শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

দু’দিন আগেও অনাহারে ধুঁকছিলেন তাঁরা, সেই ঘরেই আজ এলেন মা লক্ষ্মী! আসানসোল যেন রূপকথা লিখল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগেও বাড়িতে অন্ন ছিল না তাঁদের। অসুস্থতা আর অনাহারে ধুঁকতে ধুঁকতে যেন অপেক্ষা করছিলেন মৃত্যুর। ভাবতেও পারেননি, পরিস্থিতি বদলে যাবে ম্যাজিকের মতো। খাবার, পথ্য, ওষুধ তো বটেই সেই সঙ্গে স্বয়ং মা লক্ষ্মী আসবেন তাঁদের ঘরে!

আসানসোলের মহিশীলার বাসিন্দা দীপক ভট্টাচার্য এবং তাঁর পরিবারের যেন এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না সব কিছু। দীর্ঘদিন ধরে অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। আর সেই খবর ‘দ্য ওয়াল’-এ প্রকাশিত হওয়ার পরেই তাঁদের দিন যেন পাল্টে গেছে। চন্দ্রশেখর কুণ্ডু নামের এক সমাজসেবী খাবার নিয়ে ছুটে যান তাঁর বাড়ি।

এর পরে গোটা আসানসোলই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে জানতে পেরে। খাবার নিয়ে এসেছেন প্রচুর মানুষ। জামাকাপড় দিয়েছেন, চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। এবং সেই সঙ্গেই রবিবার দুপুরে সকলে মিলে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করলেন তাঁদের ঘরে।

মা লক্ষ্মী ধনের দেবী। তাঁর হাতেই নাকি রয়েছে আর্থিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। তাই লক্ষ্মীপুজোর ঠিক আগে আগেই দীপকবাবুর পরিবারের হাল ফেরার পরেই মা লক্ষ্মীর আরাধনা করার কথা ভেবেছে একটি সংগঠন। তারাই আয়োজন করেছে পুজোর সমস্ত কিছু।

গোটা বিষয়টিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলার শিবদাস চট্টোপাধ্যায়। আসানসোল দক্ষিণ থানার বড়বাবুও পাশে থেকেছেন আগাগোড়া। বি.বি কলেজের পড়ুয়ারা পাশে দাঁড়িয়েছেন দুঃস্থ পরিবারটির। সকাল থেকেই ওই বাড়ি ঝাড়পোঁছ করা শুরু হয়ে যায়। সন্ধ্যায় দীপকবাবুর ঘরে লক্ষ্মীপুজো করেন আসানসোলের একটি সংগঠন।

সংবাদমাধ্যমকে কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি আসানসোলের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দীপকবাবু। বলেছেন, “আমাদের জীবনের আশাই শেষ হয়ে গেছিল। কোনও দিন ভাবিনি আর খেতে পাব। সে জায়গায় এত কিছু যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। মা লক্ষ্মী এ বাড়িতে পা দেবেন, এ যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না।”

পড়ুন দ্য ওয়ালের পুজো সংখ্যার বিশেষ লেখা…

বাইকে চেপে পৃথিবীর ছাদ পামিরে

Comments are closed.