বুধবার, মার্চ ২০

ডিওডরেন্ট কি বাড়িয়ে দিচ্ছে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি? কী বলছেন গবেষকরা?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচার সত্ত্বেও তা নিয়ে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। সোজাসাপটা কথায় বলতে গেলে স্তনের টিস্যুতে যে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হয়, তা-ই আসলে ব্রেস্ট ক্যানসার। স্তন ক্যানসার সম্পর্কে অজ্ঞতা, স্তন নিয়ে অহেতুক স্পর্শকাতর হওয়া, লজ্জা পাওয়া এবং ‘সেল্ফ এগজামিনেশন’ বা নিজেই নিজের স্তন কী ভাবে পরীক্ষা করা যায়, সে সম্পর্কে ধারণা না-থাকার জন্য এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে মত চিকিৎসকদের।

স্তন ক্যানসার হওয়ার পিছনে থাকতে পারে নানা কারণ। তবে সম্প্রতি একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে গবেষক মহলে, সেটি হল ডিওডরেন্ট কি স্তন ক্যানসারের কারণ হতে পারে? বাজার চলতি নানা স্প্রে বা স্টিক ডিওডরেন্টকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, ডিওডরেন্টের মধ্যে থাকে অ্যালুমিনিয়াম জাত উপাদান যা শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে, তবে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক সময় ত্বকের নানা সংক্রমণজনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ডিওডরেন্ট ব্যবহার করা উচিত বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট চিরাগ শাহের মতে, ২০০২ সালে ১,৬০০  জন মহিলার উপর একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছিল, কিছু শতাংশের মধ্যে ডিওডরেন্টের রাসায়নিক উপাদান ক্যানসার কোষের জন্ম দিয়েছে। তবে বাকিদের ক্ষেত্রে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। তাই ডিওডরেন্ট ব্যবহারই যে স্তন ক্যানসারের কারণ হতে পারে সেটা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি গবেষকরা। সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে স্তন ক্যানসারের মাত্রা অনেক বেড়েছে। অনেক মহিলাই লজ্জা ও সংকোচের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চান না। পরিসংখ্যান বলছে, ৬৪ শতাংশ মহিলা নানা ধরনের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা সম্পর্কে অবগতই নন। ৬৬ শতাংশ জানেনই না চিকিৎসার ব্যয়ভার কত হতে পারে! এ দিকে ৪৯ শতাংশ মহিলা মনে করেন, তাঁদের শরীরে বাসা বাঁধছে স্তন ক্যানসার। তবু পরীক্ষা করাতে লজ্জা পান।

রোগের উপসর্গ

  • বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথাহীন মাংসপিণ্ড বগল অথবা স্তনে জন্ম নেওয়া এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
  • অনেকের ক্ষেত্রেই স্তনবৃন্ত থেকে হলদেটে তরল নিঃসৃত হয়।
  • স্তনবৃন্ত এক দিকে ঝুলেও পড়তে পারে।
  • স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত পড়তেও পারে।

চিকিৎসকদের মতে ডিওডরেন্ট যে স্তন ক্যানসারের কারণ হতে পারে সেটা এখনই সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। এই বিষয়ে গবেষণা চলছে। তবে সতর্কতা সবচেয়ে আগে দরকার। বাজার চলতি যে কোনও স্ট্রং ডিওডরেন্ট ব্যবহার না করে, বরং ঘরোয়া নানা উপায় ব্যবহার করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল, সবুজ সব্জি ও ফল শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বার করে দেয়। দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বাড়িতে বানানো মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে, সেটা অনেক বেশি নিরাপদ।

আরও পড়ুন:

ব্রেস্ট ক্যানসার মানেই কেমোথেরাপি নয়, বলছে গবেষণা

Shares

Comments are closed.