ডিয়ার জেন ওয়াই, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকো! বলছেন খোদ জনপ্রিয় অভিনেত্রী!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালে ওঠা থেকে রাতে ঘুমোনো স্মার্টফোন ছাড়া যেন অচল সময়। এই নিয়েই এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা কাইফ। মন খারাপের অসুখ বা ‘ডিপ্রেশন’ নিয়ে কথা প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে তুললেন প্রশ্ন। বললেন, ইঁদুর দৌড়ে ছুটতে ছুটতে প্রায় সকলেই মাঝেমাঝে হাঁপিয়ে যাচ্ছে আর কথায় কথায় ডিপ্রেশনের মুঠো মুঠো ওষুধ খাচ্ছে। এর কারণ নিয়ে তর্ক করাই বৃথা।

    ক্যাটরিনা বলছেন, ইয়ং জেনারেশন এখন বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দূরে থাকছে বাস্তব দুনিয়া থেকে। তাদের কোনও বাস্তবজ্ঞান নেই। তাদের সমস্ত আবেগ ওই ফোনের স্ক্রিনেই কাজ করে। বাস্তবে যে আনন্দ, দুঃখ, যন্ত্রণা তার সেই বোধ তারা আদৌ কতটা ফিল করে তা নিয়েই নায়িকা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

    তাঁর মতে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই মানুষ বাস্তবের সম্পর্কগুলো থেকে দূরে চলে যাচ্ছে এবং ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে। তাই ডিপ্রেশন নিয়ে তর্কে তিনি যেতেই চান না।  অভিনেত্রী বিশ্বাস করেন “ইয়ং স্টাররা সোশ্যাল মিডিয়ার পিছনে এত বেশি দৌড়চ্ছে, যে তারা মানসিক রোগীতে পরিণত হচ্ছে, শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে, জীবন জটিল থেকে আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।”

    এই বিষয়ে ক্যাট রীতিমতো আতঙ্কিত। তিনি বলছেন, “আমার বাচ্চাদের আমি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখব। যত দিন সম্ভব চেষ্টা করব, ওদের প্র্যাকটিক্যাল নলেজ দিতে, ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটিতে ব্যস্ত রাখতে। তাতে ওরা অনেক বেশি সুস্থ থাকবে।” ক্যাটরিনা আরও মনে করেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না আজকালকার ছেলেমেয়েরা। মন আর মাথাকে ব্যালেন্সই করতে পারে না এরা। কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, সেটা তো বুঝতে হবে। কিন্তু এত বেশি সোশ্যাল সাইটে ব্যস্ত থাকলে কোনও ভাবেই সেই বিচার করা সম্ভব নয়।

    এ বিষয়েই ক্যাট একটা উদাহরণ দিয়েছেন। “আজকাল ব্রেকআপ হলেই লোকজন ভেবে নেয় সব শেষ হয়ে গেল, বেঁচে থেকে কী হবে? কিন্তু এ ভাবে কি জীবন শেষ হয়ে যায়? আর এই সামান্য কারণে মানুষ মরতেই বা চাইছে কেন? বরং ঠান্ডা মাথায় ভাবলেই তো হয়। এই সময় মন আর মাথা পুরো আলাদা ভাবনাচিন্তা করে। দু’টোকে একসঙ্গে ব্যালেন্স তো করতেই হবে। মরে যাওয়ার কথা আসে অস্থিরতা থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই এত অস্থিরতা। তাই বাস্তবের মাটিতে থেকে বুঝতে হবে, তোমার মন কী চাইছে।”– বলেন ক্যাটরিনা কাইফ।

    আরও বলেন তিনি– “এক এক সময়ে আমরা বাস্তব থেকে এতটাই দূরে যেতে থাকি, যে আসল বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকি। আমরা বাস্তবটাকে মেনে নিতে কষ্ট পাই, এমনকী আমি নিজেও এ রকম সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি। সে সময়ে আসল যেটা জরুরি, তা বুঝতে পারলেও মেনে নিতে পারিনি। আসলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে, আবেগের ভাবনাকেই সত্যি বলে মনে হয়। জীবনে সব তালগোল পাকিয়ে যায়। কিন্তু পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়, বাস্তবটা আসলে কী। আর সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করতেই হয় শান্ত হয়ে।”

    সাত থেকে আট বছর আগে এত ভাবতে হতো না সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে। কিন্তু আজকাল যে তাঁর জীবনেও এর প্রভাবে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে, মেনে নিচ্ছেন নায়িকা। বলছেন, কিছু দিন আগেই একটি বিয়েবাড়ি থেকে ফিরে ভেবেছিলেন, বাড়ির কাছে লাঞ্চ সারতে যাবেন তিনি। কিন্তু তার পরেই তাঁর মাথায় আসে, তিনি তো এমনি যেতেই পারবেন না। কারণ তিনি সেলেব! তাই মেকআপ বা ঠিকঠাক হেয়ারস্টাইল ছাড়া তিনি বাইরে গেলে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় সাধারণ লুকে তিনি ধরা পড়ে যাবেন! তার পরে সেই ছবি যাবে সোশ্যাল মিডিয়ায়, থাকবে ট্রোলড হওয়ার ভয়! এই ঘটনা বলতে বলতেই তিনি বোঝালেন, সোশ্যাল মিডিয়া আজকাল কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে রোজকার জীবনে।

    নিজের জীবনের এতগুলো ঘটনা বলে অভিনেত্রী শেষে জানান, তিনি একেবারে মুখ ফিরিয়ে থাকতে বলছেন না সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ে বরং ফিজিক্যাল অ্যক্টিভিটি, সোশ্যাল ওয়ার্ক অথবা পড়ালেখা করে কাটাক জেন ওয়াই। তাতে আখেরে লাভ তাদেরই। অস্থিরতা কাটবে, শান্ত মনে ভাবনার গভীরতা বাড়বে এবং জীবন অনেক সহজ হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More