শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বেশি বা কম ঘুম, বাসা বাঁধবে হৃদরোগ, হতে পারে মৃত্যুও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে এ জগতে সবচেয়ে সুখের জিনিস হলো ঘুম। কারণ ওই একটি সময়েই জগত সংসারের সমস্ত চিন্তা থেকে আপনি একেবারে মুক্ত। যদিও অনেকের ক্ষেত্রেই জীবনে এতো সমস্যা যে সঠিক ভাবে ঘুম না হওয়াটা একটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের আবার রয়েছে অনিদ্রা রোগ। হাজার ঘুমের ওষুধেও কোনও কাজ হয় না। পরিস্থিতি সেই একই। সারা বাড়ি যখন ঘুমায় তখন এঁরা থাকেন জেগে।

তবে কেবল কম ঘুম নয়, বেশি ঘুমোলে সেটাও মারাত্মক হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে নির্ধারিত সময়ের (প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা) বেশি বা কম ঘুম কোনওটাই শরীরের জন্য শ্রেয় নয়। এই দুইয়ের ফলেই আপনার জীবনে নেমে আসতে পারে অকাল বিপর্যয়। যখন-তখন হার্ট অ্যাটাক হতে পারে আপনার। এমনকী মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গবেষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত বা কম ঘুম, দুইয়ের ফলেই কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (CVD)-তে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি। যার ফলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সম্প্রতি, এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি যাঁঁরা ঘুমোন তাঁদের মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রবল। আবার প্রতিদিন যাঁঁরা ৬ ঘণ্টার কম ঘুমোন ঝুঁকি রয়েছে তাঁদের জীবনেও। এমনকী যাঁরা দিনের বেলায় যখন তখন ঘুমিয়ে পড়তে পারেন সিভিডি-তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তাঁদের মধ্যেও নেহাত কিছু কম নয়। এমনটাই জানাচ্ছেন কানাডার McMaster বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরেটের ছাত্র চুয়াংসি ওয়াং। ওয়াং বলেছেন, প্রতিদিন রাতে অন্তত ৬ ঘণ্টা আমাদের ঘুমোনো উচিত। কিন্তু বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই সেটা সম্ভব হয় না। ফলে দিনের বেলায় যখন-তখন ঘুম পায়। কিংবা হাতে একটু বেশি সময় থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমোতে ইচ্ছে করে। কিন্তু এর কোনওটাই ঠিক নয়। আর অনিয়মিত ঘুমের ফলের দেখা হার্টের নানা সমস্যা। শরীরে বাসা বাঁধে বিভিন্ন জটিল রোগ।

ওয়াং জানিয়েছেন, ৩৫ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১,১৬,৬৩২-এর জনের উপর এই সমীক্ষা করা হয়েছে। আর তার ফলে সামনে এসেছে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

  • যাঁরা দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোন, তাঁদের তুলনায় যাঁরা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমোন, তাঁদের মধ্যে সিভিডি (CVD) হওয়ার সম্ভাবনা ৫ শতাংশ বেশি।
  • যাঁরা দিনে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমান তাঁদের মধ্যে হার্ট জনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক ঘুমানো লোকের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।
  • আর যাঁরা দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়ে কাটান তাঁদের মধ্যে এই প্রবণতা ৪১ শতাংশ বেশি।
  • যাঁরা দিনে ৬ ঘণ্টা ঘুমান, বা তার চেয়ে কম, তাঁদের মধ্যে হার্ট জনিত রোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা ৯ শতাংশ বেশি। ১০০ জনের উপর করা একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালেও হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে। বছরে প্রায় ৯.৪ শতাংশ মানুষ এই কম ঘুমের ফলেই হৃদরোগ জনিত সমস্যার কারণে মারা যান।

অতএব, প্রতিদিন নিয়ম করে ঘুমান। অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রয়োজন। অনেকসময়েই কর্মব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয় না। তবুও চেষ্টা করুন যাতে রাত্রি বেলার ঘুম অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। নইলে কিন্তু সমূহ বিপদ। যেকোনও দিন, যেকোনও মুহূর্তে থেমে যেতে পারে আপনার জীবনের গাড়ি। তাই নিয়ম মেনে ঘুমোন। নিজের প্রতি যত্নবান হন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Shares

Comments are closed.