গিলের দাপুটে ব্যাটিংয়ে দুরন্ত জয় কেকেআরের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

বরাবরই সুন্দর আত্মবিশ্বাস। দেশের অনেক বিশেষজ্ঞদের মতো আমিও মনে করি শুভমান গিল যদি সেরা ফর্মে থাকে, তা হলে বিপক্ষ দল সমস্যায় পড়বে। সেটাই আরও একবার প্রমাণিত হল শনিবার আবুধাবির ম্যাচে। এই ক্রিকেটারটি দারুণ প্রতিভাবান, হাতে অনেক শট রয়েছে। শটের ফুলঝুরি বলতে যা বোঝায়, তাই রয়েছে।
নারিন যখন ফের ব্যর্থ হল, সেইসময় গিল এত দায়িত্ব ব্যাটিং করল, সেখানেই ম্যাচের ফারাক গড়া হয়ে গিয়েছে। গিলের ব্যাট থেকে এসেছে ৬২ বলে ৭০ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি চার ও দুটি বিশাল জয়। কেকেআরের প্রথম জয়ও অত্যন্ত মসৃণ, সাত উইকেটের ব্যবধানে দুরমুশ করল হায়দরাবাদকে।
আমার অবাক লাগছে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাটিং অর্ডারের সিদ্ধান্তে। নারিনের পরিবর্তে দীনেশ কার্তিক কেন ওপেন করছে না, অবাক হয়ে যাচ্ছি। কার্তিক যা খেলছে, পরের ম্যাচে ওর জায়গা নিশ্চিত কিনা জানি না। নিজে চারে নামছে, আর দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে ঠেলে দিচ্ছে ছয় নম্বরে। আন্দ্রে রাসেল শেষ চার ওভারে কখনই সফল হবে না, কারণ রাসেল টাইম প্রেসারে পড়ে যায়।

রাসেল তিনে নামুক, আর কার্তিক ওপেন করুক। দলের চেহারাই বদলে যাবে, আমি আগেরদিনই লিখেছিলাম, আজও তাই বলছি। নীতিশ রানাকে সেইসময় চারে নামালে সমস্যা হবে না। রানা এদিন তিনে নেমে করল ১৩ বলে ২৬, ওর নামের প্রতি সুবিচার রেখেই, ইনিংসে ছিল ছয়টি বাউন্ডারি।
নাইট দলে অবশ্য সম্পদ রয়েছে, সে অবশ্যই ইয়ন মরগ্যান। এবারের বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক, মরগ্যানের দেহের ভাষায় অদ্ভুতরকমের একটা ইতিবাচক ব্যাপার রয়েছে, দলের মধ্যে সেটি ছড়িয়ে দিতে পারে। এদিনও তাই করল। ২৯ বলে ৪২ রানের হার না মানা ইনিংসে রয়েছে ৩টি চার, দুটি ছক্কা। ব্যাটিং করার সময় এমনভাবে গিলকে উদীপ্ত করে গেল, তাতেই বাজিমাত।

হায়দরাবাদ টিমের আবার অন্য সমস্যা। যেদিন ওয়ার্নার ও বেয়ারস্টো ভাল শুরু করবে, পুরো দল ভাল খেলবে। আর ওরা রান না পেলে বাকি ব্যাটসম্যানরাও মুথ থুবড়ে পড়বে। ওয়ার্নার তাও ভাল শুরু করেছিল, ওর ব্যাট থেকে এসেছে ৩০ বলে ৩৬ রান, যার মধ্যে ২টি চার ও একটি ছয়। পাশাপাশি বেয়ারস্টো পাঁচ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পরে কার্যত হায়দরাবাদ দলকে টানলো মনীশ পান্ডে ও ঋদ্ধিমান সাহা।

আইপিএলে বরাবরই সফল মনীশ, ওর ব্যাট থেকে দুরন্ত একটা ইনিংস দেখলাম। ৩৮ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলল মনীশ। তবে ঋদ্ধিমান একটু চালালে ভাল করত। হাতে উইকেট ছিল, কিন্তু তা না করে স্ট্রাইক রোটেড করেছে ঠিকই, কিন্তু এই ধরনের ক্রিকেটে দলের রানকে টানতে গেলে তোমায় একটু ঝুঁকি নিতেই হবে।

ঋদ্ধির ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ বলে ৩০, যা কখনই টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটের ব্যাটিং নয়। এও অনেকে বলবেন ঋদ্ধির পরে তেমন ব্যাটসম্যান কোথায়। সেটিও মানা গেল, কিন্তু হাতে যখন আট উইকেট ছিল, সেইসময় শেষ পাঁচ ওভারে চালালে দলের রান ১৬০ হয়ে যেত। যেটি লড়াইয়ের পক্ষে ঠিকঠাক হতো।

যদিও নাইট রাইডার্স দলটির মধ্যে দারুণ এক ইতিবাচক মানসিকতা দেখলাম। দলগঠন থেকে শুরু করে দলের বোলিং ও ফিল্ডিং বেশ ভাল লেগেছে। একেবারে সঠিক কৌশল নিয়ে দলকে পরিচালনা করেছে দীনেশ কার্তিক। আমি বরাবরই বলে এসেছি দলের সেরা তারকাদের আগে ব্যবহার করো এই ধরনের ক্রিকেটে। ঠিক সেই ভাবেই বোলিং ওপেন করে সফল সুনীল নারিন। চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে কোনও উইকেট না পেলেও একটা দিকের রানকে চেক করে রেখেছিল।
দলের মোট সাত বোলারকেই সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছে কেকেআর ক্যাপ্টেন। কামিন্স থেকে শুরু করে বরুণ চক্রবর্তী তো অসাধারণ। গোপন তাসকে ব্যবহার করেছে শেষমেশ। বরুণের মতো রিস্ট স্পিনারকে খেলা সবসময় চাপের। আবুধাবির এই পিচে ঠিকমতো বল পড়ে ব্যাটে আসে না, সেই উইকেটে কুলদীপ-বরুণরা সোনা ফলায়।
ব্যাটিংয়ে যেমন সোনা ফলাল গিল-মরগ্যানরা। বোলিং, ফিল্ডিং ও ব্যাটিংয়ে সবদিক থেকেই নাইটরা আজ তাদের মতো খেলেছে। এই জয়টাই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। গ্যালারি ভরা থাকলে সেই হর্ষধ্বনি উঠতই, কেকেআর, কেকেআর…।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ২০ ওভারে ১৪২/৪। মনীশ ৫১, ওয়ার্নার ৩৬, ঋদ্ধিমান ৩০। কলকাতা নাইট রাইডার্স : ১৪৫/৩। শুভমান গিল ৭০, মরগ্যান ৪২।
কেকেআর জয়ী ৭ উইকেটে (১২ বল আগেই।) ম্যাচের সেরা : গিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More