সোমবার, অক্টোবর ১৪

৭৫ জনের থেকে ৪০ কোটি টাকা নিয়ে রাতারাতি বন্ধ ভ্রমণ সংস্থা কক্স অ্যান্ড কিংস! দায়ের প্রতারণার অভিযোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো মানেই ছুটি, আর ছুটি মানেই বাঙালিদের একটা বড় অংশের কাছে ঘুরতে যাওয়া। পুজোর বেশ কিছু দিন আগে থেকেই তাই ভ্রমণ সংস্থাগুলিও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নজরকাড়া বিজ্ঞাপনে জাগিয়ে তোলে ভ্রমণপিপাসু বাঙালির খিদে। আকর্ষণীয় অফারে হাতছানি দেয় সারা বিশ্বের নানা লোভনীয় জায়গা। সেই রকমই নানা জায়গায় ভ্রমণের লোভ দেখিয়ে, চল্লিশ কোটি টাকা প্রতারণার  অভিযোগ উঠল ভ্রমণ সংস্থা কক্স অ্যান্ড কিংস-এর বিরুদ্ধে।

রাসেল স্ট্রিটের ওই ভ্রমণ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতি বছরের মতোই পুজোর ছুটিতে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বিজ্ঞাপন দেয় ওই সংস্থা। তালিকায় ছিল ইউরোপ, আমেরিকা থেকে শুরু করে মিশর, চিন, ব্যাংকক। দেশের মধ্যে আন্দামান বা গোয়ার মতো বিভিন্ন জায়গাও তালিকায় ছিল তাদের।

স্বাভাবিক ভাবেই নাম লেখান বহু ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি। সম্প্রতি, এ শহরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে থমাস কুক। ফলে রাসেল স্ট্রিটের নামকরা এই সংস্থা কক্স অ্যান্ড কিংস-এ ভিড় তাই অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশিই ছিল। আগাম বুকিং করতে আসা কাস্টমারদের বলা হয়, যাতায়াত, খাওয়াদাওয়া, থাকার পুরো ব্যবস্থাই করা হবে সংস্থার তরফে। কিন্তু তার বদলে পুরো টাকাটাই আগাম দিতে হবে।

সেই মতোই টাকা জমা দেন বহু মানুষ। কিন্তু মুশকিল হয় তার পরে। বেড়াতে যাওয়ার দিন ক্রমে এগিয়ে এলেও না মেলে টিকিট, না মেলে কোনও বুকিংয়ের কাগজ। অনেকেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন সংস্থার সঙ্গে, কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর মেলে না। বলা হয়, সব প্রস্তুতি হচ্ছে, চিন্তা না করতে। কোনও অসুবিধা হবে না। এক সময়ে ফোন ধরা বন্ধ করে দেয় ওই সংস্থা।

এর পরে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস বন্ধ। অফিসের লোকজনও সব উধাও! বেলঘরিয়ার বি টি রোডের বাসিন্দা ক্যামেলিয়া দত্ত পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বিদেশে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ওই সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংস্থার কর্ণধার ও কর্মীরা তাঁর কাছ থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকা নেন। কিন্তু সংস্থার তরফে কিছুই দেওয়া হয়নি তাঁদের। এক সময়ে অফিসে গিয়ে দেখেন, কর্মকর্তারা উধাও।

ওই মহিলা একা নন। দেখা যায়, একই কারণে ওই সংস্থার অফিসে ভিড়ে করেছে বহু মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, কম করে ৭৫ জনের কাছ থেকে ৪০ কোটি টাকা প্রতারণা করে পালিয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা। প্রতারণায় অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তাদের উদ্দেশে খোঁজ চলছে।

পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে, ওই সংস্থা গত তিন মাস ধরে দু’হাজার কর্মীকে বেতনও দিতে পারেনি। শেষমেশ তাদের জোর করে ইস্তফা দিতে বলা হয়। কিন্তু এ সব কিছুই জানতে পারেননি কাস্টমাররা। ফলে তাঁরা বিশ্বাস করেই আগাম টাকা দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। এখন কী ভাবে এত টাকা উদ্ধার হবে, তাই নিয়েই পুজোর মরসুমে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রতারিতরা।

Comments are closed.