শনিবার, অক্টোবর ১৯

জগন্নাথদেবের হাত নেই কেন, সনাতন বিশ্বাসে রয়েছে এক রহস্যময় কাহিনি

অনির্বাণ

জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। তিন দেবতারই হাত নেই। কিন্তু এমন কেন? বাকি দেবতাদের মূর্তিতে একাধিক হাত থাকলেও কেন এমন রূপ কৃষ্ণ অবতার জগন্নাথের।

হিন্দু ধর্মের অন্যান্য দেবতাদের মূর্তি বা প্রতিমার সঙ্গে আরও অনেক ফারাক রয়েছে জগন্নাথের বিগ্রহের। সাধারণত দেবতাদের বিগ্রহ হয় সোনা, রুপো, তামা কিংবা বিভিন্নরকম ধাতুর। মাটির মূর্তিতো হয়ই। কিন্তু কিন্তু একমাত্র জগন্নাথের বিগ্রহ তৈরি হয় নিম কাঠ দিয়ে। বিগ্রহের রূপও বড় বিচিত্র। চৌকো মাথা, বড় বড় চোখ এবং অসম্পূর্ণ হাত। জগন্নাথের এই হাতের পিছনে অনেক কাহিনি শোনা যায়। তার মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত কাহিনিতে রয়েছে বিশ্বকর্মার কথা। তাঁর শর্ত ভেঙে ফেলাতেই যত কাণ্ড।

কী সেই কাহিনি?

রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ভগবান বিষ্ণুর মন্দির তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিগ্রহের কেমন রূপ দেবেন তা ঠিক করতে না পেরে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার কাছে সমস্যার কথা জানান। এর পরে ভগবান ব্রহ্মা ইন্দ্রদ্যুম্নকে বলেন, ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করে তাঁর কাছ থেকেই জেনে নিতে হবে, তিনি কেমন রূপে পুজো চাইছেন। ব্রহ্মার নির্দেশ মতো রাজা ইন্দ্রদুম্ন ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান শুরু করেন।

ধ্যানে বসেন রাজা। ভগবান বিষ্ণু রাজাকে জানান যে, পুরীর কাছে একটি কাঠের টুকরো ভেসে যাচ্ছে। সেই কাঠের টুকরো দিয়ে তাঁর বিগ্রহ তৈরি করতে হবে। স্বপ্নাদেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজা সেই জায়গায় দ্রুত যান। দেখতে পান সত্যিই একটি কাঠের টুকরো ভেসে যাচ্ছে। সেটি তুলে নিয়ে এসে তিনি শিল্পীকে দিয়ে বিগ্রহ তৈরি করানোর কাজ শুরু করেন। কিন্তু যতবারই শিল্পী কাঠের টুকরোটি কাটতে যাচ্ছেন, ততবারই সেটি এমন ভাবে ভেঙে যায় যে মূর্তি বানানো সম্ভব হয় না।

চিন্তায় পড়ে যান রাজা। তখন দেবতা বিশ্বকর্মা সাহায্যের হাত বাড়ান কিন্তু সেই সঙ্গে শর্ত দেন, তিনি যখন কাজ করবেন তাঁকে মোটেও বিরক্ত করা চলবে না। রাজা সেই শর্তে রাজি হয়ে যান। একটি বন্ধ ঘরের মধ্যে বিশ্বকর্মাও বিগ্রহ তৈরির কাজ শুরু করেন। দু- সপ্তাহ পরে একদিন সেই বন্ধ ঘর থেকে কোনও আওয়াজ না আসায় চিন্তিত হয়ে পড়েন রাজা। এর পরে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের স্ত্রীর পরামর্শে ঘরের ভিতরে ঢোকেন। ঘরে ঢুকে দেখেন, সেখানে বিশ্বকর্মা নেই। শুধু অসম্পূর্ণ বিগ্রহ রয়েছে। রাজা বুঝতে পারেন বিশ্বকর্মার আদেশ অমান্য করার জন্যই এমনটা হয়েছে।

রাজা অনুতাপ করতে থাকেন আর তখনই দৈববাণী হয়। ভগবান বিষ্ণুই দৈববাণী করে বলেন, যে আকৃতির বিগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাই যেন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভগবান বিষ্ণুর আদেশ মতো রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সেই বিগ্রহই প্রতিষ্ঠা করেন। সেই শুরু। এর পর জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার হাত-হীন অসম্পূর্ণ বিগ্রহের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে।

Comments are closed.