কালীপুজোর রাতে কলকাতায় বাজির বলি এক শিশু-সহ দুই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজোর রাতে দু’টি পৃথক দুর্ঘটনায় বাজির বলি এক শিশু-সহ দু’জন। দু’টি ঘটনাই দক্ষিণ কলকাতার। পুরনো খোলের তুবড়ি বিক্রির অভিযোগ এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বেহালার বিদ্যাসাগর রোডে একসঙ্গেই বাজি পোড়াচ্ছিল বেশ কয়েকটি পরিবার। ছোটদের সঙ্গে বড়রাও ছিল। সেখানেই ছিল আদি দাস, তার বয়স ৫ বছর ২ মাস। তার বাবা কাজল দাস নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে কাজ করেন। তিনি বেহালার কাছে বিদ্যাসাগর রোডে একটি বাড়িতে বছর পাঁচেক ভাড়া রয়েছেন। সন্ধ্যা ৭টা২০ নাগাদ বিকট শব্দে একটি তুবড়ি ফেটে যায়। তারই একটি টুকরো ছিটকে গিয়ে লাগে আদির গলায়। স্থানীয় বাসিন্দা বুলা দাসের বাড়ির সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    বুলা বলেন, “বাড়িতে পুজো করছিলাম। বিকট আওয়াজ শুনে বেরিয়ে দেখি রক্তে ভেসে যাচ্ছে আদি।” আদির ঠাকুমা ও পিসিও সঙ্গে ছিলেন। তুবড়ির খোলের টুকরো গিয়ে গেঁথে যায় আদির কণ্ঠনালিতে। রক্তক্ষরণ হয়। কিছুক্ষণর মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা প্রসাদ দত্ত রায়ের মেয়ে বছর পাঁচেকের রিতিশা। তার চোখের পাশে তুবড়ির টুকরো লাগে।

    ঋতিশা বলে, “আমরা বাজি পোড়ানো দেখছিলাম। তুবড়ি ফেটে গেল। আমার মাথায় লাগল। আর আদির গলা ফুটো হয়ে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছিল।”

    ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছে ঋতিশা।

    প্রত্যক্ষদর্শী শুভঙ্কর পাত্র বলেন, আমি আদিকে কোলে তুলে নিয়ে ছুটতে থাকি। কয়েকবার চিৎকার করে আমার কোলে নেতিয়ে পড়ল। অঝোরে রক্ত বের হচ্ছিল। হাসপাতালে যখন পৌঁছলাম, ডাক্তার বললেন মারা গিয়েছে।” কাঁদতে থাকেন শুভঙ্কর। পাড়ার পুজো থমকে।

    বাজির বলি সদ্য পাঁচ পার হওয়া আদি।

    এই ঘটনায় বরুণ রায় নামে এক বাজি বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। পেশায় মাছ বিক্রেতা বরুণ এবার বাজি বিক্রি করছিলেন। অভিযোগ, পুরোনো তুবড়ি বিক্রি করেছেন বরুণ, সেই কারণেই বিস্ফোরণ।

    ঠিক একই ভাবে কসবাতেও মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর।কালীপুজোর রাতে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বাজি পোড়াচ্ছিলেন দীপ কোলে। আচমকাই ফেটে যায় তুবড়ি। তার একটি অংশ দীপের গলায় ঢুকে যায়।  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় অবশ্য দীপের পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

    কালীপুজোর রাতে বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। বেলা ১১টা নাগাদ বালক দত্ত রোডে একটি কারখানায় আগুন লাগে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকলের একটি ইঞ্জিন। রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ বড়বাজারে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। সাড়ে বারোটার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। সরশুনায় ভোর চারটে নাগাদ একটি একতলা বাড়ির রান্নাঘরে আগুন লাগে। দমকলের একটি ইঞ্জিন আধ ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্পশয্যা উত্তোলন

    শয্যা উত্তোলন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More