বেইরুটে বিস্ফোরণের দায় নিয়ে ইস্তফা লেবানন সরকারের

১৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমার সরকার ইস্তফা দিচ্ছে। সোমবার রাতে জানালেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। গত মঙ্গলবার দু’টি বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে যায় লেবাননের রাজধানী বেইরুট। সেখানে বন্দরের কাছে গুদামে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করা ছিল। তা থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। তার পরেই বেইরুটের পথে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্তা পদত্যাগ করেন। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে কয়েকজন মন্ত্রীও পদত্যাগপত্র জমা দেন। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, সরকারের পতন ঘনিয়ে আসছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী এক ভাষণে বোঝাতে চেষ্টা করেন, তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত নন। বরং তিনি নিজেই দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। তারপরেই ঘোষণা করেন, তাঁর সরকার ইস্তফা দিচ্ছে।

লেবাননের সাধারণ মানুষের ধারণা, সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপদার্থ। প্রশাসনের কর্তারা সংকীর্ণ স্বার্থে কাজ করেন। দেশের চেয়ে পরিবারের স্বার্থ দেখতেই তাঁরা বেশি তৎপর। প্রধানমন্ত্রী যখন সরকারের ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করছিলেন, তখনও বেইরুটের রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছিল জনতা।

লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে জানানো হয়, বিস্ফোরণে অন্তত ১৬০ জন মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬ হাজারের বেশি। ২০ জন এখনও নিখোঁজ। বেইরুটে গিয়েছে আন্তর্জাতিক রেসকিউ টিম। তাদের সঙ্গে আছে গন্ধ শোঁকা কুকুর ও বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।

সার হিসাবে ব্যবহার করা হবে বলে বেইরুটে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জড়ো করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, বিস্ফোরণ ঘটতে পারে জেনেও ওই রাসায়নিক দিনের পর দিন অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল কেন?

সরকার ইস্তফা দিয়েছে শুনে বেইরুটে জনতা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। ত্রিপোলি শহরে শূন্যে গুলি ছুড়ে উৎসব করা হয়। প্রশাসন আগেই আশ্বাস দিয়েছিল, দ্রুত ওই বিস্ফোরণের তদন্ত করা হবে। কিন্তু জনতা দাবি করে, কোনও বিদেশির নেতৃত্বে স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে হবে। সরকার তাতে রাজি হয়নি।

৪ অগাস্ট ঘটা ওই বিস্ফোরণকে অনেকে হিরোশিমার পরমাণু বিস্ফোরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাতে বেইরুটের ম্যাপই বদলে গিয়েছে। রবিবার মিশেল নামে এক বিক্ষোভকারী বলেছিলেন, কেবল মন্ত্রীদের পদত্যাগ করাই যথেষ্ট নয়। বিস্ফোরণের জন্য যারা দায়ী তাদের খুঁজে বার করতে হবে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ ধ্বংসস্তূপ থেকে বিপন্ন মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করেনি। উলটে জনতা রাস্তায় প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। মিশেল বলেন, “আমরা চাই, কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা তদন্ত করুক। কারণ সরকার সত্য গোপন করতে চাইছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More