রবিবার, অক্টোবর ২০

মাদারিহাটের চা বাগানে পাঁচ বছরের শিশুকে খুবলে খেল চিতাবাঘ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে খুবলে খেল চিতাবাঘ। বুধবার বিকেলে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া মাদারিহাট ব্লকের ধুমচিপাড়া চা বাগানের ১২ নম্বর লাইনে। জখম শিশুকে মাদারিহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বুধবার বিকেলে চা বাগানের পাশেই খেলছিল ৫ বছর বয়সের শিশু ইদেন নায়েক । আচমকা চা বাগানের ভেতর থেকে একটি চিতাবাঘ এসে শিশুটিকে ধরে ফেলে। গলায় কামড়ে শিশুটিকে চা বাগানের ভেতরে নিয়ে যায় চিতাবাঘটি। স্থানীয় বাসিন্দারা চিতাবাঘটিকে তাড়া করলেও সহজে শিশুটিকে ছাড়েনি চিতাবাঘটি। প্রায় পাঁচ মিনিট বাদে শিশুটিকে ছেড়ে পালিয়ে যায় বাঘ। স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনায় তাজ্জব বনে গেছেন বন দফতরের আধিকারিকরা। জলদাপাড়া বন্য প্রাণ বিভাগের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, “এই ঘটনা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ইতিহাসে এ রকম দ্বিতীয় ঘটনা। আমরা এই ঘটনায় তাজ্জব হয়ে গেছি। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। ধুমচিপাড়াতে চিতাবাঘ ধরার জন্য খাঁচা পাতা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে তা আমরা ভাবতেই পারিনি। সাধারণত মানুষ দেখলে ভয় পায় চিতাবাঘ। কিন্তু এ কী কাণ্ড ঘটাল এই বুনো চিতাবাঘ! প্রাথমিক ভাবে আমরা মৃত শিশুর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণ দিচ্ছি। পরে আরও দুই লক্ষ টাকা অর্থাৎ মোট চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণ পাবে মৃত শিশুর পরিবার।”

মৃত শিশুর দেহ ময়না তদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির বাবা ও মা দুজনেই ধুমচিপাড়া চা বাগানের শ্রমিক। ঘটনার সময় দুজনেই চা বাগানের কাজ করছিলেন। বাবা কুণাল নায়েক ও মা প্রেমিকা নায়েক এই ঘটনায় শোকে পাথর হয়ে গেছেন। দিদি অনসূয়ার সাথে খেলার সময় চিতাবাঘের মুখে পড়ে ইদেন।

Comments are closed.