নোকোলজিস্ট ডঃ শাজিয়া মালিকের মতে, এ জাতীয় কোনও প্রমাণ এখনও বিজ্ঞানের কাছে নেই যে এতে কোনও লাভ হতে পারে, বরং ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। এমনকী মৃত্যুর মতো বিপদও ঘটতে পারে যোনিতে কিছু ঢোকালে। ফলে পিরিয়ড এগনো বা পিছনোর ক্ষেত্ৰে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইম্যানাগগকে বলা হয়েছে, এটি এমন একটি উপাদান যা ‘মেন্স্ট্রুয়াল ফ্লো’কে এগিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আগেও ছিল না, আজও নেই। তবে অনেক আগে এ জাতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা মেয়েদের শরীর হয়তো সহ্য করত, আজকাল আর তেমন হয় না। ২০১৮-র আগস্টে আর্জেন্টিনায় এক মহিলার মিসক্যারেজের পর মৃত্যু হয়, তিনিও পার্সলে পাতা তাঁর যোনিতে ঢুকিয়েছিলেন। ডাক্তাররা জানান তাঁর মৃত্যুর কারণ সেপ্টিক শক এবং ইনফেক্শন!

    আজকাল এমনও অনেকে বলেন যে, দারচিনি কিংবা হিং খেলে পিরিয়ডের ডেট এগিয়ে আসে। অর্থাৎ আপনার চাহিদা মতো ফ্লো আগে হবে। আপনাকে আর ক্যালেন্ডারের দিকে চেয়ে বসে থাকতে হবে না। কিন্তু এই সব ঘরোয়া টোটকার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তো নেইই, বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো বিপদ রয়েছে। অতএব যত টোটকাই থাক ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিন। সঠিক ভাবে না জেনে নিজের উপর পরীক্ষা না করাই ভালো।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More