বুধবার, আগস্ট ২১

গির্জায় হামলা হতে পারে বলে আগেই খবর ছিল, সতর্কও করেছিলেন শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশ দিন আগেই গির্জায় হামলার ইঙ্গিত পেয়েছিল পুলিশ! এমনই দাবি করছে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন। তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে সতর্কবার্তাও জারি করেছিলেন শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান। জানানো হয়েছিল ভারতীয় হাইকমিশনকেও। কিন্তু তার পরেও পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সম্ভব হয়নি।

শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান পি জয়াসুন্দরা ১১ এপ্রিল পুলিশ আধিকারিকদের একটি সতর্কবার্তা পাঠান বলে জানা গিয়েছে। ওই সতর্কবার্তায় লেখা হয়েছিল, এনটিজে নামে একটি চরমপন্থী সংগঠন দেশের বিভিন্ন গির্জায় হামলার চেষ্টা করছে। ভারতীয় দূতাবাসও তাদের নজরে আছে।

এনটিজে একটি ইসলামিক সন্ত্রাসী সংগঠন। কিছু দিন আগেই শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জায়গায় বৌদ্ধ ধর্মের স্থাপত্যের উপর আচমকা আক্রমণ নেমে আসে। একাধিক মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়। সেই ঘটনাতেও এই সংগঠনেরই নাম জড়িয়েছিল।

রবিবার দিনভর শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত দু’শো-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনিস চার্চে প্রথম বিস্ফোরণ হয়। এই বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতে কাটুয়াপিটিয়ার সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ ও কোচ্চিকাডের একটি গির্জায় পরপর বিস্ফোরণ হয়। এই তিনটি গির্জাতেই সেই সময় ইস্টারের প্রার্থনা চলছিল। প্রার্থনা শুনতে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে অনেক পর্যটকও যোগ দিয়েছিলেন।

এই তিনটি গির্জা ছাড়াও কলম্বোর তিনটি প্রথম সারির হোটেল দ্য শাংগ্রি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবিউরি হোটেলেও হয় জোরালো বিস্ফোরণ। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা একটাই বেশি ছিল যে গির্জার ছাদ উড়ে গিয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে পুরো এলাকা। চার দিকে শুধুই ছড়িয়ে ছিটিয়ে জিনিসপত্র। পড়ে রয়েছে মানুষের দেহ। আহতদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। রক্তের ছিটে চার দিকে।

এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি  বলেন, “ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। ভারতীয় উপমহাদেশে এ ধরনের বর্বরতার কোনও  স্থান নেই। নিহতদের পরিবারের পাশে আছি আমরা।”

এ দিকে শ্রীলঙ্কার বিস্ফোরণ নিয়ে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। টুইটে সুষমা  লিখেছেন, “আমি ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে  চলেছি। পরিস্থিতির উপর আমাদের নজর আছে।”

Comments are closed.