মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

‘কেটো ডায়েট’ করাই যায়: কিন্তু করব তো?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল আমাদের প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই সমস্যা কী করে ওজন কমাব! কী উপায়ে নিজেকে রোগা দেখাব? কখনও গাঢ় রঙের পোশাক, তো কখনও আবার খাওয়-দাওয়ায় কাঁচি চালানো।  এই নিয়েই জেরবার রোজকার দশটা-পাঁচটা।  আর এই ডায়েটের ক্ষেত্রে কেউ ফলো করছেন জিএম ডায়েট, আবার কেউ বা ‘কেটো ডায়েট’।  এই কেটো ডায়েটের কিছু সমস্যা, আবার কিছু ভালো দিকও আছে।

কেন আপনার এই ডায়েটের উপর ভরসা করা উচিত আর কেন নয়, জানুন—
‘কেটো ডায়েট’-এর ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট প্রতিদিন ৫০ গ্রাম পর্যন্ত আপনি নিতে পারেন।  তার বেশি নয়।  বাকিটা আপনাকে প্রোটিন এবং ফ্যাটের উপর নির্ভরশীল হতে হবে।  আর এই ‘কেটো ডায়েট’ আপনার ব্লাডসুগার লেভেলও রাখে ঠিকঠাক, তাই ফ্যাট জমে না শরীরে।
তবে মনে রাখবেন, আমরা যে জলবায়ুতে বাস করি, তাতে ভাত ডাল সবজির মতো যে সব খাবার তা লঙ রান প্রসেসে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য ভাল কাজ করে।  কারণ আপনার শরীর এ ভাবেই ছোট থেকে অভ্যস্ত।  তবে এভাবে আপনি যদি ওজন কমাতে না পারেন, তবে ‘কেটো ডায়েট’-এর উপর নির্ভর করতেই পারেন।  যেমন ‘কেটো ডায়েট’-এ ইনসুলিন প্রতিরোধের বিষয়টা সংশোধিত হয়, তাতে হজম ভালো হয়, ফলে ইনসুলিন প্রতিরোধ হয়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ণ্ত্রণে থাকে, কোলেস্টেরল কমে এবং পেটের ফ্যাটকে টা টা বলতে পারেন।  ফলে অনেকগুলো জিনিসে একসাথে আপনার উপকার হয়।
‘কেটো ডায়েট’ থাইরয়েডের রোগীদেরও খুবই কাজে আসে।  এই ডায়েট যাদের শরীরের চর্বির শতকরা হার বেশি হয়, তাদের সেই ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে এবং শরীরের গঠনেও পরিবর্তন আনে।
যাঁদের বংশগতভাবে ওবেসিটি এবং ডায়াবেটিস আছে তাঁরা এই ডায়েট ফলো করতেই পারেন, কিন্তু যাঁদের হার্ট এবং কিডনির সমস্যা আছে তাঁরা এই ডায়েট ফলো না করলেই ভালো।  আর করলেও সেটা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করতে হবে বলে বলছেন Whole Foods India-র নিউট্রিশনিস্ট ইশি খোসলা।

এ তো গেল ‘কেটো ডায়েট’ কেন আপনি করতে পারেন তার ফিরিস্তি, কিন্তু কেন করা উচিত নয়, বা করলে কী কী সমস্যা হতে পারে, তা জানাচ্ছেন দিল্লির নিউট্রিশনিস্ট এবং ওয়েট ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট কবিতা দেবগণ।
তিনি বলছেন, ‘কেটো’ খুবই শক্ত বিষয়।  ‘কেটো ডায়েট’-এ ৬০-৭৫ শতাংশ ফ্যাট, ১৫-৩০ শতাংশ প্রোটিন, ৫-১০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকে নিয়ম অনুযায়ী।  কিন্তু অনেকেই সেটা ঠিক করে মেনে চলেন না।  যাঁরা বলেন ‘কেটো ডায়েট’ করছেন, অথচ তাঁদের সেটা শক্ত লাগছে না, তাহলে তাঁরা কিন্তু প্রপার ‘কেটো ডায়েট’ মেনে চলছেন না।
তাছাড়াও এই ডায়েটে যেহেতু অনেকটা ফ্যাট থাকে তা আসলে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো তা তো নয়।  আপনাকে এই ফ্যাট ঝরাতেও হবে।  এই ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা এতটাই কম থাকে যে তা দীর্ঘদিনের জন্য খুব একটা কাজের কথা নয়।  আর এই লো কার্ব ডায়েটে অনেকের প্রাণ সংশয় পর্যন্ত হতে পারে।  তাই সেটা মাথায় রেখে এই ডায়েট শুরু করুন।
তাছাড়াও এই ডায়েট খুবই ‘unbalanced diet’ , এতে কার্বোহাইড্রেট খুব কম থাকে, ফ্যাট বেশি থাকে, আর থাকে প্রোটিনও।  কিন্তু কোনও ফল থাকে না, কোনও ফাইবারও থাকে না সেভাবে।  তাই শরীরের যে সব পুষ্টিকর মিনারেল প্রয়োজন হয়, সেগুলোর ঘাটতি ঘটে।  আর দীর্ঘদিন এভাবে চললে শরীর তো খারাপ করবেই।
এই ডায়েটের পরিবর্তে আপনারা কী করতে পারেন, জেনে নিন সে কথাও।
প্রোটিন, কারবোহাইড্রেট, ফ্যাট সহ সবকিছুই রাখতে পারেন আপনার খাদ্য তালিকায়।  এতে আপনার শরীরের পুষ্টিতে যা যা দরকার, তা সবই পাবেন।  তবে পরিমাণে কম খান।  বারে বেশি খান।  সমস্যা কমানো যাবে অনেকটাই।  ওজনও থাকবে আয়ত্তে।  চেষ্টা করুন পুষ্টিকর খাবার খেতে, ভাজাভুজি, তেল মশলা জাতীয় খাবার খাবেন না।  তাতে সমস্যা বাড়ে, বরং ঘরের তৈরি খাবার খান।  তেল মশলা কম থাকবে এতে, আপনার শরীরের ফ্যাটও কমবে।  প্রতি সপ্তাহে নিজের একটা দুটো খারাপ অভ্যাস নিজেই খুঁজে দেখুন, আর সেগুলো বাদ দিতে দিতে এগোন।  যেমন মাঝরাতে  চকোলেট খাওয়া, যে কোনও সময়ের খিদে মেটাতে জাঙ্ক ফুডের উপর ঝুঁকে পড়া, আইসক্রিম, কোল্ডড্রিঙ্ক খাওয়া ইত্যাদি।  তাতে আপনারই লাভ।  শরীর সুস্থ থাকবে।

অতএব ‘কেটো ডায়েট’ করে যাঁরা ভাবছেন সহজেই একেবারে মেদহীন চেহারা পাবেন, তাঁরা  এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে নিজেকে প্রস্তুত করুন।  সবসময়ে মনে রাখতে হবে, শুধু রোগা হওয়া নয়, সুস্থ থাকাটাই জীবনের লক্ষ্য।

Comments are closed.