মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

উত্তপ্ত ভূস্বর্গে চালু হল ল্যান্ডলাইন পরিষেবা, ছন্দে ফিরছে সাধারণ মানুষের জীবন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা কয়েক দিন থমথমে পরিস্থিতির পরে, অনিশ্চয়তার মেঘ সামান্য কাটার ইঙ্গিত মিলল ভূস্বর্গে। জানা গিয়েছে, উপত্যকার বেশ কিছু অঞ্চলে ল্যান্ডলাইন টেলিফোন পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে। শনি ও রবিবার অবধি নতুন কোনও গোলযোগের খবরও নেই বলে খবর স্থানীয় সূত্রের। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে কাশ্মীরে।

পুলিশ জানিয়েছে, উপত্যকার বেশ কিছু জায়গায় নতুন করে ল্যান্ডলাইন টেলিফোন পরিষেবা ব্যবস্থা শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি, শ্রীনগর-সহ একাধিক এলাকায় শনিবার সন্ধের পর থেকে টেলি-যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যায়।

তবে টেলি-যোগাযোগ শুরু হলেও, উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবস্থা এখনও বিচ্ছিন্ন। বিএসএনএল-এর ব্রডব্যান্ড এবং প্রাইভেট কানেকশন চলছে না। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর ২০ দিন কেটে গেলেও, এখনও পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধই রয়েছে। বাস বা গাড়িও খুব বেশি চলছে না। স্কুলগুলি খোলা হলেও, ছাত্রছাত্রীরা আসছে না এখনও।

গত কালই শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকতে না পেরে, উপত্যকার পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তার পরের দিনই জম্মু ও কাশ্মীরে ল্যান্ডলাইন পরিষেবা চালু হওয়ায় পরিস্থিতি এখন আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

রবিবার জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্য পাল মালিক জানিয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার এই খামতিতে কিছু অসুবিধা হলেও, তা কারও পক্ষে ক্ষতিকারক হচ্ছে না। তাই এর কোনও খারাপ দিক নেই। তিনি আরও জানান, গত প্রায় ১০ দিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। উপত্যকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেরও কোনও অভাব নেই বলে দাবি তাঁর। ইদ উপলক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে ওষুধ-পত্র, মাংস, সবজি এবং ডিম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর কিছু দিনের মধ্যেই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে অনুমান করছেন তিনি।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ দু’টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে মোদী সরকার। এর পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়। এতেই শুরু হয় অশান্তি। ভারত-পাক সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এর জেরে।

Comments are closed.