এক কোটি সাইকেল রাজ্যে তৈরি হল না কেন, কাটমানির গল্প আছে নাকি, প্রশ্ন মান্নানের 

মান্নান সাহেবের কথায়, ভাবুন তো সাইকেল পিছু কাটমানি নিলে ১ কোটি সাইকেলে কত হতে পারে? আবার এও ভাবুন বাংলায় একটা সাইকেল কারখানা হল, সেখানে ১ কোটি সাইকেল উৎপাদন হল। তার ফলে বাংলার কত ছেলের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারত, যেখানে ওই কারখানা গড়ে উঠত সেই এলাকার অর্থনীতিরই বা কতটা উন্নয়ন হতে পারত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর বক্তৃতায় জায়গা করে নিয়েছিল সবুজসাথী প্রকল্প। অর্থমন্ত্রী বলেন গত কয়েক বছরে ১ কোটি সাইকেল দেওয়া হয়েছে। আর এই পরিসংখ্যান ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান।

    এদিন সাংবাদিক বৈঠকে আবদুল মান্নান বলেন, “আমি পরিসংখ্যান নিয়ে কোনও কথা বলছি না। ধরে নিচ্ছি এক কোটি সাইকেলই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সাইকেলগুলি তো তৈরি হতে পারত আমাদের রাজ্যেই । সরকার তো একটি সাইকেল কারখানা তৈরি করে রাজ্যেই সাইকেল উৎপাদনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিতে পারত।”

    এখানেই থামেননি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। খোঁচা দিয়ে বলেন, “বাইরে থেকে কেন বেশি দামে সাইকেল কেন হল? এখানেও কি তাহলে কাটমানির গল্প আছে?” মান্নান সাহেবের কথায়, ভাবুন তো সাইকেল পিছু কাটমানি নিলে ১ কোটি সাইকেলে কত হতে পারে? আবার এও ভাবুন বাংলায় একটা সাইকেল কারখানা হল, সেখানে ১ কোটি সাইকেল উৎপাদন হল। তার ফলে বাংলার কত ছেলের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারত, যেখানে ওই কারখানা গড়ে উঠত সেই এলাকার অর্থনীতিরই বা কতটা উন্নয়ন হতে পারত। তাঁর কথায়, সরকার বা শাসকদল অর্থনীতির এই সহজ সূত্র বোঝেন না, আমি বিশ্বাস করিনা। কিন্তু জেনেবুঝে ১ কোটি সাইকেল কেন কেনা হল, কেন উৎপাদনের ব্যাপারে নজর দেওয়া হল না– সে নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক নয় কি!

    রাজ্য বাজেটকে সংখ্যার জাগলারি বলে কটাক্ষ করেন চাঁপদানির বিধায়ক। মান্নান সাহেব তোপ দাগেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও। তাঁর কথায়, হাসপাতালগুলির গায়ে নীল-সাদা রঙ করে সুপার স্পেশালিটি বলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনও পরিকাঠামো নেই। আবদুল মান্নান বলেন, “কটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান আর এমআরআই করারর যন্ত্র আছে সরকার বলুক!” তাঁর দাবি, আগের থেকে বেশি মানুষ দক্ষীন ভারতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। এটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে রাজ্যে পরিষেবা কেমন।

    এদিন বাজেট বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা জনগণের সরকারের, জনগনের দরকারের বাজেট।” ‘প্রো পিপল’ বলে আখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলনেতা তাকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর কথায়, “এরা কোনও কাজই করে না! কাজ করলে তো প্রো পিপল বা অ্যান্টি পিপল বলা যাবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More