বুধবার, অক্টোবর ১৬

আপনি এখনও মন জুড়ে, শ্রীহীন ১৭ মাস পরেও অক্ষত সেই সিংহাসন

পিনাকপাণি ঘোষ

শ্রীদেবী, আজ আপনার জন্মদিন। নায়িকাদের কততম জন্মদিন সেটা বলতে হয় না। আসলে তাঁরা তো স্বপ্নে থাকেন। যেখানে জন্মও নেই, মৃত্যুও নেই। আপনি এখনও সেই স্বপ্নলোকেরই বাসিন্দা। ২০১৮-র ফেব্রুয়ারিতে আপনার ফ্যানকুলকে কাঁদালেও সেই চিক চিক অশ্রুর থেকেও অনেক অনেক বেশি উজ্জ্বল চাঁদনি, আপনার রুপোলি আভা।

১৯৮৮। মীরা নায়ারের ছবি ‘সালাম বম্বে’ মুক্তি পেল। একটি দৃশ্যে জনা কয়েক ফুটপাথবাসী বালক ফুর্তি করতে বেরিয়েছে। ফ্রন্ট স্টলের টিকিট কেটে তারা দেখছে আপনার নাচ। অনিল কপূর-শ্রীদেবী অভিনীত ১৯৮৭ সালের ছবি ‘ মিস্টার ইন্ডিয়া।’ ১৯৮৮ সালে ‘সালাম বম্বে’-র স্ক্রিন জুড়ে মিস হাওয়া হাওয়াই। ফ্রন্টস্টলে সেই শৈশবহীন শিশুরা। আপনার সেই আবেদনময় নাচের পুরোটাকেই শুষে নিচ্ছে তারা। সিনেমা শেষ হলে রাস্তায় একটা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে সেই বালকের দল। হাতে হাতে বিয়ারের বোতল, সিগারেট। আবহে- হাওয়া হাওয়াই…

‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবির দৃশ্য।

আপনি আসলে আটের দশকে অনেক কিছুকেই বদলে দিয়েছিলেন। ওই ফুটপাথ শিশুরা আসলে ছিল তামাম বলিউড দর্শকের প্রতিনিধি। আসলে তখন গোটা ভারত দুলেছে ‘হাওয়া হাওয়া’-র তালে। আটের দশকেই তো আপনার মতো এক নারীকে পেয়েছিল বলিউড। জিতেন্দ্রর নায়িকা হিসেবে এলেন। আর তার পরে, বলিউডটাই হয়ে গেল আপনার। সত্যি করেই এর আগে কোনও অভিনেত্রী কি পুরুষ প্রধান ইন্ডাস্ট্রিকে এমন ভাবে কব্জা করতে পরেছে? অনেকেই বিখ্যাত হয়েছেন, জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, মন কেড়েছেন কিন্তু ‘প্রসিদ্ধি’ বলতে যেটা বোঝায় সেটা কি আদৌ মিলেছিল?

১৯৮৩ সালেই ‘হিম্মৎওয়ালা’,‘জাস্টিস চৌধুরী’ আর ‘মাওয়ালি’। আপনি মোটেই তন্বী ছিলেন না। একটু মোটাসোটা চেহারার নায়িকা। সঙ্গে উজ্জ্বল দু’টি চোখ। নজর আর মন দুইই কেড়ে নিলেন দর্শকের।

‘সদমা’ ছবির দৃশ্য।

সমালোচকরাও বললেন– শি ইজ ডিফারেন্ট। কারণ, ততদিনে ‘সদমা’ মুক্তি পেয়েছে। ১৯৮৩ সালেই কমল হাসানের বিপরীতে আপনি। বলিউডকে অভিনয়ে চমকে দিলেন। তামিল ছবির হিন্দি ভার্সন নিয়ে তোলপাড় আসমুদ্রহিমাচল। এতদিন জিতেন্দ্রর নায়িকা হয়ে থাকার তকমা মুছে দিল ওই একটি ছবিই।

একের পরে এক হিট ছবি– ‘ইনকিলাব’ থেকে ‘আখরি রাস্তা’। বিগ বি-র সঙ্গেও পাল্লা দিয়েছেন আপনি। এর পরে দিন বদল। আপনাকে নিয়ে কাহিনি তৈরির কথা ভাবা শুরু করল বলিউড। চিত্র সমালোচকরা বলেন, নার্গিসের পরে এমন গুরুত্ব পাওয়া নায়িকা আপনিই প্রথম।

১৯৮৭। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’। ১৯৭৫ সালে ‘শোলে’যদি ভারতীয় সিনেমার একটা মাইলস্টোন হয়ে থাকে তবে পরবর্তী মাইলস্টোন তৈরি হল সেদিন। দেশ জুড়ে হোর্ডিং। আর তাতে নায়ক অনিল কাপুরের বদলে আপনার বিশাল ক্লোজ আপ শ্রী। বলিউড তো বটেই গোটা দেশকেই নাচিয়ে দিল ‘হাওয়া হাওয়াই’। ফ্যাতাড়ু থেকে ক্লাস ভারতীয় সবাই, সব্বাই শ্রীদেবী হাওয়ায় দুলে গিয়েছিল।

‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবির দৃশ্য।

আপনি হঠাৎ করেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন রুপোলি পর্দা থেকে। নয়ের দশকের শেষ দিকে এমন সিদ্ধান্তে ব্যথা পেয়েছিল দর্শককুল। নায়িকা থাকতে থাকতেই বিদায় নেওয়া শ্রীদেবী কি সুচিত্রা সেনের মতোই আড়ালে থেকে যাবেন চিরকাল। এমন প্রশ্ন তৈরি হতেই হতেই আপনি স্বমহিমায় ফিরেছেন ২০১২ সালে। হ্যাঁ, এবারেও কাহিনি আপনাকেই ঘিরেই তৈরি হয়েছে। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’। অভিনয়কে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে দেখিয়েছেন আপনি।

আজ জন্মদিনে আপনার চলে যাওয়ার কথা একেবারেই বলব না। শোক পালনও নয়। শ্রীদেবীর সঙ্গে যে ‘শোক’ শব্দটা একেবারেই যায় না। তামাম ছবি প্রেমিকদের কাছে শ্রী মানেই যে চাঁদনি। যার আভা লুকিয়ে থাকতে পারে, কমে না। শ্রী মানেই যে– হাওয়া হাওয়াই…

Comments are closed.