কেয়ার কলম: অন্দর-বাসে একটু ঘরোয়া যত্নেই পেতে পারেন রাজকন্যার মতো মেঘবরণ চকচকে চুল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    কেয়া শেঠ

    আজ ১১ দিন হয়ে গেল, ঘরেই আছেন আপনি খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া। বাসেট্রামে চড়ছেন না, বড় রাস্তায় যাচ্ছেন না। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আপনার চুলের স্বাস্থ্য বেশ ভাল রয়েছে এখন। কারণ দূষণে খুব রুক্ষ হয়ে যায় আমাদের চুল। সেটা আর হচ্ছে না এখন।

    কিন্তু তা না হলেও, অন্য নানা সমস্যা হতে পারে চুলের। অনেকের হয়তো সাদা চুলগুলো বেরিয়ে গেছে গোড়া থেকে। কারও হয়তো অনেক দিন স্পা না করার কারণে জেল্লা কমে গেছে চুলের। কিন্তু ঘরে থেকেও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বরং আমি বলব, এখনকার অবসরে নিয়ম করে চুলের জন্য খানিকটা সময় দিলে তা খুবই ভাল হবে। তার উপর গরম পড়েছে, ঘামও হচ্ছে চুলের গোড়ায়। ফলে নিয়মিত না বেরোলেও চুল পরিষ্কার করতেই হবে।

    ভাতের যে ফ্যানটা ফেলে দিই আমরা, তাতে একটু লেবু মিশিয়ে মাখলে সেটা প্রাকৃতিক ভাবে কন্ডিশনিং করে চুলটা। এটা নিয়মিত করা গেলে এমনিই জেল্লা থাকবে চুলের। চুলটা নরমও হবে। কিন্তু আরও একটু যত্ন যদি করতে চান, তাহলে মেথি কিন্তু দারুণ উপাদান।

    আগের রাতে মেথিটা জলে ভিজিয়ে রেখে, সেটা যদি পরের দিন পেস্ট করে মাথায় লাগাতে পারেন, হাতেনাতে হেয়ার স্পায়ের মতো ফল পাবেন। ইনস্ট্যান্ট গ্লেজ চলে আসবে চুলে। সব রকম চুলেই এটা ব্যবহার করা যায়। আরও ভাল হবে, একটু দই আর মধুর সঙ্গে এই মেথি পেস্ট মিশিয়ে মাখতে পারলে। নিজের চুল নিজেই চিনতে পারবেন না। যে যত্নের সময় এতদিন পেতেন না, সে সময় এখন আপনার হাতের মুটোয়।

    তবে ঘরে থেকে চুল সাদা সাদা দেখাচ্ছে বলে মনমরা হবেন না। ঘরে পড়ে থাকা পুরনো আমলকি জ্বাল দিন উনুনে। ক্কাথটা ছেঁকে নিয়ে যে জলটা থাকবে, তা চুলে লাগিয়ে, শুকিয়ে শ্যাম্পু করুন। দেখবেন, অনেকটাই ঢেকেছে সাদা-ভাব। আর মেহেন্দি পাতা বা হেনা ঘরে থাকলে তো কথাই নেই। চায়ের লিকারের সঙ্গে হেনা মিশিয়ে চুলে প্যাক লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে ফেলে ধুয়ে নিতে পারলে সাদা চুলগুলোয় লালচে ভাব চলে আসবে। ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ন্যাচারাল হেয়ার কালার হয়ে যাবে। তবে হেনা করলে তার পরে চুলটা ভাল করে কন্ডিশনিং করা জরুরি। নইলে রুক্ষ ভাব আসতে পারে ড্রাই হেয়ারের ক্ষেত্রে।

    বাড়িতে ঘনঘন চা হচ্ছে এখন। ছাঁকার পরে পাতাটা ফেলবেন না। আলাদা করে আরও একটু ফুটিয়ে নিন। সেই দ্বিতীয় বার ফোটানো চায়ের জলটা স্নানের পরে মাথায় মাখাই যায়।

    অনেককেই অনভ্যাসে বেশি কাজ করতে হচ্ছে, কারও আবার উদ্বেগের সমস্যা বেশি। তাঁদের মাথা ধরে থাকে প্রায়ই। ভার হয়ে থাকে, বা ঝিমঝিম করে। মোটা দাঁড়ার কাঠের চিরুনি দিয়ে দিনে বেশ কয়েক বার অন্তত ২৫-৩০ বার চুল আঁচড়ান ভাল করে। মাথা ধরে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। রক্ত সঞ্চালন ভাল হওয়ায় চুলের গুণও ভাল হবে। এটা রোজই করতে পারলে ভাল, কিন্তু সাধারণ দিনে আমরা এত চুল আঁচড়ানোর সময় কোথায় পাই! এখন সময় পাওয়া গেছে, সেটা কাজে লাগানো হোক।

    আবারও বলছি, অন্দর-বাসে শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্য নিজেকে প্যাম্পার করা, সুন্দর করা খুব জরুরি। ঘরে আছি বলেই যে যেমন-তেমন করে থাকলাম, তা না হওয়াই ভাল। নিজেকে সুন্দর রাখাটা ইতিবাচক থাকারই একটা অংশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More