ফেসবুকে বন্ধুত্ব! শহরের গৃহবধূকে ঠকিয়ে, ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে দিল্লি থেকে ধৃত নাইজেরিয় যুবক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওযাল ব্যুরো: শহরের তরুণীর বিশ্বাস অর্জন করে, ৯ লক্ষ টাকার প্রতারণা করে দিল্লি থেকে ধৃত নাইজেরিও যুবক! পুলিশ জানিয়েছে, একটি বড় প্রতারণা চক্রের সদস্য সেমিলি ডেভিড ওকেক নামের ওই যুবক। চক্রের আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

    ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয়েছিল তাঁদের। ফেসবুক থেকে মেসেঞ্জার, মেসেঞ্জার থেকে হোয়াটসঅ্যাপ। খুব তাড়াতাড়িই ঘনিষ্ঠ এবং গভীর ‘বন্ধু’ হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা একে অপরের। এক জন কলকাতা শহরের বাগুইআটি এলাকার গৃহবধূ এবং অন্য জন, নাইজেরিয়ার ২৪ বছরের যুবক সেমিলি ডেভিড ওকেক। খুব তাড়াতাড়িই ওই গৃহবধূর কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন ডেভিড।

    আর এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই তরুণীকে টোপ দেয় ডেভিড। ওই গৃহবধূকে দামী উপহারের ছবি দেখিয়ে, তা পাঠানোর কথা বলে। গত মার্চ মাসে উপহারের প্রতিশ্রুতি পেয়ে খুবই খুশি হয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু হঠাৎই একটি ফোন আসে। দাবি করা হয়, শুল্ক বিভাগ থেকে কথা বলা হচ্ছে। ওই বধূকে বলা হয়, তাঁর বন্ধুর পাঠানো দামী উপহার বাবদ ৯ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা মেটাতে হবে তাঁকে।

    প্রথমে একটু কিন্তু-কিন্তু করলেও, ডেভিডের প্রতি সরল বিশ্বাসে এবং এত দামি উপহারের শুল্কটুকু তাঁকে দিতে হতেই পারে– এই ভেবে টাকা পাঠিয়েও দেন তিনি। কিন্তু এর পরেই সমস্যার শুরু। ডেভিডের হোয়াটসঅ্যাপে ব্লকড হয়ে যান তিনি। ফেসবুকেও অস্তিত্ব নেই ডেভিডের প্রোফাইলের। যে নম্বর থেকে ফোন করে টাকা পাঠানোর কথা বলেছিল শুল্ক দফতর, অস্তিত্ব নেই সেই মোবাইলেরও। ওই মহিলা বুঝতে পারেন, প্রতারিত হয়েছেন তিনি। বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। জুলাই মাসের আট তারিখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    সেই তদন্তের জাল বিস্তার হয় বহু দূর। বুধবার দিল্লি থেকে ধরা পড়ে ২৪ বছরের ডেভিড। সে আদতে নাইজেরিয়ার আগুজার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দিল্লিতে পড়তে এলেও, প্রতারণা-চক্রের সঙ্গে যুক্ত সে। এভাবেই ফেসবুকে বন্ধুত্ব পাতিয়ে, গিফ্ট দেওয়ার কথা বলে, শুল্কের নামে টাকা আদায় করে ওই চক্র।

    এই তদন্তের সঙ্গে যোগসূত্র বেরিয়ে আসে, মাস দুয়েক আগে ধরা পড়া এক নাইজেরীয় ও ইম্ফলের এক বাসিন্দার। অন্য একটি প্রতারণা মামলায় ২৮ বছরের মামেলি লাংখাম নামে এক নাইজেরীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছিল এই দিল্লি থেকেই। ডেভিড ধরা পড়ার পরে স্বীকার করে, জালিয়াতির টাকা লেনদেনের জন্য মামেলির অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হত। টাকা আসত মণিপুরের ইম্ফলের বাসিন্দা ম্যারি কিমাং উইজোনামির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এই ম্যারিকেও গত মাসের ২৮ তারিখে গ্রেফতার করা হয়েছে আগেই।

    দিল্লি থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে শুক্রবার কলকাতা নিয়ে আসা হয় অভিযুক্ত ডেভিডকে। এ দিন তাকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এর আগে যত ঘটনায় নাইজেরিয়দের যোগ পাওয়া গেছে, প্রত্যেকটির সঙ্গেই এই চক্র জড়িয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More