তিন বছরের কুকুরছানার মালিকানা নিয়ে জোর লড়াই, শেষমেশ ডিএনএ পরীক্ষা করল পুলিশ

৪০৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্পত্তির অধিকার নিয়ে একাধিক মালিকের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। একনকী গ্রামীন ভারতের কৃষকদের মধ্যে গরু-ছাগলের মালিকানা নিয়েও প্রায়ই সমস্যা হয়। কিন্তু এবার সমস্যার মূলে তিন বছর বয়সি ফুটফুটে এক কুকুরছানা। সে কার সম্পত্তি তাই নিয়ে বিবাদ এতই দূরে এগিয়েছে, যে শেষমেশ তার ডিএনএ টেস্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের হোসাঙ্গাবাদ এলাকার এই ঘটনায় শাদাব খান এবং কার্তিক শিভারে—দুজনেই দাবি করেছেন, কুকুরটি তাঁর।

শাদাব খানের অভিযোগ, কালো ল্যাব্রাডরটি হারিয়ে গেছিল। সেটিই আসলে কার্তিক শিভারে নিজের কাছে বন্দি করে রেখেছেন। তাঁর হারিয়ে যাওয়া ‘কোকো’ই হল এই কুকুরটি। কার্তিক সেটি চুরি করে বেচে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্টোদিকে কার্তিক ও তাঁর পরিবারের দাবি, এটা তাঁদের পোষা ‘টাইগার’। মোটেও শাদাব কানের কোকো নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অগস্ট মাসে হারিয়ে যাওয়া কোকোর জন্য নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছিলেন পেশায় সাংবাদিক শাদাব খান। বলাই বাহুল্য, সে ডায়েরি পেয়েও পুলিশ খুঁজে পায়নি কুকুরকে। সম্প্রতি শাদাব কান কার্তিক শিভারের বাড়িতে তাঁর কুকুরটিকে দেখেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু সে কথা মানতেই চাননি কার্তিক। তাঁর দাবি, এই কুকুরটি তিনি পুষেছেন।

শেষমেষ ১৮ নভেম্বর ফের পুলিসের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন শাদাব খান। পুলিশকে সব কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, কুকুরটির ডিএনএ টেস্ট করা হোক। ২০১৭ সালে পাঁচমারি থেকে তিনি কুকুরটি কিনে এনেছিলেন বলে জানান।

পরের দিনই আবার থানায় পৌঁছন কার্তিক। তিনি দাবি করেন, এ কুকুর তাঁরই। কয়েক সপ্তাহ আগে ইতারসি এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি কুকুরটি কেনেন।

শেষমেশ শুক্রবার কুকুরটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ডিএনএ টেস্টের জন্য তা ল্যাবেও পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ অফিসার হেমন্ত শর্মার কথায়, “তদন্ত চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এলেই আমরা আসল মালিকের কাছে কুকুরটিকে ফিরিয়ে দিতে পারব।”

মজার কথা হল, কোকো এবং টাইগার—এই দুই নামে ডাকলেই সে কুকুর দিব্য সাড়া দিচ্ছে। এমনকি দুই দাবিদারের সঙ্গেই তার আচরণ বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। কার দাবি ঠিক আর কারটা মিথ্যে, তা আপাত ভাবে বোঝার কোনও উপায় নেই। এখন ভরসা কেবল ডিএনএ রিপোর্টই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More