বৃহস্পতিবার, জুন ২০

সন্দেহের জেরে ভাইপোকে খুন, তিন বছর পরে ধৃত মাটির তলায় দেহ পুঁতে পলাতক কাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইপোকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দিয়ে সেই মাটিতে গাছ লাগানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে! পুলিশ জানিয়েছে, বছর তিনেক আগে দিল্লির এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে অভিযুক্ত কাকা। বছর ৩৭-এর ওই ব্যক্তির নাম বিজয়কুমার মহারানা।

পুলিশ জানিয়েছে, আদতে ওড়িশার গঞ্জামের বাসিন্দা, অভিযুক্ত বিজয়কুমার সন্দেহ করত, তার বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ভাইপো জয়প্রকাশের। স্রেফ সন্দেহের বশেই মাথায় আঘাত করে ভাইপোকে নৃশংস ভাবে খুন করে বিজয়।

সূত্রের খবর, ২০১২ সালে বান্ধবীর সঙ্গে দিল্লি এসে থাকতে শুরু করে বিজয়। বছর তিনেক পরে, ২০১৫ সালে তার ভাইপো জয়প্রকাশ কাজের জন্য হায়দরাবাদ থেকে দিল্লি আসেন। তখন থেকেই তিনি থাকতে শুরু করেন কাকা ও তাঁর বান্ধবীর সঙ্গেই। নয়ডায় একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি করত বিজয়। গুরুগ্রামে অফিস ছিল জয়প্রকাশের।

কিছু দিনের মধ্যেই বিজয় অভিযোগ করতে শুরু করে, তার বান্ধবী ও জয়প্রকাশের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই সন্দেহের বশেই খুনের পরিকল্পনা করে সে। ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, গভীর রাতে ঘুমন্ত জয়প্রকাশের মাথায় সিলিং ফ্যানের খুলে রাখা মোটর দিয়ে আঘাত করে বিজয়। এর পরেই পূর্ব পরিকল্পনা মতো বারান্দায় নিয়ে গিয়ে জয়প্রকাশের দেহ পুঁতে দেয় সে। সন্গদেহ এড়াতে একটি গাছের চারাও লাগিয়ে দেয় তার উপর।

এক সপ্তাহ পরে নিজেই থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করে বিজয়। জানায়, জয়প্রকাশ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গিয়ে আর ফেরেননি। এর পরে ওই ফ্ল্যাটে আরও মাস দুয়েক থাকার পরে অন্য ফ্ল্যাটে চলে যায় বিজয়। পরের বছর চলে যায় হায়দরাবাদে।

তদন্তকারীরা অবশ্য হাল ছাড়েননি। ‘নিখোঁজ’ জয়প্রকাশের সন্ধান চলছিলই। শেষমেশ গত বছর অক্টোবরে ফ্ল্যাট সংস্কারের সময়ে জয়প্রকাশের দেহাংশ উদ্ধার হয় ওই বারান্দা থেকে। দু’য়ে-দু’য়ে চার করে পুলিশ। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিজয়ের ফোন নম্বর জোগাড় করা হয়। কিন্তু তত দিনে সব বদলে দিয়েছে বিজয়। সব টাকা তুলে নিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দিয়েছে। তার কোনও আত্মীয় বা বন্ধুরও খোঁজ মেলেনি।

বেশ কয়েক মাস ধরে প্রযুক্তির সাহায্যে অনুসন্ধান চালিয়ে শেষমেশ খোঁজ মেলে বিজয়ের। হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করে আনা হয় তাকে।

Comments are closed.