জলের অক্ষর পর্ব ৩

২৭১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

 

কুলদা রায়

মুনিনাগ রবিশঙ্কর বলের বাড়ি। কিন্তু কখনও মুনিনাগ যাননি। বছর দুই-তিন আগে বরিশাল গিয়েছিলেন। সঙ্গে কথাসাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী। ইচ্ছে ছিল মুনিনাগে যাবেন। মুনিনাগ নামে একটি গ্রাম তাঁরা খুঁজে পাননি।

তখন আমার রাত্রি নেমেছে। হাওয়া দিচ্ছে। বৃষ্টি হচ্ছে। শীত নেমেছে। গায়ের ভারী কোটটি খুলে বলি, মুনিনাগ গ্রাম খুঁজে পেতে হলে বরিশাল থেকে যেতে হবে স্বরূপকাঠিতে। বাসে করে মাধবপাশার দুর্গাসাগর পাশে রেখে যেতে হবে চাখার। তার আগে গুঠিয়ার বাজার। সেখানে গুড়ের সন্দেশ বিক্রি হয়। আরেকটু এগোলেই বানারীপাড়া। সন্ধ্যানদীর পশ্চিমপাড়ে বাইশারী গ্রামে। এখানে নট্টদের বাড়ি ছিল। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিক্টোরিয়া গল্পে বাইশারী আছে। সেখানে কৃষ্ণ পালা হচ্ছিল। তার মধ্যে এক অভিনেতা শুনলেন তার স্ত্রী আরেকটি মেয়ে প্রসব করেছেন। ভেবেছিলেন ছেলে হবে। তখন মহারানি ভিক্টোরিয়া রাজত্ব করছেন। মাথায় হিরে জহরতের মুকুট। জগতের সকল সুখ তার চোখে মুখে।

কিন্তু শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিক্টোরিয়ার দুঃখের শেষ নেই। স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছে। সেজন্য ভাইয়ের কাছে চলে এসেছে। ভাই থাকে খুলনা শহরে। ততোদিনে ভিক্টোরিয়ার কৃষ্ণের সন্ধানে চোখ আঁধার হয়ে গেছে। কৃষ্ণকে দিনের আলোতে পাওয়া যায় না। তাকে রাতে রাতে খুঁজতে হয়। কৃষ্ণ মানেই আঁধার। রাত্রি। দু:খময়।

রাত্রি বাড়ে। বাইরে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ ভেসে আসে। পেছনে পেছনে পুলিশের গাড়ি। আমার টেবিলে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় হাসি হাসি মুখ করে চেয়ে আছেন। মুখের বাঁ-দিকে ইংরেজিতে লেখা কুইন্স লাইব্রেরি, নিউ ইয়র্ক। এখান থেকে বাইশারী মেলা দূর। ঝিঁঝিট রাগে গান বাজে – কিছুই তো হল না , সেই সব সেই সব হাহাকার রব।

এই হা হা রবে আবার যাত্রা করি। বানারীপাড়া থেকে মোড় ঘুরে জম্বুদ্বীপ। এইখানে নদী ভেঙে গেছে। মাঠের মধ্যে দিয়ে নতুন পথ। সামনে শর্ষিণা। নেছারুদ্দিন পীরের মঞ্জিল। এই মঞ্জিলে একাত্তর সালে পাকবাহিনীর ঘাঁটি ছিল। এখানে মানুষ হত্যা করা হত। সেসব চিহ্ন নেই। সেখানে এখন নেছারিয়া মাদ্রাসা। এখানে বড় লঞ্চ থেমে আছে। যাবে হুলারহাট। জলের শব্দ শোনা যায়।

শর্ষিণার পরে যোগ চিহ্নের মতো দুটি নদী, চারটি বাজার গড়ে রেখেছে। একটি উত্তর পুবে স্বরূপকাঠি। দক্ষিণ পুবে জগন্নাথকাঠি। ওপারে উত্তরে মিয়ারহাট। দক্ষিণে কৌড়িখাড়া। গ্রামটি জলে ভেসে গেছে। নামটি পাখির মতো এখনও লেগে আছে।

(লেখক নিউইয়র্ক নিবাসী গল্পকার)

(স্কেচটি করেছেন তাজুল ইমাম)

পরের পর্ব আগামী  সংখ্যায়…

জলের অক্ষর পর্ব ২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More