অসহায় বহু রোগী, মেডিক্যাল কলেজে কোভিড ছাড়াও অন্য সব পরিষেবা চালু করার সুপারিশ জুনিয়র চিকিৎসকদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে।  এই পরিস্থিতিতে বন্ধ রাখতে হয়েছে হাসপাতালের দৈনন্দিন আউটডোর পরিষেবা, স্পেশ্যালিটি ক্লিনিক, কেমোথেরাপি, ডে কেয়ার সার্ভিস, অপারেশন, ডায়ালিসিস ইউনিট, ব্লাড ব্যাঙ্ক পরিষেবা, ফার্মাসি, সিটি, ইউএসজি, ব্রঙ্কোস্কোপি ইত্যাদি নানা সুবিধা। করোনা-সাসপেক্ট এবং করোনা-পজিটিভ রোগীদের ভর্তি করার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে গিয়েই এই সিদ্ধান্ত।

তবে এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে পারে না, কারণ এর ফলে চরম বিপদে পড়ছেন অন্যান্য কঠিন অসুখে আক্রান্ত রোগীরা। এমনই অভিযোগ তুলে নিয়মিত আউটডোর-ইনডোর পরিষেবা, ল্যাবরেটরি, ইমেজিং পরিষেবা ফের চালু করার দাবি জানালেন হাসপাতালের ইন্টার্ন, হাউসস্টাফ, পিজিটি, পিডিটি-রা। এই অবস্থার ফলে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কেরও অবনতি ঘটছে, এমনটাই জানিয়ে রবিবার বিকেলে একটি প্রেস বিবৃতিও জারি করেন তাঁরা।

জানান, হাসপাতালে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৫০০টি শয্যা অনুমোদিত হয়েছে, এবং নির্দিষ্ট বিল্ডিংগুলিতে ২৪ ঘন্টাই রেসিডেন্ট-ইন্টার্ন-প্রফেসরদের ডিউটি থাকছে। ভবিষ্যতে অনুমোদিত শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের বিপদের আশঙ্কা সত্যি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

প্রেস বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য বহু রোগীরা যথেষ্ট অসুবিধায় পড়েছেন। যাঁরা পরীক্ষানিরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাঁরা ভরসা হারাচ্ছেন চিকিৎসকদের উপর। ফলে ডাক্তার-রোগীর মধ্যেকার সম্পর্কে প্রভাব পড়ছে।

দৈনন্দিন অপারেশন থেকে শুরু করে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, আউটডোর পরিষেবা, বিনামূল্যের এক্সরে/এমআরআই/ইউএসজি পরিষেবা, ব্লাড ব্যাঙ্ক ও প্যাথোলজি পরিষেবা, এমার্জেন্সি পরিষেবা–  সবকিছুই প্রচণ্ডভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য কয়েকটি উদাহরণের কথাও উল্লেখ করেন তাঁরা। লেখেন, ইঞ্জেকশন নিতে না পেরে, বিনামূল্যে ওষুধ কিনতে না পেরে, রক্ত না পেয়ে, ক্যানসারের অপারেশন না করাতে পেরে, রেডিওথেরাপি না পেয়ে, প্রসূতি পরিষেবা, লিউকেমিয়া-লিম্ফোমার চিকিৎসা, বিশেষ ধরণের সার্জারি, হার্টের চিকিৎসা, এইডসের চিকিৎসা, টিবির ওষুধ, টীকা– এসবের অভাবে তাঁরা এখন অসহায়।

প্রত্যেকটি মেডিক্যাল কলেজের মতোই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতলও রোজ বিপুল সংখ্যক রোগীকে পরিষেবা দিত। কিন্তপ মেডিক্যাল কলেজকে শুধুমাত্র কোভিড রোগীদের জন্য নিবেদিত পরিষেবা কেন্দ্রে পরিণত করা হওয়ায় এই লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে বহু অন্য রোগীর ফলো আপ চিকিৎসা এবং পরিষেবা পেতে যথেষ্ট অসুবিধা ভোগ করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে মুশকিলের বিষয় হল, এই পরিস্থিতিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা অসহায়। মেডিক্যাল কলেজে সবমিলিয়ে ১২০০ জন ডাক্তারি ছাত্র, ২৫০ জন ইন্টার্ন, ৫০ জন হাউসস্টাফ, ৬০০ পিজিটি, ৬০ জন পোস্ট ডক্টরাল ট্রেনি রয়েছেন। নন-কোভিড পরিষেবা স্তব্ধ করার  ফলে তাঁদেরও যথাযথ প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে, যে প্রশিক্ষণ তাঁদের কোর্সে অতিপ্রয়োজনীয়। অতিমারী-পরবর্তী সমাজের বৃহত্তর স্বার্থেই তাঁদের প্রশিক্ষিক হওয়া জরুরি ছিল।

তাঁদের অভিযোগ, “একদিকে দেশ যখন স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে আমরা তখন শুধুমাত্র কোভিড রোগীদের চিকিৎসাতেই আবদ্ধ থেকে বাকি সমস্ত রোগীদের চিকিৎসা না করতে পেরে এক পদক্ষেপ পিছিয়ে যাচ্ছি। নিয়মিত নন-কোভিড রোগীদের ভর্তি পুনরায় শুরু না করার ফলে হাজার হাজার রোগীর ‘জীবনের অধিকার’ ব্যাহত হচ্ছে।”

তাঁরা আরও জানিয়েছেন, এ বি।য়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করলেও তা শোনা হয়নি এবং নিয়মিত রোগীদের দুরবস্থা সম্পর্কে নির্বিকার থেকেছেন কর্তৃপক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল কলেজ কলকাতার রেসিডেন্ট ও ইন্টার্নরা সরকারের কাছে আবেদন করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কলেজ কর্তৃপক্ষের এই হাসপাতালকে ‘কোভিড এক্সক্লুসিভ হাসপাতাল’-এ পরিণত করে হাজার হাজার নন-কোভিড রোগীকে বিনামূল্যে সহজলভ্য চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের বদল ঘটানো হোক।

তবে কোভিড-১৯ মহামারীর চিকিৎসায় লড়াই করতে তাঁধের কোনও সমস্যা নেই বলেও খোলসা করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁরা বলেন, “এই পরিস্থিতিতে সামনে থেকে লড়াই করার সুযোগ পেয়ে আমরা গর্ববোধ করি। আমরা সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি, শেষপর্যন্তও তাই থাকব। কিন্তু অনুগ্রহ করে আমাদের বক্তব্য শুনুন, কারণ আমরা রোগীদের অসুবিধা এবং দুর্দশার কথাই তুলে ধরছি, যাঁরা স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে একইরকম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More