প্রাণহীন মোহনবাগান দিবস, বলছেন সমর্থকরাই

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলো ঝলমলে বাগান তাঁবু কিন্তু যেন প্রাণ নেই। এমনটাই ছবি দেখা গেল মোহনবাগান দিবসের অনুষ্ঠানে। দীর্ঘদিন ধরে মোহনবাগান দিবসের অনুষ্ঠানে আসা অনেক সবুজ মেরুন সমর্থককেই বলতে শোনা গেল এমন প্রাণহীন, সাদামাটা মোহনবাগান দিবস তাঁরা দেখেননি।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেখা গেল হাত ধরে মঞ্চের দিকে এগোচ্ছেন দুই যুযুধান গোষ্ঠীর অঞ্জন মিত্র ও দেবাশিষ দত্ত। পিছনে সৃঞ্জয় বসু। টুটু বাবু যদিও ছিলেন না। কিন্তু এই ছবি দেখে বাগান সমর্থকরা ভেবেছিলেন এই ঐতিহ্যশালী দিনে হয়তো ঘুচতে চলেছে দূরত্ব। নতুন সুর বাজতে চলেছে বাগানে! কিন্তু স্টেজের কাছে এসেই বদলে গেল ছবি। সঞ্চালিকা মধুমন্তী মৈত্র স্টেজে ডেকে নিলেন অঞ্জন মিত্র, বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়, কাশীনাথ দাসের মতো ক্লাব কর্তাদের। কিন্তু সৃঞ্জয় বসু, দেবাশিষ দত্তদের বসতে হলো স্টেজের নিচে চেয়ারে। কার্যত স্টেজের দখল নিলেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়।

     

     

    মোহনবাগান দিবসে সদস্য সমর্থকেরা যে আশা নিয়ে এসেছিলেন যে স্পনসরের নাম ঘোষণা করা হবে, আখেরে তার কিছুই হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা। অনেকেই বললেন হাইকোর্ট ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্লাবের নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাই নির্বাচন না মেটা পর্যন্ত মিটবে না স্পনসরের সমস্যা।

    এ দিন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই মোহনবাগান সদস্য সমর্থকরা হাজির হতে থাকেন ক্লাব তাঁবুতে। সকালেই ‘মোহনবাগান লেন’-এ ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করেন সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিষ দত্ত। অনুষ্ঠান শুরুর আগে মোহনবাগান মাঠে প্রাক্তনীদের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

    মোহনবাগান দিবসে এবার গোল্ড কার্ড দেওয়া হল ১৯৫৮ সালের প্রাক্তন অধিনায়ক থেকে বর্তমান অধিনায়কদের। এই কার্ডে দলের ম্যাচ দেখা ছাড়াও, বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন এই অধিনায়করা। প্রথম কার্ডটি তুলে দেওয়া হয় চুনী গোস্বামীর হাতে। অথচ, এই চুনী গোস্বামীরই সদস্য কার্ড বাতিল করেছিলেন অঞ্জন মিত্র। তাহলে কি নির্বাচনের আগে প্রাক্তনদের মন জয় করার চেষ্টায় মোহন সচিব? প্রশ্ন সমর্থকদের।

    চুনী গোস্বামীর পর পর একে একে গোল্ড কার্ড প্রাপক হিসেবে ঘোষণা করা হয় অরুময়নৈগম , নঈমউদ্দিন, ভবানী রায়, শ্যাম থাপা, গৌতম সরকার, কৃষ্ণেন্দু রায়, সত্যজিৎ চ্যাটার্জি, সংগ্রাম মুখার্জি, বাইচুং ভুটিয়া, দেবজিৎ ঘোষ, শিলটন পালসহ আরও অন্যান্য অধিনায়কদের নাম। গোল্ড কার্ড তালিকায় সুব্রত ভট্টাচার্যের নাম থাকলেও, কল্যাণীতে অনুশীলন থাকায় এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি।

    এই গোল্ড কার্ডের তালিকায় প্রাক্তন বিদেশি অধিনায়ক হিসাবে ব্যারেটো, ওডাফার নাম থাকলেও, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে নাম নেই সনি নর্দির। গত মরশুমে অধিনায়ক হিসেবে সনি শুরু করলেও, চোট পেয়ে মাঝপথে দেশে চলে যান তিনি। তাই হয়ত সনির নাম বিবেচনা করেননি অঞ্জন মিত্ররা।

    গোল্ড কার্ড ছাড়াও, সেরা যুব ফুটবলার হিসাবে পুরস্কার পেলেন সৌরভ দাস। সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেলেন সুদীপ চ্যাটার্জি। বর্ষসেরা ফুটবলার হলেন শিলটন পাল। অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শিলটনের মা। অনুর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলার জন্য বিশেষ পুরস্কার পেল রহিম আলি। এবারের মোহনবাগান রত্ন পেলেন প্রদীপ চৌধুরী। তাঁকে পড়িয়ে দেওয়া হয় গোলাপের মালা ও সবুজ মেরুন উত্তরীয়। হাতে তুলে দেওয়া হয় ১ লক্ষ টাকার চেক ও মোহনবাগান রত্ন। চালু করা হয় ক্লাবের নতুন ওয়েবসাইট – www.mohunbaganac.co.org

    তবে তাল কাটল ক্লাবের বাইরে। অনুষ্ঠানের আগে স্পনসর, কর্পোরেট প্রভৃতি দাবিতে গেটের বাইরে ‘হোক প্রতিবাদ’-এর লিফলেট বিলি করছিলেন কিছু তরুণ সমর্থক। সেই নিয়ে মোহনবাগান ক্লাবের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। গন্ডগোল চলে গেটের বাইরে। পরে অবশ্য লিফলেট বিলি বন্ধ করে তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More