তিন জনের মধ্যে সন্তানের বাবা কে, রাতভর দীর্ঘ জেরা করতে হল সদ্যপ্রসূতিকে! তবু কাটল না জট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবে পৃথিবীর আলো দেখেছে একরত্তি সন্তান। কিন্তু তাকে ঘিরেই তোলপাড় হয়ে গেছে হাসপাতাল, থানা, সংবাদমাধ্যম! কারণ সেই সন্তানের পিতৃত্বের দাবি নিয়ে এসেছে তিন তিন জন! হাসপাতালে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে গেছে তার পর থেকে, সামাল দিতে হিমসিম অবস্থা পুলিশের। শেষমেশ সদ্যপ্রসূতি মাকে ম্যারাথন জেরা করতে হল পুলিশকে! শেষমেশ সোমবার রাত ভর চলা জেরায় সন্তানের মা স্বপ্না মিত্র বয়ান দিয়েছেন, তাঁর স্বামী হর্ষ ছেত্রীই সন্তানের বাবা।

    শনিবার বিকেলে হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ২১ বছরের স্বপ্না মিত্রকে নিয়ে গাঙ্গুলিবাগানের আইরিশ হাসপাতালে আসেন দীপঙ্কর পাল। নিজেকে স্বপ্নার স্বামী বলে পরিচয় দিয়ে গর্ভবতী স্বপ্নাকে সেখানে ভর্তি করেন তিনি। হাসপাতালের বিলেও স্বামী হিসেবে লেখা হয় দীপঙ্করের নাম। স্থানীয় রবীন্দ্রপল্লির বাসিন্দা এই দীপঙ্কর। রবিবার অস্ত্রোপচার করে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন স্বপ্না।

    আর গোল বাধে তার পরেই।

    রবিবার সকালে হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন নিউটাউনের ভিস্তা গার্ডেনের বাসিন্দা হর্ষ ছেত্রী। তিনি এসে বলেন, তিনিই স্বপ্নার স্বামী, তিনিই ওই সন্তানের বাবা। এ কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা যে ঘরে মেয়েকে নিয়ে স্বপ্না ভর্তি আছেন, সেই ঘরের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও।

    এখানেই শেষ নয়।

    সোমবার সন্ধেবেলা ফের প্রদীপ রায় বলে এক ব্যক্তি এসে দাবি করেন, তিনিই নাকি স্বপ্নার ওই সন্তানের বাবা। মঙ্গলবার তিনিও ‘লোক নিয়ে আসবেন’ বলে বেরিয়ে যান।

    ইতিমধ্যেই নেতাজীনগর থানায় গিয়ে প্রদীপ ও দীপঙ্করের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেন হর্ষ ছেত্রী। পুলিশের তরফে ফোন করা হয় হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পুলিশ যা বলবে তাই করা হবে। এই ব্যাপারে তাঁরা কিছু বলতে পারবেন না। তাঁরা শুধু চিকিৎসার ব্যাপারটাই দেখবেন। কে আসল বাবা তা ঠিক করুক পুলিশ।

    শেষমেষ সোমবার মধ্যরাতে গাঙ্গুল বাগানের ওই বেসরকারি হাসপাতালে আচমকাই হাজির হয় নেতাজিনগর থানার পুলিশ। স্বপ্নাকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয় রাতেই। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক ভাবে তিনি স্বীকার করেছেন, যে তিনি হর্ষ ছেত্রীকে বিয়ে করেছেন। স্বপ্না এ-ও জানান, হর্ষই তাঁর সন্তানের বাবা।

    এর পরে পুলিশ হর্ষর দাখিল করা ম্যারেজ সার্টিফিকেট এবং স্বপ্নার দেওয়া ব্যক্তিগত বয়ানের ভিত্তিতে হাসপাতালকে জানায়, হর্ষ ছেত্রীর নামেই সন্তানের নথি তৈরি করার জন্য। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে এক আধিকারিক জানান, “সুস্থ ভাবে সন্তানের জন্মগ্রহণ করানো এবং মা ও শিশুর সুরক্ষাই আমাদের প্রথম ও শেষ কাজ। বাবার পরিচয় নির্ধারণ করা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তাই আমরা পুলিশের নির্দেশ মতোই কাজ করব।”

    পুলিশের কথামতো হর্ষ ছেত্রীর নামে নথি তৈরিও করতে শুরু করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ফের শুরু হয় সমস্যা।মঙ্গলবার সকালে সন্তানের তৃতীয় দাবিদার বাবা প্রদীপ রায় পুলিশকে ও হাসপাতালকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তিনিও নাকি কাগজপত্র দাখিল করবেন তাঁর পিতৃত্বের অধিকারের সপক্ষে। তার আগে যেন হাসপাতাল কোনও চূড়ান্ত নথি না তৈরি করে।

    ফের মহা ফাঁপরে পড়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পিতৃত্বের এই জটিল জট কী ভাবে কাটবে, তা নিয়ে কোনও আলো দেখতে পাননি তদন্তকারীরা। তবে সূত্রের খবর, সমস্যার সমাধান করতে সদ্যোজাত শিশুর ডিএনএ টেস্ট করা হতে পারে। সেটাই শেষতম উপায় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও।

    এ সব কিছুর মধ্যে ভাল খবর একটাই, সুস্থ আছে সেই সদ্যোজাত শিশু। যদিও সদ্যপ্রসূতি মা স্বপ্না মিত্র বেশ কাহিল হয়ে পড়েছেন এই জটিলতার চাপে। স্পেশ্যাল কেয়ারে চিকিৎসা চলছে তাঁর।

    আরও পড়ুন…

    জন্ম নিল এক সন্তান, দাবিদার তিন বাবা, হাসপাতালে ধুন্ধুমার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More