রাজীবের লুকোচুরি নিয়ে তিন মারাত্মক প্রশ্ন কুণালের, আত্মগোপনে মিত্রশক্তি কি প্রশাসন?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এগারো দিন ধরে লুকোচুরি খেলা চলছে। আর তারই মধ্যে এবার প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। একই মামলার তদন্তে দীর্ঘ সময় জেল খেটেছেন কুণাল। সেই সময়ে গোয়েন্দার ভূমিকায় ছিলেন রাজীব কুমার। সেই সিট কর্তাই এখন পলাতক। আর তা নিয়েই এবার তিন প্রশ্ন কুণালের।

    রাজীবকুমার এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন? কেন তিনি প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন?

    যেভাবে আত্মগোপন, বড়সড় মিত্রশক্তি না থাকলে সম্ভব?

    মাননীয় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি- কোনো আত্মগোপনকারী আইপিএস আপনাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা পাচ্ছেন না তো?

    ফেসবুকে এই তিন প্রশ্ন তুলে অনেক ক্ষোভের কথাই লিখেছেন কুণাল। নিজের অতীত কথা লিখে কুণালের বক্তব্য, “যে রাজীবকুমার অ্যান্ড কোং ২০১৪ সালে বারবার আমাকে ডেকেছেন, আমি গেছি; যে রাজীবকুমার আমার বক্তব্য না শুনে পরিকল্পিত চিত্রনাট্যে আমাকেই কলঙ্কিত করে মামলার মালা পরিয়ে আমাকে ধ্বংস করে ইস্যু ধামাচাপার উন্মত্ত খেলায় মেতেছিলেন; যে রাজীবকুমারের তৈরি বেড়াজালে আমি আজও মামলাগুচ্ছে চরকি কাটছি; যে রাজীবকুমারের সৃষ্ট কাগজপত্রের জেরে আমি সিবিআই, ইডির থেকেও বেরোতে পারছি না; কোর্টের বিচারের লক্ষ্যে লড়াই করছি; সেই রাজীবকুমার এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন? কেন তিনি প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন?”

    এখানেই থামেননি কুণাল। তাঁর দাবি, নিশ্চয়ই কোনও মিত্রশক্তি রয়েছে রাজীবের। তাদের মদত ও প্রশ্রয়েই সিবিআইয়ের চোখে এড়িয়ে লুকিয়ে রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল। কুণাল লিখেছেন, “যেভাবে আত্মগোপন, বড়সড় মিত্রশক্তি না থাকলে সম্ভব? যদি সাধারণ কোনো ব্যক্তি উধাও থাকত, খোদ রাজীব কী করতেন? তার বাড়ির লোক, ঘনিষ্ঠরা ঘুমোতে পারত? সিবিআই কী করছে?”

    এর পরেই কুণাল ঘোষ টার্গেট করেছেন রাজ্য প্রশাসনকে। লিখেছেন, “মাননীয় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি- কোনও আত্মগোপনকারী আইপিএস আপনাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা পাচ্ছেন না তো?”

    রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের সমর্থন নিয়ে রাজীব কুমার লুকিয়ে আছেন এমন জল্পনা নতুন নয়। অনেকেই এমন সন্দেহ করছে। এমনকী সিবিআই কর্তারাও এটা ধরে নিয়েই তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে খবর। তবে কুণালই প্রথম এই সব প্রশ্ন সামনে আনলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখনও কুণাল তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য। তাই প্রাক্তন সাংসদের তোলা এই প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    রাজ্য প্রশাসন আগেই সিবিআইকে জানিয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজীব কুমার ছুটিতে আছেন। সেই কারণেই তাঁকে সিবিআই তলবে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে খবর, ইতিমধ্যেই রাজীব নাকি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়াতে আবেদন জানিয়েছেন। সেই বাড়তি ছুটি যদি সত্যিই মঞ্জুর হয় তবে রাজ্য প্রশাসন যে তাদের সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ তুলেছে সিবিআই তা আরও জোরালো হবে। কুণালের প্রশ্নে সেই অভিযোগ আগেই কিছুটা জোরালো হয়ে রইল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More