সোমবার, নভেম্বর ১৮

কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়, কথা বলব মোদীর সঙ্গে, বললেন জার্মান চ্যান্সেলর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীর নিয়ে কিছুদিন আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল আমেরিকা। এবার তার সঙ্গে সুর মেলাল জার্মানিও। শুক্রবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যা ঞ্জেলা মার্কেল ভারত সফরে এসেছেন। দিল্লিতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন অ্যা ঞ্জেলা মার্কেল। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনায় কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুনতে চান, কাশ্মীরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে আমেরিকা বলেছিল, কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতি ক্রমে স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এখনও। কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিকের জন্য ভারতের কাছ থেকে একটি ‘রোডম্যাপ’-ও চেয়েছিল তারা।

আমেরিকা বলেছিল,  রাজ্যজুড়ে একাধিক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে শুধু ভারতকে নয়, পাকিস্তানকেও বার্তা দিয়েছে আমেরিকা। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ‘স্থায়ী ও আপস না করার মতো’ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে।

কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিকের মধ্যে বেশিরভাগ নেতাকেই বন্দি করা হয়েছে।

অগস্ট মাসের ৫ তারিখে উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে গোটা রাজ্যকে দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী হিংসা আটকানোর জন্য উপত্যকার দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি-সহ রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দিও করা হয়। বিচ্ছিন্ন করা হয় টেলিযোগাযোগ। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় পর্যটকদের উপর।

এই অবস্থার পরে প্রায় তিন মাস হতে চলেছে। নিষেধাজ্ঞা উঠেছে পর্যটকদের উপর থেকে। আংশিক চালু হয়েছে টেলিযোগাযোগ। তবে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হোক জম্মু ও কাশ্মীরে, এমনটাই মনে করছে আমেরিকা। সহকারী মার্কিন সচিব অ্যালিস জি ওয়েলস বলেছেন, “উপত্যকার নিত্য-পরিষেবাগুলি পুরোপুরি চালু করার জন্য, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির জন্য সরকারকে রোজই চাপ দিচ্ছি আমরা। তবে এ বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধারের জন্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা।”

আমেরিকার দাবি, উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পও উদ্বিগ্ন। কারণ সেখানে রাজনৈতিক নেতাদের বিনা অভিযোগে আটক রাখা এবং যোগাযোগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ বাসিন্দার দৈনন্দিন জীবন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অ্যালিস জি ওয়েলস আরও বলেন, “তবে আমরা পরিস্থিতির অগ্রগতি দেখেছি। পোস্টপেড মোবাইল পরিষেবা চালু করা হয়েছে। তবে এখনও সেখানে এসএমএস এবং ইন্টারনেট নিষিদ্ধ রয়েছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবারই বলেছেন, কাশ্মীরের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে সব পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান কথা বলুক, এমনটাই চায় আমেরিকা।

Comments are closed.