রবিবার, নভেম্বর ১৭

আসুন, আমরা সামনের দিকে তাকাই

আশা ছিল, আশঙ্কাও ছিল। অনেকে আশায় ছিল, পুরানো রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে দেড়শ বছরের বিতর্কের সমাধান আসন্ন। সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দেবে, তা মেনে নেবে সকলে। হিন্দু ও মুসলিম পাশাপাশি সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে। যে যার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে থাকবে। কেউ কাউকে বাধা দেবে না। এরই পাশাপাশি আশঙ্কা ছিল, রায় পছন্দ না হলে কোনও পক্ষ হয়তো নেমে পড়বে রাস্তায়। অথবা উল্টোটাও হতে পারে। রায় যাদের পক্ষে যাবে, তারা রাস্তায় নেবে প্রদর্শন করবে উৎকট উল্লাস। তা অপর পক্ষের কাছে প্ররোচনার কাজ করবে।

এই আশঙ্কা নিয়েই অযোধ্যায় ও আরও কয়েকটি রাজ্যে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে ছোট ছেলেমেয়েরা পথে বেরিয়ে বিপদে না পড়ে। বিভিন্ন হিন্দু ও মুসলিম সংগঠনের নেতা শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী রায় বেরোনোর ১২ ঘণ্টা আগে নাগরিকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কারও জয় বা পরাজয় হবে না। যাই রায় হোক, শান্তি বজায় রাখুন।

রায় ঘোষণার পরে কোথাও অশান্তির খবর নেই। মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড থেকে অবশ্য রিভিউ পিটিশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায় নিয়ে তাঁরাও পুরোপুরি অসন্তুষ্ট নন।

রামমন্দির-বাবরি মসজিদ বিতর্ক চলছে দশকের পর দশক জুড়ে। যার পরিণামে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর একদল করসেবক বিতর্কিত কাঠামোটি ভেঙে ফেলে। তারপরে দেশজুড়ে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ মারা যান। সম্পত্তিহানি হয় বিপুল পরিমাণে। সেদিন যাঁরা যুবক ছিলেন, এতদিনে তাঁরা প্রৌঢ়। এখনও সেই বিতর্ক চলছে।

দেশে আরও অনেক বড় বড় সমস্যা আছে। জিডিপি-র বিকাশের হার তলানিতে, বেকার সমস্যা গত ৪৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, জিনিসপত্র অগ্নিমূল্য। তার ওপরে আছে নানা রোগ-বালাই, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি। এসব কারণে বহু প্রাণহানি ঘটে, মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা ভোগ করে।

এবার আমরা বরং এই সমস্যাগুলির সমাধানে বেশি মনোযোগী হই। সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে অযোধ্যায় মন্দির-মসজিদ বিতর্কের অবসান হোক। কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই বিতর্ক চলছে। আমরা চাই না আমাদের ছেলেমেয়ে, নাতিনাতনিরা ওইসবই চালিয়ে যাক।

অযোধ্যা নিয়ে রায় বেরোনর পরে যে অশান্তির আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কের অবসান হবে বলে যে আশা করা হয়েছিল, তা এবার পূরণ হোক।

Comments are closed.