রবিবার, জুলাই ২১

ফের মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় রক্তাক্ত বাইক আরোহী, মা উড়ালপুল যেন আতঙ্কের ফাঁদ!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের মাঞ্জা দেওয়া সুতোর মুখে দুর্ঘটনায় পড়লেন এক বাইকআরোহী। এবারও সেই মা উড়ালপুলেই! বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনার শিকার হন বেসরকারি বিমান সংস্থার নিরাপত্তা বিভাগের কর্মী শুভ্রজিৎ রায়চৌধুরী। নাক-ঠোঁট কেটে যায় তাঁর।

মা উড়ালপুলে, ধারালো চিনা মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় জড়িয়ে  আগেও রক্তাক্ত হয়েছেন অনেক মোটরবাইক চালক। সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ জানায়, উড়ালপুলের উপর আড়াআড়ি ভাবে যাতে ঘুড়ির সুতো ঝুলে থাকতে না পারে, সে জন্য সেতুর রেলিংয়ের উপরে জাল লাগানো হবে। কিন্তু এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগেই গত কাল রক্তাক্ত হলেন শুভ্রজিৎ।

তবে শুধু জাল লাগানোর পরিকল্পনাই নয়। নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল ধারালো চিনা মাঞ্জা বিক্রির উপরেও। এক বার নয়, বারবার। কিন্তু শুভ্রজিতের ঘটনা প্রমাণ করল, নিষেধাজ্ঞা জারি করাই সার। কার্য ক্ষেত্রে সে কথা শুনছেন না কেউই। তবে এই বারের ঘটনায় অবশ্য পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

হাওড়ার চুনাভাটি এলাকার বাসিন্দা শুভ্রজিৎ জানান, এ দিন তিনি বেলেঘাটায় দাদার বাড়ি যাচ্ছিলেন। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ মা উড়ালপুলের চার নম্বর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছে আচমকাই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর হেলমেটে কিছু একটা জড়িয়ে গিয়ে টান লাগছে। কোনও মতে ব্রেক কষে মোটরবাইক থামান শুভ্রজিৎ। দেখেন, হেলমেটে সুতো পেঁচিয়ে গিয়েছে এবং মুখ দিয়ে ঝরঝর করে রক্ত পড়ছে।

শুভ্রজিৎ বলেন, ‘‘কোনও মতে বাইকটা এক পাশে দাঁড় করিয়ে হেলমেটে জড়ানো সুতোটা খুলে ফেলি। কিন্তু নাক আর ঠোঁটে তখন তীব্র জ্বালা করছে। তত ক্ষণে জ্যাকেট-প্যান্ট রক্তে ভরে গিয়েছে। বুঝতে পারি, ঠোঁটের দু’পাশ আর নাকের অনেকটা কেটে গিয়েছে।’’ তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন অন্য গাড়ির চালকেরা। শুভ্রজিৎ জানান, রুমাল দিয়ে নাক ও ঠোঁট বেঁধে তিনি নিজেই ফের বাইক চালিয়ে বেলেঘাটায় রওনা দেন। ফুলবাগানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর নাক ও ঠোঁটে চারটি সেলাই হয়েছে।

গত কয়েক মাসে মা উড়ালপুলে চিনা মাঞ্জার মুখে পড়ে এভাবেই রক্তাক্ত হতে হয়েছে দু’-তিন জন মোটরবাইক আরোহীকে। শুভ্রজিৎও সেই খবর জানেন। কিন্তু এমনচা যে তাঁর সঙ্গেই এভাবে ঘটবে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিদিন এই উড়ালপুল দিয়েই যাতায়াত করি। এর পরে তো আতঙ্ক তাড়া করবে!’’

আতঙ্ক তাড়া করছে আরও অনেককেই। অনেকেই বলছেন, শুভজিৎ তবু শেষ মুহূর্তে বাইক সামাল দিতে পেরেছেন বলে বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এ রকম হতে থাকলে  সমস্ত বাইক আরোহীই আরও বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হতে পারেন। গলাও কেটে যেতে পারে মাঞ্জা দেওয়া সুতোর ধারে।

Comments are closed.