Breaking: বিধাননগরের পরবর্তী মেয়র হচ্ছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, শিলমোহর মমতার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অটল বিহারী বাজপেয়ীর এক সময়ে খুব পছন্দের কথা ছিল, ‘ঠাণ্ডা করকে খাও!’
    দিদিও তাই করলেন। বিধাননগর নিয়ে পারস্পরিক টানাপোড়েন ও উত্তেজনার পারা নামার সময় দিলেন। তার পর সোমবার বিকেলে সেখানকার কাউন্সিলর-পর্যবেক্ষক এবং পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নবান্নে ডেকে জানিয়ে দিলেন, কৃষ্ণা চক্রবর্তীই হবেন বিধাননগরের পরবর্তী মেয়র পদ প্রার্থী।

    এর আগে সল্টলেক পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন দিদির বহুদিনের ছায়াসঙ্গী কৃষ্ণা। পরবর্তী কালে সল্টলেক ও রাজারহাট পুরসভা মিশিয়ে দিয়ে বিধাননগর পুর নিগম গঠনের পরেও তাঁকে চেয়ারম্যান করেছিলেন দিদি। মেয়র করা হয়েছিল সব্যসাচী দত্তকে। এ বার সব্যসাচীর বিদায়ের পর মেয়র পদে দলের পুরনো সৈনিককেই বেছে নিলেন মমতা।

    দ্য ওয়ালে গোড়া থেকে এই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। হলও তাই। তবে মেয়র নির্বাচন নিয়ে মাঝে কিছুটা সময় যে টানাপোড়েন চলেছে সেও বাস্তব। কখনও মেয়র পদের আকাঙ্খা নিয়ে অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়। কখনও বা দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু আকারে ইঙ্গিতে বোঝাতে চেয়েছেন তিনিও দৌড়ে রয়েছেন।

    তৃণমূলের একটি সূত্রের মতে, তাপস এবং সুজিত দু’জনেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। গোড়ায় তাপসকে সামনে রেখে সর্বসম্মতি গড়ে তোলার একটা চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দলের গরিষ্ঠ সংখ্যক কাউন্সিলর ববি হাকিমকে পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেন, তাপস মেয়র পদ প্রার্থী হলে তাঁদেরই কেউ আস্থা ভোটে প্রার্থী হয়ে যাবেন। এই অবস্থাতেই সুজিতের নাম ভেসে ওঠে। কিন্তু তাতেও আপত্তি করেন বহু কাউন্সিলর। তার মোদ্দা কারণ, সুজিত ও তাপস দু’জনেই প্রাক্তন সিপিএম নেতা। তা ছাড়া সুজিত বিধাননগর পুরসভার বাসিন্দাও নন। একমাত্র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর নামেই সর্বসম্মতি গড়ে উঠতে দেখা যায়। মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস জানা সহ কাউন্সিলরদের বড় অংশ জানিয়ে দেন, কৃষ্ণা মেয়র পদ প্রার্থী হলে তাঁদের আপত্তি নেই।

    তৃণমূল শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, আসলে দিদির মনে অন্য উদ্বেগও কাজ করছিল। হয়তো এখনও করছে। দিদি আশঙ্কা করছেন, সব্যসাচী মেয়র পদ ছেড়ে দিলেও হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। পুরবোর্ডকে অস্থির করে রাখার অনবরত চেষ্টা করতে পারেন তিনি। তাই মেয়র পদে এমন একজন প্রয়োজন যিনি সব্যসাচীকে মোকাবিলা করতে পারবেন। সেই হিসাবে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ যে রয়েছে সংশয় নেই।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যুব কংগ্রেসের নেত্রী তখন থেকেই তাঁর সঙ্গী কৃষ্ণা। তিনি নিজে বলেন, আমি ফ্রক পরা বয়স থেকে দিদির সঙ্গে রয়েছি। বিধাননগরের মেয়র পদে বসার জন্য তাঁর আগ্রহ যে রয়েছে সে ব্যাপারেও রাখঢাক করেননি তিনি। সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে কৃষ্ণা জানিয়ে দেন, “বিধাননগর পুর নিগম গঠনের সময়েই মেয়র হওয়ার আকাঙ্খা ছিল আমার। এখনও রয়েছে। তবে দিদি-র সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত”।

    শেষমেশ দিদিই সিদ্ধান্ত নিলেন কৃষ্ণার পক্ষে। এ দিন নবান্নে দিদি-র ডাকা বৈঠকে কৃষ্ণা, ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস জানা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর তৃণমূল সূত্রে বলা হয়, খুব শিগগির কাউন্সিলরদের বৈঠক ডাকা হবে। সেখানে পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত থাকবেন পুরমন্ত্রী। ওই বৈঠকে মেয়র প্রার্থী হিসাবে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর নাম সর্বসম্মত ভাবে প্রস্তাব করা হবে। তার পর আস্থা ভোটে জিতিয়ে আনা হবে কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More