মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

আচমকা বুকে কষ্ট, পদ্ধতি জেনে রোগীকে মৃত্যু থেকে বাঁচাতে পারেন আপনিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথেঘাটেই হোক বা বাড়িতে কিংবা অফিসেও যখন তখন হৃদস্পন্দন থেমে যেতে পারে। বয়স এ ক্ষেত্রে কোনও ফ্যাক্টরই নয়। যে কারও ক্ষেত্রেই হতে পারে এমনটা। সেই সময় যতটা দ্রুত সম্ভব হার্ট চালু করে দিলে আচমকা মৃত্যু ঠেকিয়ে দেওয়া যায়। ডাক্তারের কাছে পৌঁছনোর আগে আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষও এই হৃদস্পন্দন চালু করার কাজটি করতে পারে। ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে কার্ডিও পালমোনারি রিসাটিটেশন বা সিপিআর।

শনিবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত হয়েছিল এক সম্মেলন ISECON 2019। সেখানে এই কথাই বলেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। এই সম্মেলনে চিকিৎসা সহায়ক কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষদেরও হাতেকলমে সিপিআর শেখানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর ইলেকট্রোকার্ডিওলজির আড়াই দিন ব্যাপী ৪৭তম বার্ষিক সম্মেলনে সারা দেশের প্রায় ৫৫০ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছিলেন। সংস্থার প্রেসিডেন্ট বেঙ্গালুরুর খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জয়প্রকাশ জানিয়েছেন, মানুষের হার্ট নির্দিষ্ট ছন্দে না চললে আচমকা মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে। সাধারণ ভাবে যাকে আমরা হার্ট অ্যাটাক বলে জানি, হার্টের স্পন্দনের গোলমাল তার থেকে আলাদা। ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে অ্যারিদমিয়া, এ কথা জানিয়েছেন সম্মেলনের অরগানাইজিং সেক্রেটারি চিকিৎসক রবিন চক্রবর্তী।

আমাদের হৃদপিন্ড মিনিটে ৭২ বার পাম্প করে অক্সিজেন যুক্ত শুদ্ধ রক্ত শরীরের কোষে কোষে পৌঁছে দেয়। কিন্তু কখনও কখনও বিভিন্ন কারণে হার্টের ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবহেলা করলে যখন তখন রোগীর হার্টবিট থেমে যাবার ঝুঁকি থাকে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে  ISECON 2019 সম্মেলনে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেছেন। এ দেশে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ, হার্টের রিদম ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। তাঁদের সাডেন কার্ডিয়াক ডেথের ঝুঁকি খুব বেশি।

আচমকা কারুর হার্ট বন্ধ হয়ে যেতে দেখলে সিপিআরের সাহায্যে একজন সাধারণ মানুষও পারেন মুমূর্ষের জীবন ফিরিয়ে দিতে। ISECON 2019-এ অংশ নিয়েছিলেন ডিএমই প্রদীপ মিত্র, ভবতোষ বিশ্বাস, এস বি গুপ্তা, অঞ্জনলাল দত্ত, অরুনাংশু গঙ্গোপাধ্যায়, সৌমিত্র কুমার প্রমুখ চিকিৎসকরা।

Comments are closed.