কেয়ার কলম: অন্দর-বাসে থেকেও নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা কোনও অন্যায় নয় কিন্তু

আপনার ইচ্ছে না হলে কিচ্ছু করবেন না, কিন্তু ইচ্ছে হলে অবশ্যই সাজগোজ করবেন, রূপচর্চা করবেন। আর ইচ্ছে হোক বা না হোক, পরিচ্ছন্ন থাকবেন অবশ্যই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    কেয়া শেঠ

    একটা গল্প আছে। সকলেই জানেন। এই সময়ে আর এক বার মনে করানো। দুনিয়াজুড়ে ধুলোবালির দৌরাত্ম্যে নোংরা হয়ে যাচ্ছে রাজা হবুচন্দ্রের পা। তিনি বেজায় রেগে গেছেন। নিদান দিয়েছেন, কোনওখানে এতটুকু ধুলো থাকা চলবে না। রাজামশাইয়ের আদেশ বলে কথা! সমস্ত প্রজারা লেগে গেছেন ধুলো সাফ করতে। কেউ ঝাড়ু দিচ্ছেন, তো কেউ বালতি বালতি জল ঢালছেন। কিছুতেই আর ধুলোমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয় না! রাজামশাইয়েরও মেজাজ সপ্তমে।

    এমন সময় উপায় বাতলে দিলেন মন্ত্রী গোবুচন্দ্র। বললেন, ধুলো থেকে বাঁচতে হলে তো নিজের পা দুটো ঢাকলেই হয়! পা ঢাকলেই তো আর একটুও ধুলো লাগবে না সেখানে, চার পাশে যতই ধুলো থাক না কেন! এমনি করেই গোবুচন্দ্রের বুদ্ধিতে হয়েছিল ‘জুতা আবিষ্কার’। রবিঠাকুরের কবিতাও রয়েছে খুব মনোগ্রাহী।

    আমার মাঝে মাঝে এই গল্পটার কথা মনে পড়ে যায়। চারপাশের সবকিছু সবসময় অনুকূল থাকবে না। কিন্তু নিজের সুবিধাটুকু নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। নিজের সৌন্দর্যচেতনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পরিবেশ যাই হোক না কেন, নিজেকে সুন্দর করে রাখতে চাইলে তা আপনাকেই করতে হবে।

    ইদানীং বহু মানুষকেই বলতে শুনি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোখার জন্য লকডাউন করা হয়েছে, সে লকডাউন পিরিয়ড উদ্বেগের, আতঙ্কের। সেখানে ‘রূপচর্চা’ নাকি মানায় না। আমার বিনীত প্রশ্ন, আচ্ছা, লকডাউনের পরেই যে মেয়েটিকে তার কাজের জায়গায় ফিরতে হবে এবং হাই প্রোফাইল মিটিং অ্যাটেন্ড করতে হবে যথেষ্ট ঝকঝকে অ্যাপিয়ারেন্স নিয়ে, সে এই ক’দিন নিজের যত্ন নেবে না? অথবা যিনি নানা কারণে হতাশায় ভোগেন, এই ঘরবন্দি জীবনের উদ্বেগে আরওই অবসন্ন, তাঁর কাছে যে নিজেকে সাজিয়ে রাখাটাও একটা থেরাপি– এটা কত জন জানেন? সবচেয়ে বড় কথা, যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজেকে ভাল রাখা কি অন্যায়? না, নয়। তবে সে উপায় নিজেকেই বার করে নিতে হয়।

    তাই কোনও চিন্তা না করেই ভাল থাকুন, চর্চায় থাকুন। আপনার ইচ্ছে না হলে কিচ্ছু করবেন না, কিন্তু ইচ্ছে হলে অবশ্যই সাজগোজ করবেন। আর ইচ্ছে হোক বা না হোক, পরিচ্ছন্ন থাকবেন অবশ্যই।

    এই পরিচ্ছন্নতার প্রসঙ্গে বলা যায়, অবাঞ্ছিত লোম আমাদের শরীরের নানা জায়গায় অস্বস্তির কারণ হয়। অতিরিক্ত লোমের কারণে আমাদের নিয়মিত পার্লারে গিয়ে ওয়্যাক্সিং করতে হয় অনেককেই। সেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না, কিন্তু এরও ঘরোয়া এবং সহজ উপায় আছে।

    ২০০ গ্রাম চিনি, একটা লেবু, দু’চামচ গ্লিসারিন একসঙ্গে ফোটাতে হবে। নাড়তে হবে সমানে। এটা ততটাই ঘন হবে, যতটা ঘন হলে হাতের দু’আঙুলে এটা নিয়ে আঙুল দুটো ছাড়ালে সুতোর মতো চিটচিটে হয়ে লেগে থাকবে। এটা বানিয়ে রেখে দেওয়া যাবে ঠান্ডা করে। সময় মতো হাল্কা গরম করে, ওয়্যাক্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মাখন কাটার ছুরি দিয়ে হাতে-পায়ে লাগিয়ে, পরিচ্ছন্ন কোনও মোটা কাপড়, জিন্সের টুকরো ব্যবহার করে ওয়্যাক্স করা যাবে। ওয়্যাক্সটা লাগাতে হবে লোমের গ্রোথের দিকে, আর কাপড় দিয়ে তুলতে হবে উল্টোদিকে।

    এটা মুখের লোমের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে আমি বলব অভ্যাস না থাকলে বা দক্ষতা না থাকলে এটা না করাই ভাল। কারণ মুখের চামড়া অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়, একটু এদিক-ওদিক হলে সমস্যা হতে পারে। তাই এভাবে মুখের ওয়্যাক্স করার অভ্যাস না থাকলে না করাই ভাল। পিউবিক এরিয়ার জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। খুব দক্ষ হাত না হলে ঘরে সংবেদনীল জায়গায় লোম তোলার চেষ্টা না করলেই ভাল।

    সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা ঘিরে থাক আপনাকে। এই খারাপ সময়ে এটাও একরকম থেরাপি বই কী!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More