সোমবার, জানুয়ারি ২০
TheWall
TheWall

হার্টের রোগ ও ক্যানসারকে এড়িয়ে বেশিদিন বাঁচতে চান? রোজ খান বাদাম, সব্জি আর ফল

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধূমপান নয়, প্রতিদিন আমরা যা খাই তা-ই আমাদের অনেকের অকাল মৃত্যুর কারণ। প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু হয় খারাপ খাদ্যাভাসের জন্য। দ্য ল্যানসেট পত্রিকায় এই গবেষণার কথা প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো লবণ বা নুন। পাঁউরুটি, সয়া সস বা প্রসেসড খাবারে যে পরিমাণ নুন ব্যবহার হয় তা ক্ষতিকারক।

এই গবেষণা স্থূলতা নিয়ে নয়, বরং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা নিয়ে। সেই সব খাবার যা থেকে মানুষের মধ্যে হার্টের অসুখ ও ক্যানসারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। .

কী ধরনের খাবার আমাদের জীবন, কেমন করে প্রভাবিত করছে

দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজ়িস স্টাডি নামের এক সমীক্ষায় সারা বিশ্বের কোন দেশে মানুষ কোন রোগে কী ভাবে মারা যাচ্ছেন, তার একটা সামগ্রিক তথ্যভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে।

যে তিনটি বিপজ্জনক খাদ্যাভ্যাসে মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে তা হলো

১. অতিরিক্ত লবণ–৩০ লক্ষ মৃত্যু

২. গোটা দানা শস্য কম খাওয়া – ৩০ লক্ষ মৃত্যু

৩. ফল কার্যত না খাওয়া- ২০ লক্ষ মৃত্যু

শরীরে নানা রকমের বাদাম, বীজ, শাকসব্জি, সামুদ্রিক খাবার ও ফাইবার অত্যন্ত জরুরি, যা মানুষের শরীরে কম যাচ্ছে। এটাও নানা অসুখ ও মৃত্যুর কারণ।

 

কী ভাবে ভুল খাদ্যাভ্যাস থেকে মৃত্যু হচ্ছে?

১ কোটি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে হার্টের রোগে। গবেষণা বলছে, এর থেকে পরিষ্কার যে পরিমাণ নুন মানুষ খাচ্ছেন, তা বিপজ্জনক। এর ফলেই হার্টের রোগ বাড়ছে ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। বেশি নুন ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাটাই বাড়িয়ে দেয়। হার্টের শিরা উপশিরায় রক্ত সঞ্চালনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে লবণ। এতে হার্ট ফেলিওর-ও হয়। অন্য দিকে,  গোটা শস্য, ফল ও শাকসব্জি হার্টকে সুরক্ষিত রাখে। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমায়।

ক্যানসার ও টাইপ-টু ডায়াবেটিস হলো খারাপ খাদ্যাভ্যাস থেকে মৃত্যুর পরের দুটি কারণ। কোনও দেশের খাদ্যাভ্যাসই নিখুঁত নয়। তবে কোনও কোনও দেশের কোনও কোনও খাবার অন্য দেশের চেয়ে একটু বেশি স্বাস্থ্যকর।

গবেষকরা বলছেন, নানা রকম বাদাম (নাট), বীজ (সিডস) এবং গোটা শস্য (হোল গ্রেনস) শরীরের পক্ষে খুবই জরুরি। অনেকে মনে করেন, বাদাম খেলে মোটা হয়ে যাবেন। কিন্তু বাদামে যে ফ্যাট আছে, সেটি উপকারী ফ্যাট, জানিয়েছেন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক প্রফেসর নীতা ফোরোহি।

অন্য দিকে, রেড মিট ও প্রসেসড মিট শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। বিশেষত প্রসেসড মিট থেকে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে এ কথা এখন সবাই জানেন। কিন্তু গবেষকদের মতে, এ সব থেকে যত সংখ্যক মানুষের যতটা ক্ষতি হচ্ছে, সামগ্রিক ভাবে তার চেয়ে ঢের বেশি ক্ষতি হচ্ছে নাটস, সিড ও হোল গ্রেনস এবং ফল ও সব্জি না খাওয়ার কারণে।

কী নিয়ে আমাদের বেশি করে ভাবা উচিত?

আমরা ৫০-এর ঘরে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাব, না আরও কিছু দিন পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মরব?–এটাই আমাদের নিজের কাছে এখন প্রশ্ন হওয়া উচিত। আর তার প্রধান কারণ, আমাদের সুস্বাদু আর অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা।

কোন দেশ কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে?

ফ্রান্স, স্পেন ও ইজ়রায়েলে বাজে খাদ্যাভ্যাস থেকে মৃত্যুর প্রবণতা কম। ব্রিটেনের স্থান এ ক্ষেত্রে বেলজিয়াম আর ডেনমার্কের পিছনে। উজবেকিস্তানে অস্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য মৃত্যুর হার খুব বেশি। চিনের মানুষ খুব বেশি পরিমাণে নুন খান। তাদের সয়া সসে অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। জাপানের খাদ্যাভ্যাস খুব স্বাস্থ্যকর। তবে তারাও বছর চল্লিশেক আগে চিনের মতোই বেশি লবণ খেত। এখন তারা অনেক কম লবণ ব্যবহার করলেও তা যথেষ্ট বেশি। কিন্তু জাপানিরা ফল ও শাকসব্জি বেশি খায়, যা তাদের হার্টের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে।

রান্নায় নুনের ব্যবহার অনেকটা কমিয়ে দিন বা কাঁচা নুন তো একেবারেই না। বেশি চিনি আর তেল তো এমনিতেই ভিলেন! সুতরাং, গাছপালা থেকে স্বাভাবিক ভাবে  যে সব খাবার আমরা পাই, রোজকার ডায়েটে সেগুলো অবশ্যই রাখুন। বাদাম, বীজ, শস্য, ফল ও সব্জি–এই পাঁচ পরম উপকারীকে পাতে টেনে নিন।

Share.

Comments are closed.