ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা― শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে আলোচনা অর্থমন্ত্রীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বড় নজরে রয়েছেন দেশের শ্রমিক শ্রেণি ও নিম্নবিত্ত মানুষরাই। বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।

    এদিন শ্রমিকদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শ্রম আইনের কথাও উল্লেখ করেন। নির্মলা সীতারমন জানান, শ্রম আইন সংস্কারের বিষয়টি সংসদের বিবেচনায় রয়েছে। সব শ্রমিক যাতে ন্যূনতম মজুরি পান, সে ব্যাপারে সরকার ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ ন্যূনতম মজুরি সার্বজনীন করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ৪৪টি শ্রম আইনের সমন্বয় ঘটিয়ে চারটি শ্রম কোডে পরিণত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরির ক্ষেত্রে দেশে আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে এখন। কেরলে এক রকম মজুরি হলে, বাংলায় তা আর এক রকম। এই তফাত দূর করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। কোনও বৈষম্যের বদলে জাতীয় স্তরে শ্রমিকদের একটি ফ্লোর রেট স্থির করতে চাইছে কেন্দ্র।

    পাশাপাশি নির্মলা জানান, এই সংশোধিত শ্রম আইনে কোনও ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিয়োগ করলে নিয়োগপত্র দিতেই হবে। বছরে অন্তত একবার তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে মালিক সংস্থাকে। কোনও সংস্থা মহিলাদের রাতে কাজ করালে তাঁদের নিরাপত্তার পুরো ব্যবস্থা করতে হবে।

    শুধু তাই নয়, ৮ কোটি পরিযায়ী শ্রমিককে বিনামূল্য খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হবে বলেও জানান নির্মলা। ৩৫০০ কোটি টাকা এই খাতে কেন্দ্র খরচ করবে বলে দাবি করেন।

    দু’দিন আগেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর কথা বলে ২০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই প্যাকেজের রূপরেখা কী হবে, কত টাকা কোন খাতে ব্যয় হবে, কোন ক্ষেত্রের মানুষ কতটা সুবিধা পাবেন– সেই দিকে তাকিয়ে কার্যত গোটা দেশ। গত কাল অর্থাৎ বুধবার বিকেলেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সাংবাদিক বৈঠক করে এই প্যাকেজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রাথমিক ভাবে। আজ, বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর দ্বিতীয় দফার আলোচনা ও সাংবাদিক বৈঠক।

    প্রথম দিনের বৈঠকে নির্মলা সীতারমন দেশের অর্থনীতিকে চাগিয়ে তুলতে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেও, নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের উপকার কী হল– এই প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছিল। অনেকে অভিযোগও করেছিলেন, গরিব মানুষের জন্য কিছুই নেই এই প্যাকেজে। কারণ সাধারণের কর্মসংস্থান, অর্থের জোগান বা পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে সরাসরি টাকা তুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছুই ঘোষণা হয়নি গতকাল। কিন্তু আজ সে খামতি পুষিয়ে দিলেন নির্মলা। এ দিনের বৈঠকে তিনি গরিবদের জন্য কার্যত কল্পতরু হয়ে ওঠেন।

    এদিন পরিযায়ী শ্রমিক, হকার, ক্ষুদ্র চাষি ও সাধারণের কর্মসংস্থানের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ ঘোষণা করেন নির্মলা। প্রথমেই জানিয়ে দেন, আজ যে ৯টি পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে তার মধ্যে তিনটি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে, একটি আদিবাসীদের কর্মসংস্থান নিয়ে, দু’টি পদক্ষেপ কৃষকদের নিয়ে, একটি স্ট্রিট ভেন্ডার ও দু’টি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More