রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

ফের মধ্য রাতে অঙ্গ প্রতিস্থাপন শহরে, এই মাসে অঙ্গদানের সংখ্যা সর্বোচ্চ রাজ্যে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অঙ্গদানের দৃষ্টান্ত স্থাপনে ক্রমেই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে শহর কলকাতা। রবিবার সন্ধ্যায় ফের একটি অঙ্গদানের ঘটনা ঘটল বাইপাসের মেডিকা হাসপাতালে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃতা শেলী দে-র পরিবারের সম্মতিতে গ্রহণ করা হল তাঁর লিভার ও চোখ। অসুস্থতার কারণে হার্ট এবং কিডনি নেওয়া যায়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্ট মাসে সর্বাধিক অঙ্গদানের ঘটনা ঘটেছে এ রাজ্যে।

৬১ বছরের শেলী দে-কে ২৩ তারিখ মেডিকায় ভর্তি করা হয় মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে। তাঁর মস্তিষ্কও কাজ করছিল না ঠিক মতো। অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন তিনি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, মস্তিষ্কে প্রবল রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাঁর। ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও, ২৪ তারিখ রাতেই মস্তিষ্কের মৃত্যু হয় তাঁর।

এর পরেই শেলী দেবীর পরিবারকে অঙ্গদানের প্রস্তাব দেওয়া হয় হাসপাতালের তরফে। তাঁরা রাজি হয়ে যান আলোচনার পরে। তখনই খবর যায় স্বাস্থ্য ভাবনে। নিয়ম মেনে রবিবার সন্ধ্যায় শেলী দে-র ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয় সরকারি ভাবে। এর পরে সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ শুরু হয় হারভেস্টিং অর্থাৎ অঙ্গ সংগ্রহের কাজ। জানা গেছে, কাছেই আরএন টেগোর হাসপাতালে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে। চোখের কর্নিয়া সংগ্রহ করেছে শংকর নেত্রালয়।

মেডিকার চেয়ারম্যান অলোক রায় বলেন, “আমরা অঙ্গদানের ব্যাপারে সব সময়েই উৎসাহিত করি মৃতের পরিবারের সদস্যদের। ইদানীং সচেতনতা অনেক বেড়েছে। রাজ্য সরকারকে এ জন্য ধন্যবাদ। মৃতের পরিবারের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ, তাঁদের সহযোগিতার জন্য।”

আরএন টেগোর হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, মেডিকায় মৃত প্রৌঢ়া শেলী দে-র লিভার সংগ্রহ করে তাদের হাসপাতালে আসামাত্রই জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয়েছে প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি। ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, ৬২ বছরের এক প্রৌঢ়ের শরীরে বসানো হবে লিভারটি। দু’বছর ধরে লিভারের দুরারোগ্য অসুখে ভোগার পরে প্রতিস্থাপন হতে চলেছে তাঁর।

গভীর রাতেও অস্ত্রোপচার চলছে বলে খবর মিলেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, এর আগে হার্ট ও কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হলেও, আরএন টেগোরে এই প্রথম কোনও লিভার প্রতিস্থাপন হচ্ছে।

Share.

Comments are closed.