বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী থেকে ঘৃণিত একনায়ক, মারা গেলেন জিম্বাবোয়ের রবার্ট মুগাবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রায় ৪০ বছর ধরে জিম্বাবোয়েকে শাসন করেছিলেন রবার্ট মুগাবে। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেনাবাহিনীই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২০১৭ সালে। তারপর সিঙ্গাপুরে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে খুব একটা বেরোতেন না। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার মারা গেলেন জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন একনায়ক। বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

তিনি অতি বৃদ্ধ অবস্থাতেও ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন। তাঁর নিজের জানু-পিএফ দলই চাইছিল তিনি গদি ছাড়ুন। পার্লামেন্টে তাঁকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও তিনি অন্তত এক সপ্তাহ পদ ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী যখন তাঁকে সরিয়ে দিল, তিনি বলেছিলেন, সংবিধান বিরোধী কাজ হয়েছে। আমার নিজের দলের লোকই আমাকে বিট্রে করল। তখনই তিনি ভেঙে পড়েন। অন্যদিকে মুগাবে বিদায় নিয়েছেন শুনে উল্লাসে ফেটে পড়ে জিম্বাবোয়ের ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ।

মুগাবের বিরুদ্ধে বার বার বেআইনি কাজের অভিযোগ উঠেছে। তিনি রিগিং করে ভোটে জিতেছেন, বিরোধীদের মুখ খুলতে দেননি, এমনকী তাঁদের হত্যা করার জন্য ডেথ স্কোয়াড পর্যন্ত গড়েছেন।

১৯২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি হারারে শহরের কাছে এক রোমান ক্যাথলিক পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। তখন জিম্বাবোয়ের নাম ছিল রোডেশিয়া। দেশটি শ্বেতাঙ্গদের অধীনে ছিল। মুগাবে জেসুইট পুরোহিতদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। কিছুদিন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার ফোর্ট হারে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যান। সেখানেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি।

১৯৬০ সালে রোডেশিয়ায় ফেরেন। শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরোধিতা করায় তাঁর কারাদণ্ড হয়। ১০ বছর জেলে ছিলেন। এর মধ্যে তাঁর এক ছেলের মৃত্যু হয়। শ্বেতাঙ্গ শাসকরা তাঁকে ছেলের শেষকৃত্যেও উপস্থিত হতে দেয়নি।

জেল থেকে বেরোনর পরে তিনি জিম্বাবোয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির বড় নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৮০ সালে তিনি হন জিম্বাবোয়ের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী। তখন তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক মন্দা দেখা যায়। তখন থেকে মুগাবে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন।

Comments are closed.