শনিবার, মার্চ ২৩

শরীর-মন মিষ্টি রাখতে, বন্ধ করতে হবে বাইরের মিষ্টি মুখে ঢোকানো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাণক্য বলে গেছিলেন, যা কিছু অতিরিক্ত তা-ই বিষ! কিন্তু আপনার শরীরের জন্য অতিরিক্ত মিষ্টি যে কতটা বিষ হতে পারে, তা কখনও ভেবেছেন? অতিরিক্ত মিষ্টি যে কোনও সময়েই আপনার স্কিন থেকে মুড, ঘুম থেকে ব্লাডসুগার, ওজন থেকে স্মৃতিশক্তি সবেরই ক্ষতি করতে পারে।  কী কী ক্ষতি হতে পারে জানলে হয়তো আজই বাড়ির চিনির কৌটো সরিয়ে রাখবেন, এড়িয়ে চলবেন মিষ্টির দোকান। প্রথম প্রথম এটা যথেষ্ট কষ্টকর মনে হতে পারে। তবে অভ্যেস করতে পারলেই কেল্লা ফতে! আগে জেনে নিন মিষ্টি খাওয়া ছাড়লে প্রাথমিক ভাবে কী কী অসুবিধা হতে পারে আপনার ?

প্রথম দিকে আপনার অভ্যাস মতোই খেতে ইচ্ছে করবে, সময় হলেই মন মাথা টিকটিক করবে মিষ্টি খাওয়ার জন্য।  আর সেটা না পেলেই মুড অফ, মাথা ব্যথা, বিরক্তির মতো জিনিস আসতে থাকবে। তবে এই পরিস্থিতি জয় করবেন বলে মনে মনে ভাবলে, সহজেই প্রথম কয়েকটা দিন কেটে যাবে। আর কোনও অসুবিধে হবে না মোটেও।

অনেকেরই রাতে খাওয়ার পরে মিষ্টি খাবার অভ্যাস থাকে। কিন্তু সেটা ঘুমের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এক জন প্রাপ্তবয়স্কর দিনে আট ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন, কিন্তু মিষ্টির অভ্যাস তাতে বাধা দেয়। আর সারারাত অনিয়মিত ঘুমের কারণেই পরের দিন ঝিমুনি আসে। কাজের ক্ষতি হয়। আর সেই সঙ্গে ওজনও বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে। নিয়মিত মিষ্টি খেলে আপনার মধ্যপ্রদেশ বাড়তে থাকবে নিজের ছন্দে। অথচ মোটে একমাস যদি বন্ধ রাখতে পারেন কষ্ট করে, তা হলে সহজেই আপনার কোমর নিজের আয়ত্তে আসবে। আপনি অনেক বেশি চনমনে থাকবেন।

হৃদযন্ত্রে অন্য কারও বাস? তা হলে তাকে দুর্বল করে লাভ কী বলুন তো? তার চেয়ে মিষ্টি খাওয়া কমালে আপনার স্ট্রেস কমবে, ব্লাডপ্রেশার কমবে, লিভার থাকবে সুস্থ, ডায়বেটিসও হবে না।  ব্লাডসুগার বেড়ে যায় ইনসুলিন হরমোন যখন আমাদের রক্তে পৌঁছলেও কোষে কোষে পৌঁছয় না। ফলে গ্লুকোজের ঘাটতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি আমরা। এই সবেরই কারণ কিন্তু ওই মিষ্টি। তাহলে আর না ভেবে বরং ছেড়েই দিন মিষ্টি খাওয়া।

আপনি হয়তো জানেন না, যে আপনার মুখের ব্রণর কারণও ওই মিষ্টি। ইনসুলিনের ব্যালেন্স না থাকায় হার্ট থেকে লিভার সবই ক্ষতির মুখে পড়ে। আর তা থেকে আপনার অয়েলি স্কিন প্রশ্রয় পেতে থাকে, হতে থাকে স্কিন লাল হওয়া থেকে শুরু করে নানা সমস্যা। এমনকী বয়সের তুলনায় আপনাকে কি বুড়োটে দেখায়? জানবেন এর পিছনেও আছে ওই ‘মিছরির ছুরি’।  কোলাজেন ও ইলাস্টিন– স্কিনের এই দুই সৈনিক আপনার ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে, স্কিনকে তুলতুলে মোলায়েম দেখাতে সাহায্য করে। কিন্তু যত বেশি মিষ্টি খাবেন, আপনার শরীরে ‘গ্লাইক্যাশন’ বেড়ে যাবে। যা আপনার ত্বকের দুই সৈন্যকে সহজেই কুপোকাৎ করে ফেলবে। আর আপনার স্কিন ঝুলে যাবে, তাতে রিঙ্কল, ডার্কস্পট দেখা দেবে।
প্রচুর মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, ব্লাডসুগারের আপ অ্যান্ড ডাউন আপনার ব্রেনের নিউরোনগুলোকে সঠিক ভাবে কাজ করতে দেবে না। ফলে দিনকেদিন আপনার মনে রাখার ক্ষমতা কমতে পারে, স্মৃতি ঝাপসা হতে পারে।  আপনার লক্ষ্যপূরণের বাধাগুলো আপনাকে খিটখিটে এবং বিরক্ত করে তুলবেই। মুডসুইং হবে ঘনঘন। তাতে আপনার সব সময়েই মনে হতে পারে, কিছুই ভাল লাগছে না। কিন্তু এই ভাল না লাগা কাটাতে, ঠিকঠাক পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট-সহ ব্যালেন্সড ডায়েটে থাকতে হবে।

ছোট থেকেই চকলেট বা মিষ্টিতে আসক্ত থাকে অনেকে, তার পরে মুখ ধুয়ে ফেলার অভ্যাসও থাকে না। এর ফলে মাড়িতে তৈরি হয় এক রকমের অ্যাসিড, যা থেকে ২০ সেকেন্ডেই জন্মায় ব্যাকটেরিয়া। যা আপনার দাঁতের এনামেল ক্ষয় ও ক্যাভিটি তৈরিতে একটুও দেরি করে না।  কাজেই মুখের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেও মিষ্টি থেকে দূরেই থাকুন।

কিন্তু তাই বলে কী জীবন মিষ্টিহীন করে ফেলবেন? তা কেন! ফল খান, তাতে ন্যাচারাল মিষ্টি স্বাদ পাবেন আর ক্ষতিও হবে না। পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন আখের গুড় বা মধুও। ছেড়ে দিন কেক, পেস্ট্রি, ক্যান্ডি।  থাকুন ফিট বহু দিন। মন মিষ্টি রাখুন, মুখও মিষ্টি থাক। তবে তা জিভে বেশি না পৌঁছলেই হল।

Shares

Comments are closed.