বৃহস্পতিবার, জুন ২০

পিটিয়ে আধমরা করে, লেজ ধরে হিঁচড়ে, জ্ঞান হারানো চিতাবাঘের ছানার সঙ্গে সেলফি!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এত দিন জানা যেত, চিতাবাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে গ্রামবাসীর। কিন্তু এবার সামনে এল এক উলট পুরাণ। একটি চিতাবাঘের মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছে গ্রামবাসীদের৷ মহারাষ্ট্রের নাভেগাঁও নাগজিরা ব্যাঘ্র সংরক্ষণালয় সংলগ্ন কোয়লারি গ্রামের ঘটনায় স্তম্ভিত পশুপ্রেমীরা। শিকার করে বাঘ মারা এক রকম, কিন্তু এই ঘটনা যেন ছাড়িয়ে গিয়েছে সমস্ত সীমা।

সূত্রের খবর, চলতি মাসের ছ’তারিখে সংরক্ষণালয়ের কাছে একটি চিতাবাঘের ছানা আহত অবস্থায় নেতিয়ে পড়ে রয়েছে বলে খবর পায় বন দফতর৷ তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছন বনকর্মীরা৷ মাত্র ছ’মাস বয়সি ওই শাবকটি উদ্ধার করে সংরক্ষণালয়ে আনা হয়৷ বনকর্মীদের দাবি, উদ্ধারের সময়ে চিতাবাঘটির শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল৷

তার পর থেকেই চিকিৎসা চলছিল তার৷ কিছু দিন পরে ওই চিতাবাঘটির মৃত্যু হয়৷ বনকর্মীরা অনুসন্ধান শুরু করেন, কী ভাবে জখম হয়েছিল ওই চিতাবাঘটি। জানা যায়, জঙ্গল ছেড়ে চিতাবাঘটি লোকালয়ে চলে আসে৷ এটাই ছিল তার ‘অপরাধ’৷ স্থানীয় বাসিন্দারা দেখামাত্র চিতাবাঘটিকে ঘিরে ধরে৷ পিটিয়ে আধমরা করে। তার পরে তার লেজ ধরে টানতে টানতে গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ঘোরানো হয় তাকে৷ অত্যাচারের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ে চিতাবাঘটি! অজ্ঞান হয়ে যায় সে৷

বনকর্মীরা জানান, গ্রামবাসীরা ভেবেছিল চিতাবাঘটি মারা গিয়েছে৷ তাই জঙ্গল এলাকায় ফেলে দেওয়া হয় ওই চিতাবাঘটিকে৷ বনকর্মীরা জানিয়েছেন, শুধু অত্যাচারই নয়। অসুস্থ হয়ে পড়া ওই চিতাবাঘটির সঙ্গে সেলফিও তোলে অত্যাচারী গ্রামবাসীরা৷ এর পরেই বনকর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷ চিতাবাঘটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁরা৷ শুরু হয় চিকিৎসা৷ যদিও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি৷

এ দিকে, ওই গ্রামের বেশ কয়েক জন যুবক চিতাবাঘকে অত্যাচারের সময় তোলা সেলফি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে৷ ওই ছবি দেখার পরই সমালোচনায় সরব হন পশুপ্রেমীরা৷ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ প্রকাশ পুরম, লোকেশ ঝাডে এবং আসিফ শেখ নামের তিন অভিযুক্ত আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে৷

Comments are closed.